একসঙ্গে থাকলেও মাকে বাঁচাতে পারলাম না

সিলেট বিভাগ

সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুর্ঘটনার সময় মায়ের সঙ্গেই ছিলেন ট্রেনযাত্রী রোকসানা পারভীন। কিন্তু নিজে বেঁচে গেলেও মাকে বাঁচাতে পারেননি তিনি। এমনকি সহযোগিতা না করায় ট্রেনের যাত্রীদের প্রতি ক্ষোভ ও রাগের কথাও জানিয়েছেন।

নিহত মনোয়ারা পারভীনের মেয়ে রোকসানা বলেন, ‘একসঙ্গে থাকলেও মাকে বাঁচাতে পারলাম না। ট্রেন দুর্ঘটনার পর মাকে উদ্ধার করতে ট্রেনের ভেতর থাকা অনেক যাত্রীর সাহায্য চাইলে কেউ এগিয়ে আসেনি।’ সবাই মোবাইলে সেলফি তুলতে ব্যস্ত থাকায় অনেকের প্রতি ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদিকে গতকাল রোববার রাতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।

নিহতরা হলেন-কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও কাদিপুর ইউনিয়নের গুপ্ত গ্রামের বাসিন্দা আবদুল বারীর স্ত্রী মনোয়ারা পারভীন (৫০)। অপরজন ফাহমিদা ইয়াসমিন ইভা (২০)। সে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার আব্দুল্লাপুর গ্রামের মো. আব্দুল বারীর মেয়ে এবং মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলার আকরাম মোল্লার মেয়ে সানজিদা আক্তার (২০) ও হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার নুর হোসেনের ছেলে কাওসার হোসেন (২৬)।

তবে আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের কুলাউড়া, মৌলভীবাজার ও সিলেটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কুলাউড়া উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক জানান, কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারটি মৃতদেহ ছিল। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬০ জন। তবে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারাত্মক আঘাত থাকায় ২০ জনকে মৌলভীবাজার ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ট্রেনটির আরেক যাত্রী জৈন্তাপুর ইমরান আহমদ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহেদ আহমদ জানান, বরমচাল স্টেশনসংলগ্ন একটি ব্রিজে ট্রেনটি ওঠার পর কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ সময় একটি বগি খালে পড়ে যায় এবং আরেক বগি উল্টে যায়। মানুষের আর্তনাদ শুনেছেন তিনি।

তবে দুর্ঘটনার কারণ জানতে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘ দিন ধরে ব্রিজে কাজ হয়নি। এ ছাড়া রেললাইনে পাথর, নাট-বল্টু অনেক জাগয়ায় নেই। এই দুর্ঘটনার জন্য রেলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে ট্রেন দুর্ঘটনায় সন্ধ্যার মধ্যে মেরামত কাজ শেষ করে সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক কাজী মো. রফিকুল আলম। এর আগে সকাল ১০টা থেকে ট্রেন দুর্ঘটনায় মেরামত কাজ শুরু হয়। এ সময় ট্রেনের পাঁচটি বগি তোলার জন্য দুটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একটি আখাউড়া ও অন্যটি কুলাউড়া থেকে।

এ ছাড়া দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দিয়ে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেল সচিব মোহাম্মদ মোফাজ্জেল হোসেন। দুটি তদন্ত কমিটির মধ্যে একটি চার সদস্য বিশিষ্ট, অন্যটি পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট।

তিনি জানান, আপাতত ঢাকার সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ বন্ধ থাকবে কুলাউড়া জংশন থেকে। তবে কুলাউড়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। কিন্তু সরাসরি সিলেটের সঙ্গে কোনো ট্রেন যোগাযোগ এখন সম্ভব হচ্ছে না।

Leave a Reply