বাংলাদেশে বাড়ার দিনে ভারতে কমলো গ্যাসের দাম

প্রকাশিত: ২:০২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২, ২০১৯

বাংলাদেশে বাড়ার দিনে ভারতে কমলো গ্যাসের দাম

ভারতে ভর্তুকিহীন রান্নার গ্যাসের দাম ১০০ রুপি ৫০ পয়সা কমেছে। রবিবার ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল রান্নার এলপি গ্যাসের দাম কমানোর ঘোষণা দেয়। সোমবার (০১ জুলাই) থেকে গ্যাসের দাম কমানোর এই সিদ্ধান্তে দেশটির কোটি কোটি ভোক্তার মন জয় করে নিয়েছে ভারত সরকার।

জানা গেছে, ভারতে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারে ১৪ দশমিক ২ কেজি এলপি গ্যাস থাকে। ১ জুলাই থেকে ১০০ রুপি ৫০ পয়সা দাম কমায় সিলিন্ডার প্রতি ভর্তুকিহীন রান্নার গ্যাসের দাম হবে ৬৬২ রুপি ৷ এখন ভর্তুকিযুক্ত গ্যাসের দাম সিলিন্ডার প্রতি ৪৯৪ রুপি ৩৫ পয়সা৷

১৯ কেজি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১৮৭ রুপি ৫০ পয়সা কমিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা। এর ফলে নতুন দাম হয়েছে ১ হাজার ১৮৮ রুপি ৫০ পয়সা।

ভারতে গ্যাসের মূল্য কমানোর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপি গ্যাসের দাম কমা এবং ডলারের সঙ্গে রুপির মূল্য সমন্বয়ের কারণে দাম কমানো হয়েছে।

গত মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো ভর্তুকিহীন রান্নার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছিলো সিলিন্ডার প্রতি ২৫ রুপি। ফলে কলকাতায় ভর্তুকিবিহীন রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছিলো ৭৬৩ রুপি ৫০ পয়সা৷ দেশটির বিশেষজ্ঞরা তখন দাবি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বেড়ে গিয়েছে রান্নার গ্যাসের দাম।

এদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারতে গ্যাসের দাম কমলেও বাংলাদেশে গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিকবাজার থেকে এলএনজি আমদানির খরচ বেশি হওয়ার কারণে দাম বাড়ানো হয়েছে।

বাণিজ্যিক গ্রাহক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গ্রাহক বাদে বাকি সব ধরনের গ্রাহক পর্যায়ের গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। সোমবার (১ জুলাই) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

রবিবার (৩০ জুন) বিকাল ৪টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এ সময় কমিশনের চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলামসহ অন্যান্য কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।

বিইআরসি সচিব রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আবাসিক খাতে দুই চুলার খরচ ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৭৫ টাকা এবং এক চুলার খরচ ৭৫০ টাকা থেকে ৯২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যারা গৃহস্থালি পর্যায়ে প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন তাদের প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের মূল্য ৯ টাকা ১০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা ৬০ পয়সা করা হয়েছে।

পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে সিএনজিচালিত যানবাহনের গ্যাসের দামও। ৩৮ টাকা থেকে ৫ টাকা বাড়িয়ে ৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে সিএনজির দাম।

অপরদিকে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাস প্রতি ঘনমিটার ৪ টাকা ৪৫ পয়সা, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১৩ টাকা ৮৫ পয়সা, সার কারখানায় ৪ টাকা ৪৫ পয়সা এবং শিল্প কারখানা ও চা বাগানে ১০ টাকা ৭০ পয়সা করা হয়েছে।

কমিশন জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ধারা ২২(খ) এবং ৩৪ অনুযায়ী এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। শুনানিপূর্বক বিস্তারিতভাবে আলোচনা করে এই মূল্য বাড়ানো হয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাবের বিষয়ে আগ্রহী পক্ষদের শুনানিপূর্বক বিস্তারিতভাবে আলোচনা করে এই মূল্য বাড়ানো হয়েছে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ও সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের আওতাধীন সব ভোক্তা পর্যায়ে নতুন এ প্রজ্ঞাপন কার্যকর হবে।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিইআরসিতে বিতরণ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে গ্যাসের দাম গড়ে ১০২ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়। বাসাবাড়িতে এক চুলার বর্তমান দর ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪৪০ টাকা করার আবেদন করা হয়েছে।

  •