আউশকান্দি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ১২ ঘন্টাই বন্ধ!-সেবাবঞ্চিত রোগীরা

প্রকাশিত: ৫:২১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০১৯

আউশকান্দি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ১২ ঘন্টাই বন্ধ!-সেবাবঞ্চিত রোগীরা

৫ এপ্রিল ২০১৯, শুক্রবার : নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির বেহাল অবস্থা। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ৫ টি পদের মধ্যে ৫টি পদই শূণ্য রয়েছে, বন্ধ থাকে দিনের বেলা ১২ ঘন্টাই।

পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে একজন পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা ও আয়া পদে দুইজন কর্মরত আছেন তারাও নিয়মিত অফিস করেন না।

উক্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এ এলাকার কয়েকটি ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সেবায় একমাত্র ভরসাস্থল হলেও সেটি এখন নিজেই অসুস্থ পড়েছে। এখানে শুধু নেই আর নেই। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি এলাকাবাসীর কোন উপকারে আসছে না বললেই চলে।

এ ব্যাপারে এলাকার শতাধিক জনতা গণস্বাক্ষর করে স্বাস্থ্য মন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, হবিগঞ্জ সিভিল সার্জনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, উক্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে আউশকান্দি, দীঘলবাক, কুর্শি ও দেবপাড়া পার্শ্ববর্তী ৪টি ইউনিয়নের ৪৪টি গ্রামের কোন হাসপাতাল বা দাতব্য চিকিৎসালয় নাই। এসব গ্রামের কৃষক, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য প্রাথমিকভাবে অত্র হাসপাতালের উপর নির্ভর করতে হয়।

প্রায় ২২ থেকে ২৪ হাজার মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র এই হাসপাতালটি। এই নিয়মানুযায়ী এ হাসপাতালে একজন এমবিবিএস, সহকারী ডাক্তার, দুইজন ফার্মাসিস্ট, একজন নৈশপ্রহরী, একজন অফিস সহকারী থাকার কথা। এসব পদে কেউ কর্মরত নেই। সব কয়টি পদই শূন্য রয়েছে। ফলে জনসাধারণ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। অজ্ঞাতকারনে র্দীঘদিন ধরে এই হাসপাতালের কোন পদ পূরণ করা হচ্ছে না।

দীর্ঘদিন যাবত এই হাসপাতালে নিয়মিত কোন ডাক্তারও নেই। যদিও বিল্ডিংয়ে সার্বক্ষণিক ডাক্তারের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা আছে।

অত্র হাসপাতালে ২টি বিল্ডিং রয়েছে, যার মধ্যে একটি দুতলা ভবন ও অপরটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় টিন শেড ভবন। এছাড়াও হাসপাতালে পুুকুরে কচুরিপানা ও আবর্জনা পঁচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। হাসপাতালের আঙ্গিনা আগাছায় চেয়ে গেছে- যেখানে মশা মাছি কীটপতঙ্গ এবং সাপের বিচরণে এলাকার জনগণ ভীতসন্ত্রস্ত ও আতংকিত চলাচল করতে হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সারাক্ষণই বন্ধ থাকে ফলে এলাকাবাসীর কোন উপকারে আসছে না।

এলাকার যুবক শিহাব আহমদ জানান, এলাকাবাসী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, অত্র এলাকাবাসীর সুস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার গুরুত্ব বিবেচনা করে গুরুত্বারোপ করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এলাকার ৪৪ টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, ইতিবাচক সহযোগিতা ও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমরা এলাকাবাসী সিভিল সার্জনকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহাদাৎ হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পরিবার কল্যাণ বিভাগে কোন পদ খালি নাই, দুইজন কর্মরত আছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের সব কয়টি পদ খালি রয়েছে। কেউ যদি অফিস ফাঁকি দেয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. গোলাম মোস্তাফা বলেন, এখানে কোন পদেই লোক নেই তাই অফিস বন্ধ থাকে। আমরা বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আসলেই বিষয়টি দুঃখজনক, এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আশা করি অচিরেই পদগুলো পূরণ হবে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট