পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া নয়ন বন্ডরা একদিনে তৈরি হয়নি

প্রকাশিত: ২:১৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০১৯

পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া নয়ন বন্ডরা একদিনে তৈরি হয়নি

বরগুনা শহরের সড়কে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা মামলার অগ্রগতি জানার পর বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক হতে বলেছে হাইকোর্ট। অপরাধীদের ধরার ক্ষেত্রে আইনি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলেছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিফাত হত্যা মামলার অগ্রগতি তুলে ধরেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাসার। আদালতে তিনি জানান, এ মামলার কোনো আসামি দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে পারেনি। এরই মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত ১২ জন এবং সন্দেহভাজন পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড নিহত এবং অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও আদাতলকে জানান তিনি। গত ২৬ মার্চ বরগুনা শহরে প্রকাশ্যে সড়কে স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় যুবক রিফাতকে। ওই ঘটনার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। রিফাতের স্ত্রীর বর্ণনায় নাম আসা প্রধান তিন হামলাকারীকে কয়েক দিনেও গ্রেফতার করতে না পারার সমালোচনা চলছিল। এর মধ্যেই সোমবার সকালে পুলিশ প্রধান আসামি নয়নের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার খবর দেয়।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামলার অগ্রগতি জানানোর পর বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক কামরুল কাদের বলেন, ‘আমরা (বিচার বিভাগ) কখনই নির্বাহী বিভাগের যেসব দায়িত্ব পালন করার কথা সেসব বিষয়ে হস্তপে করতে চাই না। এটা তাদের দায়িত্ব, তাদের রুটিন ওয়ার্ক। যদি সেখানে কোনো ব্যত্যয় ঘটে তখনই শুধুমাত্র বিচার বিভাগ নির্দেশনা বা হস্তপে করে থাকে। তবে আমরা এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং পছন্দ করি না। হয়তো প্রয়োজনের খাতিরে অনেক সময় জীবন বাঁচানোর তাগিদে আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী করে থাকে। তবে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে। আইন যে সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে সেটা যেন নিশ্চিত হয়।
বিচারক আরও বলেন, ‘একদিনে এই নয়ন বন্ডরা তৈরি হয় না। কেউ না কেউ তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। কেউ না কেউ লালন-পালন করে ক্রিমিনাল বানায়।’ পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বাসার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসন ও সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপ অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। উনারা একটি প্রতিবেদন মহামান্য হাইকোর্টে দাখিল করেছেন। আমরা মহামান্য আদালতের কাছে সে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছি। এ বিষয়ে সার্বিক অগ্রগতি অবহিত করেছি।
এ মামলায় ১২ জন এজাহারনামীয় আসামি আছেন। তার মধ্যে পাঁচজন গ্রেফতার হয়েছেন। নয়ন বন্ড নামে একজন আসামি ঘটনাস্থলে গুলিতে মারা যান। এ পর্যায়ে আদালত নয়ন বন্ড কিভাবে মারা গেল তা জানতে চায় বলে জানান তিনি।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট