গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

প্রকাশিত: ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৯, ২০১৯

গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।

গত ৩দিনের টানা বৃষ্টিতে সারী ও পিয়াইন নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে গোয়াইনঘাট উপজেলার সর্বত্র তলিয়ে গেছে। শুক্রবার বিকেল থেকে উপজেলার সারিঘাট-গোয়াইনঘাট সড়ক তলিয়ে গিয়ে জেলা শহরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়া বন্যার কারণে দেশের বৃহত্তম বিছনাকান্দি ও জাফলং পাথর কোয়ারী দুটি বন্ধ থাকায় লক্ষাধিক শ্রমিকও বেকার হয়ে পড়েছেন।

তাছাড়া রোপা আউশ ও বোনা আমন ক্ষেত সম্পন্ন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির আশংকা রয়েছে। এতে কৃষকরা অজানা আতংকে রয়েছেন। অপরদিকে কয়েক শতাধিক মৎস খামার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে সারী-গোয়াইনঘাট সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠায় উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ঘরমুখো মানুষ কষ্ঠ করে পায়ে হেটে বাড়ীতে ফিরছেন। যাত্রীবাহী কোন যান বাহন চলাচল করতে পারেনি। মালবাহী দু’একটি বাহন ঝুঁকি নিয়ে পানির মধ্যে চলাচল করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষনিক খোঁজ নিচ্ছি। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্ততি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তিন দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে বৃষ্টি হচ্ছে বেশি। এতে উপজেলা সদরসহ পাড়ুয়া ও ভোলাগঞ্জ গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

বন্যার পানিতে বিভিন্ন গ্রামের ছোট-বড় রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। কোনো কোনো রাস্তায় হাঁটুপানি দেখা গেছে। তাছাড়া রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

ইছাকলস ইউনিয়নের কাজী জসিম উদ্দিন জানান, ইউনিয়নের বহু বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে। দুর্গাপুর, বিষ্ণপুর, শিবপুর, বাগজুর ও পুটামারা গ্রামের পাকা রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি আর বন্যায় থমকে গেছে জনজীবন।

ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন জানান, শিমুলতলা আশ্রয়ণ প্রকল্প, লম্বাকান্দি, মুরাদকান্দি, কাঁঠালবাড়ির দক্ষিণ পাড়া, ঢোলাখাল, বাহাদুরপুর ও নভাগী গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নতুন নির্মিত কয়েকটি মাটির রাস্তা ডুবে গেছে।

পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া জানান, উজান থেকে ঢল নামছে। একই সঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে। এর কারণে পানি বাড়ছে। ঢলের পানিতে শিমুলতলা নোয়াগাঁও, মুল্লুকপুর, শওকত নগর, নতুন জীবনপুর, নিগারেরপাড় ও পূর্ব ঢালারপাড় গ্রামের রাস্তাঘাট ডুবে গেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল হক জানান, কিছু এলাকার রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী বলেন, বৃষ্টি হচ্ছে, উজান থেকে ঢলও নামছে, যে কারণে পানি বাড়ছে। আমরা বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।

উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শামীম আহমদ জানান, উপজেলায় পানি বাড়ছে। নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়োজনে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হবে বলে জানান তিনি।