কুয়েত মৈত্রী হলে ব্যালটভর্তি বাক্স উদ্ধার, ছাত্রীদের বিক্ষোভে ভোট স্থগিত

প্রকাশিত: ১২:৩৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০১৯

কুয়েত মৈত্রী হলে ব্যালটভর্তি বাক্স উদ্ধার, ছাত্রীদের বিক্ষোভে ভোট স্থগিত

ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রীদের কুয়েত মৈত্রী হলে ব্যালটভর্তি বাক্স উদ্ধারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনার প্রতিবাদে বাইরে ছাত্রীদের বিক্ষোভ চলছে।

এরই মধ্যে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর ও চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা রয়েছেন, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস তারা।

অভিযোগে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরই ছাত্রীরা এসব ব্যালট পেপার উদ্ধার।

কুয়েত-মৈত্রী হলে ভোটের আগে খালি ব্যালট বাক্স না দেখানোর কারণে বিক্ষোভের মুখে সকাল ৯টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার ও হল প্রভোস্ট কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

এদিকে সব ধরনের শঙ্কা কাটিয়ে ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে আজ সোমবার। সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে চলবে বেলা ২টা পর্যন্ত। তবে এক ঘণ্টা পর রোকেয়া হলে ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রতিবছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ২৮ বছর পর এই নির্বাচন হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাসে এ পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচন হয়েছে মাত্র সাত বার, যেটি সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯৯০ সালে। মোট ভোটার ৪৩ হাজার ২৫৫, ডাকসুতে ২৫টি পদের বিপরীতে প্রার্থী ২২৯ এবং ১৮ হল সংসদে প্রার্থী ৫০৯ জন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ। কেননা, দীর্ঘ ২৮ বছর পর ভিপি, জিএস, এজিএসসহ কেন্দ্রীয় সংসদ ও আবাসিক হলগুলোতে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি পেতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ হাজার শিক্ষার্থী।

২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে তুমুল প্রতিযোগিতার চিন্তা করছে ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, বামপন্থীদের প্যানেল প্রগতিশীল ছাত্রঐক্য এবং স্বতন্ত্রসহ অন্য প্যানেলের প্রার্থীরা। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, মূলত লড়াইটা হবে কোটা সংস্কার আর ছাত্রলীগের ভেতরে।

তবে প্রগতিশীল ছাত্রঐক্যের ভিপি প্রার্থী ও ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী একটু ভারি মনোভাব নিয়েই বললেন, ‘দেখা যাক আজ হয়তো সব ইকুয়েশন বদলে যেতে পারে। অনিয়ম হলে কোনো রকম ছাড় হবে না। ভালো কিছুই হোক সেই আশা প্রকাশ করছি। না হলে অন্দোলন হবে কঠোর।’

কিন্তু বিজয় ছাড়া ভাবতে চাইছে না বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ মনোনীত ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘ভোট সুষ্ঠু হলে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় পাব আমরা। আর ভোটে কোনো ধরনের অনিয়ম করে জেতার চেষ্টা করলে ভোট বাদ দিয়ে আজ থেকেই বিশাল এক আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটবে এই বাংলাদেশে। ভোট বাদ দিয়েই সকাল থেকেই আন্দোলন গড়ে তুলব।’

ছাত্রলীগের ভিপি প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন আবার বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ছাত্রলীগ কিন্তু উপরেই। হলের অধিকাংশ ভোট কিন্তু তাদেরই। ভোট সুষ্ঠু হোক, তবু আমরা জিতব। এখানে কোনো সন্দেহ নেই।’