তারেক রহমানের সঙ্গে জরুরি সাক্ষাত করতে লন্ডনে যাচ্ছেন ফখরুল

রাজনীতি

তারেক রহমানের সঙ্গে জরুরি সাক্ষাতে লন্ডনে যাচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জানা গেছে, দলের ৫ এমপির সংসদে যোগদানকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভেতর-বাইরে উদ্ভুত পরিস্থিতি, ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিক্রিয়া, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ও মুক্তি, দলের সাংগঠনিক অবস্থা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করবেন মির্জা ফখরুল। ইত্তেফাক

বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অবস্থানগত কারণে অনেককিছুই হজম করতে হয়েছে মির্জা ফখরুলকে। কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা, সংসদে যাওয়া না যাওয়ার প্রশ্নে সৃষ্ট মতপার্থক্য, শপথ নিতে নির্বাচিত অন্যদের আগ্রহসহ নানামুখী চাপসহ আগ-পিছ চিন্তা-ভাবনা করেই অনেককিছুই খোলামেলা বলতে পারেননি ফখরুল। ‘দলীয় সিদ্ধান্তে ৪ জনের শপথ গ্রহণ যেমন একটা কৌশল, তেমনি আমার শপথ না নেওয়াও দলীয় কৌশল’- এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই রাজনীতিতে অন্তর্নিহিত বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বিএনপি মহাসচিব।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে,  দলের মহাসচিব ফখরুলকে বাইরে রেখে ৪ জনকে সংসদে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে সংসদ সদস্য পদ টিকিয়ে রাখতে শপথ গ্রহণের আগেরদিন রবিবার পর্যন্ত সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল বিএনপির। রোববার অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্তই হয়েছিল। রাতে ওই বৈঠক শেষে তারেক রহমান স্কাইপিতে কথা বলেছিলেন দলের নির্বাচিত হারুন অর রশীদ ও উকিল আবদুস সাত্তারের সাথে। সংসদে না যাওয়ার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে তারেক রহমান বারবার তাদের অনুরোধ করেন। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এমপি হারুন উল্টো সংসদে যাওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। কোনভাবেই হারুনকে বোঝাতে না পেরে পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য তারেক রহমান সোমবার বিকাল চারটা পর্যন্ত সময় নেন। এর মধ্যেই তারেক রহমানসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানতে পারেন, দল অনুমতি না দিলেও ৪ জন শপথ নিয়ে সংসদে যাবেন।

এমন পরিস্থিতিতে তারেক রহমান দলে নিজের বিশ্বস্তদের সঙ্গে পরামর্শ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেই শপথ গ্রহণের বিষয়ে অনড় ৪ এমপি। অনুমতি না দিলেও তারা শপথ নিয়ে সংসদে যাবেন। সেক্ষেত্রে দল বহিষ্কার করলে তারা নিজেরা পরে দল ভাঙার উদ্যোগ নিতে পারেন। এমনকি আইনি মারপ্যাচে পড়ে দলের প্রতীক ‘ধানের শীষ’ও হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হতে পারে। এক্ষেত্রে সংসদে যেতে তাদেরকে অনুমতি দেওয়ার চেয়ে না দেওয়ার ক্ষতি বেশি ও দীর্ঘমেয়াদী। এসব কিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে এবং দলে নিজের নেতৃত্ব ধরে রাখতেই শেষ মুহূর্তে ইচ্ছার বিরুদ্ধেই ৪ জনকে শপথ গ্রহণের অনুমতি দেন তারেক রহমান।

Leave a Reply