আ’লীগ যেখানে ব্যর্থ জিয়া সেখানে সফল

প্রকাশিত: ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, মে ৩০, ২০১৯

আ’লীগ যেখানে ব্যর্থ জিয়া সেখানে সফল

আওয়ামী লীগ যেখানে ব্যর্থ হয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেখানেই সফল হয়েছেন। আওয়ামী লীগ বাকশাল করে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি করেছিল আর জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রর্বতন করেছেন। এর ফলে আওয়ামী লীগও রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আলোচনা সভার বক্তারা। তারা আরো বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় জীবন বাজি রেখে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। দারিদ্র্যপীড়িত তলাবিহীন দেশকে গণতন্ত্র দিয়েছেন। তিনি এসি রুমে বসে না থেকে দেশকে স্বনির্ভর করতে গ্রাম-গঞ্জ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যন্ত ঘুরে বেরিয়েছেন। সেই বাংলাদেশ আজ গণতান্ত্রিক চরিত্র হারিয়ে ফেলেছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তরা এসব কথা বলেন। মহান স্বাধীনতার ঘোষক বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৩৮তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। : সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা থেকে জিয়াউর রহমানের জন্ম হয়েছে। যখন আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে, তখন জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র মতায় এসেছেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সততার প্রতীক। দেশে এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, জিয়াউর রহমান সাহেবের অবদান নেই। তাঁকে সবসময় আমাদের শুধু স্মরণ নয়, অনুকরণ করতে হবে। তাঁর কাজগুলো যদি আমরা এগিয়ে নিয়ে আসি, সেভাবে চলতে চাই, চলতে পারি, তবেই আমরা সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবো। আজ যে আওয়ামী লীগ কথা বলছে, তাদের নিজেদেরও কথা বলার অধিকার ছিল না। কারণ বাকশাল কায়েম করে তাদেরও রাজনীতি করার অধিকার ছিল না। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে তাদের কথা বলার, রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। তারা দেশের মানুষের সব গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে। : তিনি বলেন, আমি শুধু একটি কথা বলতে চাই, অনেকে হতাশার কথা বলেন। আমি কখনোই হতাশার কথা বলি না, বলতে চাই না, বিশ্বাস করি না। আমি মনে করি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যে আদর্শ, তাঁর যে দর্শন, তাঁর যে চিন্তা-চেতনা তা কখনোই ব্যর্থ হবার নয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে অবদান, তাঁর যে ত্যাগ স্বীকার তা কখনোই ব্যর্থ হবার নয়। বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে ভালোবাসে, জিয়াউর রহমানকে ভালোবাসে, দেশনেত্রীকে ভালোবাসে। অবশ্যই তারা উঠে দাঁড়াবে, বিএনপি উঠে দাঁড়াবে এবং বিএনপি অবশ্যই দেশনেত্রীকে মুক্ত করে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে। : বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে একটা অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। আজকে দেখুন চারদিকে তাকিয়ে সরকার বলে কোনো জিনিস আছে মনে হয় না, মনে হয় না কোনো শাসন ব্যবস্থা আছে। আছে শুধু দুঃশাসন, ক্রাইম-করাপশনে ভরে গেছে সারা বাংলাদেশ। চতুর্দিকে আজকে একটা দুঃশাসন চলছে। এই দুঃশাসন সৃষ্টি করে বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করা হচ্ছে। এই শাহাদাতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আমাদের এই শপথ গ্রহণ করতে হবে যে, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবো, আমরা কোনো বিভক্তি-বিভাজনের চিন্তা করবো না। আমরা শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনীতি অনুসরণ করে বিএনপিকে শক্তিশালী করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। আসুন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের জন্য আমরা সকলে শপথ গ্রহণ করি, শপথ গ্রহণ করি গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের জন্য, বিএনপিকে শক্তিশালী সংগঠনের পরিণত করার জন্য। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যুগান্তকারী পদপেসমূহে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি নির্মাণের নানা দিক তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। : প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানে দেশের মানুষের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন। সেজন্য আওয়ামী লীগ জিয়াউর রহমানকে ভয় পায়, তাঁর পরিবার ও তাঁর দলকে ভয় পায় এবং তাদের আতঙ্ক হচ্ছে জিয়া পরিবার ও বিএনপি। এজন্য জিয়াউর রহমান যে রাজনৈতিক দর্শন দিয়ে গেছেন তা দেশের মানুষ গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগ বার বার জনগণের বিপ,ে প্রতিপ হিসেবে কাজ করেছে। আজকে দেশে গণতন্ত্র নেই, কথা বলার স্বাধীনতা নেই, অর্থনীতি দেউলিয়া, কৃষকদের অধিকার ভূলুন্ঠিত। এরকম অবস্থায় আমাদের উপলব্ধি করতে হবে জিয়াউর রহমানের আদর্শ-দর্শন কী ছিলো তা ভালোভাবে আত্মস্ত করতে হবে। সেই দর্শনকে সামনে নিয়েই আমাদের সামনের দিকে এগুতে হবে। দলকে গঠনতন্ত্র মোতাবেকই সুসংগঠিত করে ‘ইস্পাত কঠিন গণঐক্য’ গড়ে তোলার আহবানও জানান তিনি। : বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে এমন কোনো হীন উদ্দেশ্য নেই, যেটা আওয়ামী লীগ বাস্তবায়ন করছে না। এমনকি কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্যবই থেকেও জিয়াউর রহমানের অবদান মুছে দিতে চাইছে। কিন্তু এসব করে জিয়াউর রহমানকে মুছে দেয়া যাবে না। স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ সবকিছুতে ব্যর্থ হয়েছে। আর তারা যেখানে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে জিয়াউর রহমান সফল হয়েছেন। তিনি তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে রূপ দিয়েছেন। : তিনি বলেন, আমরা যদি আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলকে সুগঠিত করি, আর্দশ ও দর্শনকে তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রকৃতপে তাদের উপলব্ধিতে ঢুকিয়ে দিতে পারি তবে আমাদের পে অনেক কিছুই সম্ভব। জিয়াউর রহমানের একটা বাণী ছিলো- ‘দেশের স্বার্থে ইস্পাত কঠিন গণঐক্য সৃষ্টি করা’। আজকের পরিস্থিতিতে সেই ইস্পাত কঠিন গণঐক্য ছাড়া এই স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদী সরকারের কাছ থেকে জনগণকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আর এজন্য আমাদের যার যার অবস্থান থেকে আরও সক্রিয় থাকতে হবে। : বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সংসদে যোগদান করার কারণে দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরাট ােভ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যে বিএনপির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে শত শত প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদেরকে দিতে হবে। শহীদ জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত এই দলকে সুসংগঠিত করার জন্য অবিলম্বে আমাদের একটি কার্যকর পদপে গ্রহণ করতে হবে। এই ােভ-অভিব্যক্তি দূর করার জন্য আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, আমি মনে করি সকল অঙ্গসংগঠনের য্বুদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, ছাত্র দলসহ আরো যারা আছে তাদের প্রতিনিধিসহ জাতীয় নির্বাহী কমিটির একটি বর্ধিত সভা ডেকে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে আমাদের ভুল বোঝাবুঝি দূর করা দরকার। একাদশ সংসদে যোগদানে দলের মধ্যে ােভের প্রসঙ্গ টেনে মওদুদ বলেন, নির্বাচনের পরবর্তীতে দলীয়ভাবে আমরা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করেছি এবং সংসদকে একটি অনির্বাচিত অবৈধ সংসদ হিসেবে অভিহিত করেছিলাম। সেজন্য আমরা এই সরকারের অধীনে ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তরের নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করি নাই। যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন প্রায় দুইশ হবে তাদেরকে আমরা বহিষ্কার করেছি। গত নির্বাচনের সময়ে তিন শটি আসনে নির্বাচনি এলাকায় আমাদের হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তারা জেল খেটেছে, আহত হয়েছে,পঙ্গু হয়েছে, এমনকি মৃত্যু বরণও করেছে। কিন্তু হটাৎ করে এই সংসদে যোগদান করার কারণে দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরাট ােভ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে মওদুদ আহমদ বলেন, এখন বিএনপির জন্য একটা বিরাট সংকটকাল। আমাদের নেত্রী অসুস্থ ও কারাবন্দি। আমি শুধু এতটুকু বলতে চাই, আজকে না হয় কালকে বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন এবং তিনি আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। তিনি এই মুহূর্তে কারাবন্দি, আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না ও আমরাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। তিনি আমাদের নেতৃত্ব দিতে পারছেন না আর আমাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছেন। দেশে চলছে একটা একদলীয় নিষ্ঠুর স্বৈরাচারী শাসন। তাই এখন আমাদের বেশি প্রয়োজন সর্বেেত্র ঐক্য বজায় রাখা, দলটাকে শক্তিশালী রাখতে হবে। : তিনি বলেন, আমরা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন থেকে একটু দূরে সরে যাচ্ছি বলে মনে হয়। তিনি একজন মিত্যব্যয়ী ব্যক্তি ছিলেন, তিনি বিলাসিতা পছন্দ করতেন না এবং তিনি যে রাজনীতি দিয়ে গেয়েছিলেন সেখানে একটা উদার, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল একটা দর্শন তাঁর সেই বিএনপির ১৯ দফার মধ্যে ছিলো। যত শিগগিরই সম্ভব আমাদের উচিত হবে সেই দর্শনের কাছে থাকা এবং তাঁর থেকে দূরে সরে না যাওয়া। : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান. ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করীম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার, মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান। এছাড়াও আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কর্নেল (অব.) আব্দুল লতিফ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সেলিমুজ্জামান সেলিম, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম, সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মোহাম্মাদ আবু জাফর, শাহ মোহাম্মাদ নেছারুল হক, শামসুজ্জামান সুরুজ, ফোরকানই আলম, ঢাকা মহানগর দণি বিএনপির সহ-সভাপতি নবী উল্লাহ নবী, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, ঢাকা মহানগর যুবদল দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান, সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, ইসতিয়াক নাসির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহবুব মাছুম শান্ত, দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক মামুন খান, তাঁতী দলের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম আহবায়ক ড. মনিরুজ্জামান মনির, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম, ওলামা দলের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আলমগীর হোসেন খলিলী, কৃষক দলের সদস্য মিয়া মো. আনোয়ার, এম জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপি নেতা জিএম শামসুল হক, ফরিদ উদ্দিন, এবিএম রাজ্জাক, অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন মন্ডলসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট