নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করেও অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারলো না বাংলাদেশ

খেলার খবর

অস্ট্রেলিয়ার ছুঁড়ে দেওয়া ৩৮২ রানের বিশাল লক্ষ্য দেখে একটুও ভড়কে যাননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। বরং দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে ম্যাচটা বের করে আনার চেষ্টাই করছিলেন তারা। কিন্তু স্টার্ক-স্টোইনিসের বুদ্ধির কাছে একটু মার খেয়ে ম্যাচটা হারলো বাংলাদেশ। যে ম্যাচ হারের আগে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তুলেছিলো সাকিব-মুশফিকরা। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ৩৮১ রানের জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৩৩৩ রানে। ফলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কাছে হারে ৪৮ রানে।

এই বিশ্বকাপেই নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৩৩০ রান করেছিলো বাংলাদেশ। যা ছিলো নিজেদের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান। আজ সেটা ভেঙে দিয়েও হারতে হয়েছে মাশরাফিবাহিনীর।

ম্যাচে নায়কের কথা বলতে গেলে শুরুতেই আসবে ডেভিড ওয়ার্নারের নাম। এরপর যদি কোনো যোদ্ধা খুঁজতে চান তাহলে আপনাকে বেছে নিতে হবে মুশফিকুর রহিমকে। দলকে জেতাতে না পারলেও জেতানোর যে আকুতি তার মধ্যে কাজ করছিলো সেটা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে। দল হারলেও ১৪৬ মিনিট ক্রিজে থেকে ৯৭টি বল খেলে অপরাজিত ছিলেন ১০২ রানে।

রেকর্ড লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সৌম্য সরকারের (১০) বিদায়ের পরও মনে হচ্ছিল ম্যাচে বাংলাদেশ লড়াই করবে। কেননা সাকিব-তামিম জুটিতে প্রতিরোধের স্বপ্ন দেখছিলো টাইগাররা। কিন্তু সাকিব (৪১) ফেরার পর সে সম্ভবনা একটু কমে যায়। আর তামিম (৬২) বিদায় নেওয়ায় ম্যাচটা যেন ছেড়েই দিয়েছে টাইগাররা। কেননা তামিমের দেখানো পথে দ্রুতই হেঁটেছেন আগের ম্যাচের সুপারস্টার লিটন দাস (২০)।

নটিংহ্যামের ট্রেন্টব্রিজ মাঠটি ব্যাটিং পিচ হিসেবে বিশেষ খ্যাতি পাওয়া আছে আগেই। বাংলাদেশÑঅস্ট্রেলিয়া ম্যাচে সেটার দেখাও মিললো। ওয়ার্নার-ফিঞ্চের দারুণ ওপেনিং জুটিতে ভর করে বড় রানের ভিত পায় অস্ট্রেলিয়া। ফিঞ্চ ফেরার পর শুরু ওয়ার্নার-খাজা তাণ্ডব। এ জুটি ছিল আরও ভয়ঙ্কর। প্রায় ২৪ ওভার খেলে এদুজন যোগ করেন আরও ১৯২ রান।

১৬৬ রানে সৌম্যর বলেই ফেরেন ডেভিড ওয়ার্নার। শান্ত মেজাজের উসমান খাজাও যেন শান দেওয়া ব্যাট হাতে নেমেছিলেন। সাকিব-রুবেলদের কচুকাটা করে ৭২ বলে ৮৯ রান করে সৌম্যর তৃতীয় শিকারে ফেরেন।

বিপদ যেন তখনও অপেক্ষা করছিল। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ক্রিজে নেমে ১০টি বল খেলে নাভিশ্বাস তুলে দিলেন রুবেলের। ৫টি বল খেলেই তুলে নেন ২২ রান।

বল হাতে বাংলাদেশের সবাই যখন ব্যর্থ হচ্ছিলেন তখন আশার আলো জ্বালেন সৌম্য সরকার। পার্ট টাইমার হিসেবে বল হাতে তুলে নিয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন তিনি। আনেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু।

Leave a Reply