আ.লীগকে ঢেলে সাজানো হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০১৯

আ.লীগকে ঢেলে সাজানো হবে : প্রধানমন্ত্রী

একেবারে তৃণমূল থেকে আওয়ামী লীগকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথসভার সূচনা বক্তব্যে তিনি একথা জানান।

এ সময় আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ একসঙ্গে বসেছি। সেই সঙ্গে আমরা আর একটি কাজ করতে চাই— ইতোমধ্যে আমাদের সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠক করেছি, ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংও করেছি। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, প্রেসিডিয়াম কার্যকরি সদস্যের নিয়ে আটটি বিভাগে কমিটি গঠন করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কমিটির দায়িত্ব থাকবে আমাদের সংগঠনগুলো, একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে। কোথায় কমিটি আছে, কোথায় নেই, সেগুলো দেখা। সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে আরও মজবুত করে গড়ে তোলা। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্রপরিচালনায় থাকলে সাধারণত জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। কিন্তু, আমাদের জনপ্রিয়তা অতীতের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন, যেটা হয়ে গেল; যদি নির্বাচনের দিকে তাকান, দেখবেন সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে, যেটি অতীতে কখনো দেখা যায়নি। ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমর্থন দিয়েছেন। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ছাত্র; সবচেয়ে বড় কথা যারা প্রথমবারের ভোটার, নবীন ভোটার সকলেই আওয়ামী লীগ সরকারকে আবার চেয়েছে। তাদের সেবা করার জন্য মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন।

বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ভরাডুবির কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াতের অবস্থান, তারাতো মিলিটারি ডিকটেটর। ক্ষমতা দখলের পরে এসব দল গঠন করা হয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবে এরা হচ্ছে পরজীবীর মতো।

তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঐক্যফ্রন্ট মনে করেছে ব্যবসা। টিকেট বেচে তারা কিছু পয়সা কামাই করে নিয়েছে। ফলে নির্বাচনের প্রতি তাদের খুব একটা নজর ছিল না। এজন্যই তাদের এই হাল হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াতের কাজই ছিল দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা। কিন্তু, আমরা ক্ষমতায় আসার পর আজ দেশের মানুষ অন্তত শান্তিতে রয়েছে।

সবার এবার নববর্ষ উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে উদযাপন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এবার সারা দেশে ব্যাপকভাবে নববর্ষ উদযাপন হয়েছে। আমাদের সরকার নববর্ষ ভাতাও দিয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

জাতির পিতার অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন দেশটা জাতির পিতার নেতৃত্বে উন্নয়নের পথে যখন যাত্রা শুরু করে, তখনই ১৫ আগস্টের নির্মম ঘটনা ঘটানো হয়। জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর দীর্ঘ ২১ বছর জাতির জীবনে নেমে আসে অমানিশা। এ সময় মানুষের কোনো অগ্রগতি হয়নি। কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই এদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হতে শুরু করে।

আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে চারবারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। এরপর ২০০৮ সালে নির্বাচনে আবারো বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করি এবং এখন পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনা করছি। বাংলাদেশ আজকে ক্ষুধামুক্ত, বাংলাদেশ আজকে দারিদ্রমুক্ত হবার পথে। আমরা প্রায় ৪০ ভাগ থেকে ২১ ভাগে দারিদ্রের হার নামিয়ে এনেছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের ছোয়া আজকে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। আজকে গ্রামের মানুষ দারিদ্রমুক্ত হচ্ছে, মানুষের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়ছে। এটাই জাতির জনকের স্বপ্ন ছিল, যেটা জাতির পিতা চেয়েছিলেন যে বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ।’

সভায় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের প্রায় সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

  •