মানবতার অনুপম দৃষ্টান্ত হাজী আবদুস শহীদ ফাউন্ডেশন

প্রকাশিত: ১:৩৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০১৯

মানবতার অনুপম দৃষ্টান্ত হাজী আবদুস শহীদ ফাউন্ডেশন

আবুল মোহাম্মদ : মানবতার অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার আলমপুরের জনদরদী এক পরিবার। প্রয়াত পিতার আদর্শ ও স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে মানব কল্যাণে নিবেদিত ৭ সদস্যের একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তুলে সমাজের দরিদ্র অসহায় মানুষের কল্যাণে অতুলনীয় অবদান রেখে চলেছেন উক্ত পরিবারের মধ্যমনি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কুদ্দুস রুবেল। পিতার নামে সংগঠনটির নামকরণ করেছেন ‘হাজী আবদুস শহীদ ফাউন্ডেশন’।

নিখাদ, নিঃস্বার্থ ও সত্যিকারের মানব প্রেমের অনন্য এক কাব্য রচনা করলেন মরহুম হাজী আবদুস শহীদের পরিবার। যুক্তরাজ্যে শত কষ্টের জীবন যাপনের মাঝেও এক মূহুর্তের জন্যেও তারা ভুলে যাননি দেশের মানুষের কথা। দরিদ্র আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশী, গ্রামবাসী সহ যেখানেই অসহায়ত্বের  বেদনার ছাপ দেখেছেন, সেখানেই তারা বাড়িয়ে দিয়েছেন মমতার হাত। প্রবাসের যান্ত্রিক জীবনের মাঝেও হাজী আবদুস শহীদ ফাউন্ডেশনের সদস্যদের উদারতা ম্লান হয়ে যায়নি। প্রতি নিয়ত তারা তাদের নিজস্ব উপার্জনের একটি অংশ ফাউন্ডেশনের তহবিলে জমা করে নিজেদের ধন্য মনে করছেন।

এভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা এক সময় বড় হয়ে মানুষের চোখের জল মুছে দিচ্ছে, ঘুচিয়ে দিচ্ছে না পাওয়ার যাতনাকে। হতাশার কালিমাকে দূর করে আশার আলো জ্বালিয়ে দিচ্ছে মানুষের মনে। হাজী আব্দুস শহীদ ফাউন্ডেশনের মূল নীতি হচ্ছে কারো কাছ থেকে হাত পেতে নয়, নিজেদের পরিবারের সদস্যদের কষ্টার্জিত আয় থেকে যতটুকু সম্ভব মানুষের কল্যাণে সহায়তা করা। তাই তারা কখনও সরকারি বেসরকারি কোন অনুদান বা কারো কাছ থেকে কোন আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করনেনি।

 তাদের একমাত্র ইচ্ছা মহান আল্লাহ তা’য়ালার সন্তুষ্টি অর্জন ও সম্পূর্ণ নিজেদের ত্যাগ ও অর্জন থেকে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর চেষ্টা করে যাওয়া। আলমপুরের স্বনামধন্য একজন ব্যক্তির নাম আবদুস শহীদ। তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ১২নং কুচাই ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ছিলেন। সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগী এই ব্যক্তি আলমপুর জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্বও পালন করেন। তিনি জান আলী শাহ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভাপতি ছিলেন। তিনি জীবদ্দশায় বেশীরভাগ সময়ই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সাথে জড়িত ছিলেন।

২০০৮ সালের ১৯ এপ্রিল তিনি পরলোকগমন করেন। পিতার মৃত্যুর মাত্র কিছুদিন পর ২০০৮ সালের ১০ মে তাঁর দ্বিতীয় পুত্র মো. আবদুল কুদ্দুস রুবেল পরিবারিক সেবা মূলক সংগঠন হিসেবে পরিবারের ৭ জন সদস্যকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন হাজী আব্দুশ শহীদ ফাউন্ডেশন। যা পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদফতর থেকে নিবন্ধন লাভ করে (রেজি নং এস ১২৩৭০/১৬)। সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বে আছেন মরহুম হাজী আবদুস শহীদের সহধর্মিনী হাওয়ারুন্নেসা, সহ সভাপতির দায়িত্বে আছেন জামাতা এডভোকেট মুজিবুল হক, সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন দ্বিতীয় পুত্র আবদুল কুদ্দুস রুবেল।

সদস্য হিসেবে রয়েছেন বড় মেয়ে মাহমুদা খানম, ছোট মেয়ে সৈয়দা খানম, বড় ছেলে কামাল আহমদ এবং জামাতা মিজানুর রহমান নিজু।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কুদ্দুস রুবেল জানান ইতোমধ্যে তাদের পারিবারিক এই সংগঠনের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের শতাধিক ছেলে মেয়েদের বিয়েতে সহায়তা, দেড় শতাধিক দরিদ্র পরিবারকে ঘর নির্মাণে সহায়তা, চারশতাধিক মানুষকে ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি, স্কুল ড্রেস তথা শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। গোটাটিকর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং জান আলী শাহ আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতি বছর গরীব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের স্থায়ীভাবে অনুদান প্রদান করা হয়। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগও প্রদান করা হয়।

হারিয়ে যাওয়া একটি সুন্নতি চিকিৎসা হিজামা ক্যাম্পের মাধ্যমে শত শত গরীব রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা প্রদান করা হয়। সম্প্রতি আত্মকর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বেকার মহিলাদের সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়। যেসব মহিলারা সেলাই মেশিন পেয়ে নিজেদের স্বাবলম্ভী হিসেব গড়ে তুলতে চেষ্টা চালাবেন।

আবদুল কুদ্দুস রুবেল জানান, ২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যে জিও ফোন নামক একটি মোবাইল ফোনের দোকান প্রতিষ্ঠান করেন তিনি। পরবর্তীতে বিভিন্ন সিটিতে এই প্রতিষ্ঠানের শাখা সম্প্রসারিত হয়। তাঁর অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ড্রিমস্পাস, লাক্সারী কিচেন এন্ড বাথ, জেমস ডিজাইন এন্ড রিপেয়ার লি: ও স্টাইল শোজ। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর প্রায় ১০ মিলিয়ন পাউন্ডের লেনদেন হয়ে থাকে। রুবেল জানান, পারিবারিক সংগঠন হলেও সাংগঠনিক বিধি বিধান মেনেই তা পরিচালিত হয়। যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক একাউন্ট পরিচালিত হয়।

সদস্যদের প্রতি মাসের আয়ের একটি অংশ ব্যাংকে জমা রাখা হয়। যা পরবর্তীতে দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। ফাউন্ডেশনের নির্ধারিত ফরমে যে কোন প্রকার সহযোগিতার জন্য আবেদন করা যায়। হাজী আবদুস শহীদ ফাউন্ডেশনের কর্ণধার আবদুল কুদ্দুস রুবের বলেন, মানুষকে আমরা নিখাদ সেবা দিয়ে যেতে চাই। কোন কিছু পাওয়ার উদ্দেশ্যে নয়। মানুষকে কিছু দেওয়ার জন্য কাজ করি। মা ও মাটি ও মানুষের প্রতি মমত্ববোধ থেকে আমাদের এই প্রয়াস। এসব কাজকে এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করি।

রুবেলের স্বপ্ন একটি বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠার যেখানে অসহায় ছিন্নমূল বৃদ্ধ নারী পুরুষকে পুনর্বাসন করা হবে। তাদের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে গৃহহীন মানুষদের স্থায়ী গৃহ নির্মাণ করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। সর্বোপরি পারিবারিক এই মহত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। আমাদের সমাজের এই অনুকরণীয় দৃষ্টান্তকে কাজে লাগিয়ে মানুষের কল্যাণে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। এটাই হোক আজকের দিনের প্রত্যাশা।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট