“মানবতার গ্রাম কুলাউড়ার বরমচাল নন্দনগর এবং ইসলামাবাদ “

সিলেট বিভাগ

হুমায়ুন কবির লিটন, কুলাউড়ার বরমচাল থেকে ফিরেঃ
একটি দুর্ঘটনায় হয়ত অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যায় কিন্তু তৈরী করে কিছু মানবিক লোক। যারা অন্যের বিপদে নিজেদের সব কিছু উজাড় করে দেন। তেমনি মানবিক ও মানবতার গ্রাম কুলাউড়ার বরমচাল, নন্দনগর এবং ইসলামাবাদ। মানুষ মানুষের জন্য জীবনের জন্য। দুর্ঘটনার আহত অচেনা প্রতিবেশীদের জন্য নিজেদের রাতের আরামের ঘুম নষ্ট করে সেবা করেছে এই এলাকার মানুষ। গভীর রাতে দুর্ঘটনার সংবাদ শুনেই কিশোর- যুবক নারী- পুরুষ সবাই নিজেদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। নিয়ে আসেন পানি এবং হালকা খাবারও।
নিজেদের এই মানবিকতা মিডিয়াতে প্রকাশ করতে ইচ্ছুক না হলে গ্রামবাসীর একজন কাউছার আহমদ জানালেন ঘটনার বিবরন। তিনি বলেন, আমি একটি সালিশ থেকে বাড়ি ফিরছিলাম হঠাৎ বিকট আওয়াজ শুনে বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করি। এরপর দেখতে পাই আমার বাড়ির সামনেই এত বড় দুর্ঘটনা। বাড়ির ঘুমন্ত সবাইকে ডেকে ঘুম থেকে তুলে আহতদের উদ্বারে নেমে পড়ি। এলাকার মসজিদে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় সবাই যেন উদ্বারে নেমে পড়েন। পুরুষরা আহতদের উদ্বার করে আনলেই শুরু হয় নারীদের সেবা। আমার বউ, বোন, ভাবি সবাই সারারাত আহতদের সেবায় নিয়জিত ছিলেন কেউ ঘুমাই নাই। এলাকার দোকানদাররা পানিসহ হালকা খাবার নিয়ে ছোটে আসেন। আমরাও চুলোয় যা ছিলো তা নিয়ে আহতদের সামনে হাজির হই। ক্লান্ত কাউছার এই কথা গুলো বলার সময় তার চোখের কোনে পানি টলটল করছিল। বললেন এত বড় দুর্ঘটনা জীবনে দেখি নাই। তাও আবার নিজের উঠোনে।
চন্দনখলা গ্রামের সংখ্যালঘু যুবক বিজয় দাস জানালেন উদ্ধার কাজে তার সম্পৃক্ততার কথা। তিনি বলেন, আমি দোকানেই বসা ছিলাম দুর্ঘটনার সংবাদ শুনে অন্যদের সাথে ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। এরপর আমরা কয়েকজন পানিতে নেমে পড়ি। মানুষের কান্নার রোল পড়ে যায়। অনেককেই পানি থেকে টেনে তুলি। কান্নাজড়িত কন্ঠে বলছিলেন অনেককে জীবিত উদ্ধার করতে না পারার ব্যর্থতা। বললেন ২জন নারীর মৃত্যু আমাকে অনেক ব্যথিত করছে। যাদের দেহ ট্রেনের বগির নিচে চাপা পড়ে ছিল। হয়ত বগি সরালেই এদের বাঁচানো যেত।
মানবিক এই লোকগুলোর পাশাপাশি উদ্ধার কাজে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ছিলেন সোচ্চার। তাদের এই মানবিকতা ভুলে যাওয়ার মত নয়। যারা উদ্ধার কাজে আহত হয়েছেন, নিজেদের সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছেন মানবতার তরে।

Leave a Reply