আজ পবিত্র শবেবরাত

প্রকাশিত: ৫:১১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২১, ২০১৯

আজ পবিত্র শবেবরাত

পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা মহিমান্বিত রজনী শবেবরাত আজ। আরবিতে একে বলে ‘লাইলাতুল বরাত’। আজ ১৪ শাবান রোববার সূর্যাস্তের পরপরই শুরু হবে এ রজনী। কাল সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত এ রাতের ফজিলত অব্যাহত থাকবে। মহান রাব্বুল আলামিন যে পাঁচটি রাতকে বিশেষভাবে মর্যাদা দিয়েছেন তার মধ্যে লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত অন্যতম।

বিশ্বের মানুষের যাবতীয় মঙ্গল-অমঙ্গল, রিজিক-দৌলত সবকিছুই নির্ধারিত হবে এই পবিত্র রাতে। তাই এই রাতকে সৌভাগ্যের রজনীও বলা হয়ে থাকে। ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ সৌভাগ্য। এ দুটি শব্দ নিয়ে ‘শবেবরাত’, অর্থাৎ সৌভাগ্যের রজনী।

এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আলস্নাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ মাহফিলসহ ইবাদত-বন্দেগি করবেন। মহান আলস্নাহ তাআলা এ রাতে বান্দাদের জন্য তাঁর অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। মহিমান্বিত এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিগত জীবনের সব ভুলভ্রান্তি ও পাপের জন্য মহান আলস্নাহ তাআলার দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ জীবনে পাপ-পঙ্কিলতা পরিহার করে পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের জন্য আলস্নাহর রহমত কামনা করেন। ইবাদত-বন্দেগি ছাড়াও প্রয়াত স্বজনদের কবর জিয়ারতও করে থাকেন মুসলমানরা।

শবে বরাত উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন নানা কর্মসূচি

পালন করবে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা জানায়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন আজ বাদ মাগরিব থেকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে রাতব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।

শবেবরাত উপলক্ষে আজ সন্ধ্যা ছয়টা থেকে আগামীকাল সোমবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত বিস্ফোরক দ্রব্য, আতশবাজি, পটকাবাজিসহ অন্যান্য ক্ষতিকর ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং ফোটানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ডিএমপির কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এ ঘোষণা দেন।

হাদিসে উলেস্নখ আছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.) বলেছেন, ‘শাবান মাসের ১৪ তারিখের দিবাগত রাত স্মরণ করো’। এই রাতের কথা উলেস্নখ আছে পবিত্র কোরআন, হাদিস ও ব্যাখ্যামূলক ইসলামি গ্রন্থে। মাহে শাবান বা শাবান মাসকে প্রিয় নবী (সা.) নিজের মাস বলে উলেস্নখ করেছেন। হজরত আনাস বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আলস্নাহর রাসুল ইরশাদ করেছেন, শাবানের এই নামকরণের কারণ হলো এ মাসে রমজানের অবারিত কল্যাণ ও বরকত হাসিলের নানামুখী দুয়ার খুলে দেয়া হয়।

এ রাতের গুরুত্ব সম্পর্কে হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, পরবর্তী বছরের যাবতীয় ফয়সালা হায়াত, মউত, রিজিক, দৌলত, আমল ইত্যাদির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত আদেশ-নিষেধসমূহ ওই রাতে লওহে মাহফুজ থেকে উদ্ধৃত করে কার্যনির্বাহক ফেরেশতাদের কাছে সোপর্দ করা হয়।

শবেবরাত সম্পর্কে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর উম্মতদের বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় এবং পরবর্তী দিনে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সূর্য অস্তমিত হওয়ার পরক্ষণ থেকে আলস্নাহ রাব্বুল আলামিনের নূরের তাজালিস্ন পৃথিবীর কাছাকাছি আসমানে প্রকাশ পায়। তখন আলস্নাহপাক বলতে থাকেন, ‘আছে কি কেউ ক্ষমাপ্রার্থী? যাকে আমি ক্ষমা করব, আছে কি কেউ রিজিকপ্রার্থী? যাকে আমি রিজিক প্রদান করব। আছে কি কেউ বিপদগ্রস্ত? যাকে আমি বিপদমুক্ত করব। আলস্নাহপাকের মহান দরবার থেকে প্রদত্ত এই আহ্বান অব্যাহত থাকে ফজর পর্যন্ত।

বস্তুত শবেবরাত হলো আলস্নাহপাকের মহান দরবারে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ সময়। আলস্নাহপাকের নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভের এক দুর্লভ সুযোগ এনে দেয় এই শবেবরাত। তাই প্রতিটি কল্যাণকামী মানুষের প্রধান কর্তব্য হলো এ সুযোগের পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার; আলস্নাহপাকের ইবাদত-বন্দেগিতে সারা রাত অতিবাহিত করা।

নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, শাবানের ১৪ তারিখের রাতে আলস্নাহ তা’আলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষী ব্যক্তি ব্যতীত সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ (বায়হাকি)।

পাপী লোকেরা যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের নিজ নিজ পাপকাজ পরিত্যাগ করে তওবা না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত শবে বরাতেও তাদের জন্য ক্ষমার দ্বার উন্মুক্ত হবে না। শবে বরাত মানুষের নৈতিক চরিত্র গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে বান্দা শবেবরাতের তাৎপর্য অনুধাবন করে সর্বক্ষেত্রে অন্যায় পরিহার এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়। এভাবে ধর্মের প্রতি মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনা বহু গুণে বেড়ে যায়। খাঁটি দিলে তওবা তথা অতীত অন্যায়ের জন্য অনুতাপ এবং ভবিষ্যতে তা না করার সংকল্প গ্রহণ করে আলস্নাহর দরবারে কান্নাকাটি করলে তিনি অবশ্য তাকে মাফ করতে পারেন। তাই মুক্তির রজনী হিসেবে লাইলাতুল বরাতের আগমন পাপী-তাপী বান্দাদের জন্য এক অনবদ্য নিয়ামতের ভান্ডার।

এ রাতে ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে নিমগ্ন থাকাই প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের প্রধান কাজ। এ রাতে তওবা-ইস্তেগফার করা, আলস্নাহর কাছে নিজের প্রয়োজন মেটানোর জন্য আকুতি জানানো এবং জীবিত ও মৃতদের পাপরাশি ক্ষমা লাভের জন্য প্রার্থনার উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এ রাতে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, কবর জিয়ারত ও পরদিন নফল রোজা রাখার মাধ্যমে বান্দা আলস্নাহর নৈকট্য অর্জনে সক্ষম হয় এবং ব্যক্তিজীবনে এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটে। নবী করিম (সা.) নিজেও এ রাতে কবর জিয়ারত করতেন এবং ইবাদতে নিমগ্ন হতেন। রাসুলুলস্নাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শাবান মাসের ১৫ তারিখে রোজা রাখবে, দোজখের আগুন তাকে স্পর্শ করবে না।’ (আবু দাউদ)

সারা বিশ্বের মুসলমানরা আলস্নাহর রহমত লাভের আশায় বিশেষ ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে এ রাতটি অতিবাহিত করে। বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে এ রাতটি অতিবাহিত করে। ইবাদত-বন্দেগি ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পালিত হয় রাতটি। বিশেষ করে প্রায় সবাই সাধ্যমতো দান-খয়রাত করে থাকে। প্রায় সবার ঘরে আয়োজন করা হয় হালুয়া ও গোশত-রুটিসহ নানা রকম খাবারের। আত্মীয়স্বজন ও গরিবদের মধ্যে এসব খাবার বিতরণ করা হয়।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট