নুসরাতের মৃত্যুতে ফেসবুকে নিন্দার ঝড়

প্রকাশিত: ৩:৪১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০১৯

নুসরাতের মৃত্যুতে ফেসবুকে নিন্দার ঝড়

ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যুতে শোকাহত তার সহপাঠী, স্বজনসহ সর্বস্তরের মানুষ ।নুসরাতের মৃত্যুর পর বিভিন্ন জন ফেজবুক পেইজে নানা মন্তব্য করেছেন। সেগুলো তুলে ধরা হলো—

এ জেট মুসা লিখেছেন, আমি কাঁদতে আসিনি, সিরাজের ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি। আমি শোকাহত নই প্রতিবাদ করতে এসেছি। ঐ মাদ্রাসা বন্ধের দাবী নিয়ে এসেছি।

নাহিদ খান লিখেছেন, কোন নুসরাতের মৃত্যু হয়নি। মৃত্যু হয়েছে আমাদের নৈতিকতার, মৃত্যু হয়েছে আমাদের মানবতার, মৃত্যু হয়েছে চেতনাবাজদের, মৃত্যু হয়েছে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের যারা সুযোগ বুঝে আন্দোলন করে। ছিঃ, ধিক্কার জানাই গোটা মানবজাতিকে…… ক্ষমা করো বোন নুসরাত। তোমার জন্য ফটোশেসন ছাড়া আর কিছুই করার নাই আমাদের । আর একটা কাজ করবো কিছুদিন পর তোমার হত্যাকরীদের ক্ষমা করে দিয়ে আরেকজন নুসরাতকে হত্যা করার সুযোগ করে দিবো।

সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু লিখেছেন,  নুসরাতের মৃত্যু আমাকে শোকার্ত করেনি। ঈশ্বর ওর যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়েছেন। ওর জন্য যতখানি কষ্ট পাওয়ার তা আমি ওর মৃত্যুর আগেই পেয়েছি। এই কষ্ট এবং অপরাধীদের প্রতি ঘৃণা ও ক্রোধ আছে, থাকবেই। অপরাধীদের বিচার করে শাস্তি দিতে কি আমাদের রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচারব্যবস্থা পারবে?। ছাত্রীকে যৌন পীড়ন ও পুড়িয়ে হত্যার নেপথ্য হোতা বলে অভিযুক্ত অধ্যক্ষের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি যারা জানিয়েছে তারা তো আমাদের সমাজেরই লোক।

মেরিনা সুলতানা লিখেছেন, নুসরাতের মৃত্যু জানান দিলো আমাদের অবক্ষয়ের কথা। আমরা পরিনি স্বাধীনতার মান রাখতে।পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেমন আমাদের বীরাম্গনা করেছিল, আজ স্বদেশীরাই এই স্বাধীন দেশে সেই কাজটি করে চলেছে অবলীলায়। আমরা কি এদের বিনাশ করতে পারি না নাকি চাই না এরা বিনাশ হউক?সুকান্তের ছাড়পত্র কবিতার অর্থ গুলো নি নিরর্থক হয়ে যাবে?

ইকবাল বাহার লিখেছেন,  …নুসরাতের চেয়েও ভয়ানক কোন মৃত্যু ঘটবে …. আমরা সবাই অপরাধী ! বুকের ভিতরে অনেক কষ্ট হচ্ছে… অনেক কষ্ট ! আহা জীবন !

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক লিখেছেন, সারা শরীরে তীব্র ব্যথা নিয়ে মেয়েটি বলেছিল ‘আমি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেই যাবো। আমার জীবন থাকতে যে অন্যায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আমার সঙ্গে করেছেন, জীবন থাকতে সে অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবো না’…. ৮০ ভাগ পুড়ে যাওয়া শরীর নিয়েই সাহসের সঙ্গে মেয়েটি বলেছে- ‘আমি সারা বাংলাদেশের কাছে বলবো, সারা পৃথিবীর কাছে বলবো এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য। আমি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো….. অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে করতে তীব্র ব্যথা নিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলো মেয়েটি।

শেখ তাজউদ্দিন চৌধুরী লিখেছেন, ঘুমিয়ে গেলি নুসরাত মা- বড্ড অস্থিরতায় আছি। প্রিয়জন হারানোর বেদনার মতো বুকটা ফাঁকা হয়ে আসছে। তবে কুৎসিত সোনাগাজীর (ফেনী) মানুষগুলোকে আর দেখতে হবে না তোকে মা। যারা তোকে হত্যার নেপথ্যে তাদের মুক্তির জন্য মিছিল করে সেই সব মানুষ রূপী জানোয়ারদের দেখতে হবে না। ঘুমিয়ে যাও, আর আমাদের ক্ষমা করো, আমরা কিছুই করতে পারিনি। কতটা কষ্ট সয়েছিস মা শেষ কয়টা দিন। আল্লাহ নুসরাত জাহান রাফিকে শান্তির ঘুম দাও।

এমডি হানিফ লিখেছেন, আগুনে দগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত রাত সাড়ে নয়টায় মারা গেছে ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া লিল্লাহি রাজিউন’ নুসরাতের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি আল্লাহ যেন নুসরাতকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন… আমিন। পাশাপাশি নুসরাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত খুনিদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে ফাঁসিতে ঝুলানোর জোর দাবি জানাই’।

কামাল উদ্দিন লিখেছেন, আল্লাহ এই বোনকে শহিদের মর্যাদা দিও। এই হত্যার সঙ্গে জড়িত কুলাঙ্গার সোনার ছেলেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

বরেণ্য লেখক স্বকৃত নোমান লিখেছেন, মধ্যযুগীয় বর্বরতা। কথাটি প্রায়ই শোনা যায়। মধ্যযুগ কাহাকে বলে? কতো সাল থেকে কতো সাল? মধ্যযুগের বর্বরতার ধরন কেমন ছিল? আমার মতো মনে হয় বর্তমানের চেয়ে মধ্যযুগ অনেক ভালো ছিল। আমরা বর্তমানকে অস্বীকার করি। বর্তমানের বর্বরতাকে ঢাকতে মধ্যযুগের তুলনা দেই। একটা মেয়েকে শিক্ষক নামধারী বদমাশ আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেললো। এরপর আর মধ্যযুগীয় বর্বরতা কথাটা চলতে পারে না। বিদায় নুসরাত জাহান রাফি। এই সমাজ তোমাকে বাঁচতে দিল না। সরকার, ওই মাদ্রাসা বন্ধ করে দিন এমপিওভুক্তি বাতিল করুন। মাদ্রাসা নামক এই জল্লাদ খানায় আর বিদ্যাশিক্ষা চলতে পারে না। গড়ে তুলুন নষ্ট সমাজ, নষ্ট মানুষের হাতে বলি হওয়া নুসরাতের নামে অন্য কোনো বিদ্যাপীঠ, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান। দানব সিরাজউদৌলার শাস্তি চাই। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। হত্যার বদলে হত্যা। হত্যাকারীর ক্ষমা নাই।

নুসরাতের মামলার আইনজীবী এম. শাহজাহান সাজু লিখেছেন, ফেনীর কৃতি সন্তান নুসরাত জাহান রাফি আর নেই। ইন্নালিল্লাহ। তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি ও পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আইনজীবী হিসেবে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাব এ প্রতিজ্ঞা করছি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

শওকত ওসমান ভিপি লিখেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। নুসরাতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে কঠিন ব্যবস্থা নিবেন বলে আমরা আশা করি।

সাংবাদিক বখতেয়ার মুন্না লিখেছেন, না ফেরার দেশে চলে গেলো ফেনীর সোনাগাজী মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত। হায়নাগুলো তোকে বাঁচতে দিলো না। এ সমাজ তোকে বাঁচাতে পারলো না। এ সমাজ কখনও সিরাজউদৌলার মত হায়নাদের রুখতে পারবে না? আল্লাহ তোকে বেহেশত দান করুক।

রামিম দেওয়ান লিখেছেন, নুসরাতের মৃত্য আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে গেল এখনো কত বর্বরতা লালসা পরায়ন আর কুসংষ্কারে নিমজ্জিত র্নিলজ্জ অমানুষ আমাদের জাতীসন্তার শরীরে বুনে আছে। আজ অপরাধী পুরো জাতী আর নুসরাত চলে গেল অশ্রুসিক্ত ভালবাসায় নুসরাতের চির বিদায় ।

তানভীর রোমেল লিখেছেন, নুসরাতের মৃত্যু আমাদের আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেলো কি নির্মম আর কি অন্ধকারাচ্ছন্ন একটা সমাজে আমরা বাস করি। এর জন্য দায়ী আমরা সবাই। আসুন একবার দেখার চেষ্টা করি কতটা কলুষিত হয়েছি আমরা আর কতটা কলুষিত হয়েছে আমাদের সমাজব্যবস্থা, আর নিজেদের একটা জেন্টেল রিমাইন্ডার দেই…

অপু রায়হান সোহেল লিখেছেন, কোন নুসরাতের মৃত্যু হয়নি। মৃত্যু হয়েছে আমাদের নৈতিকতার, মৃত্যু হয়েছে আমাদের মানবতার, মৃত্যু হয়েছে চেতনাবাজদের।  ধিক্কার জানাই গোটা মানবজাতিকে….. । ক্ষমা করো বোন নুসরাত। তোমার জন্য শোক জানানো ছারা আর কিছুই করতে পারলাম না।

সাংবাদিক নঈম তারিক লিখেছেন, এই যে সিরাজের কিছুই হবে না। পুলিশের রিপোর্ট এবং বাঘা বাঘা আইনজীবীদের যুক্তি তাকে নির্দোষ প্রমাণ করবে (অবমাননার ভয়ে আরেকটা কথা লেখলাম না)। এই যে একটা অবস্থা দিনের পর দিন চলতেই থাকবে? ভেবে দেখুন -কিছুই চিরস্থায়ী নয়।

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানির মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় তারা। এই ছাত্রীর পরিবারের ভাষ্যে, ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা তার কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তারই জেরে মামলা করায় নুসরাতকে আগুনে পোড়ানো হয়। ওই মামলার পর সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট