বিচারহীনতার চিত্র ভয়াবহ

প্রকাশিত: ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০১৯

বিচারহীনতার চিত্র ভয়াবহ

ত্বকী, তনু ও সাগর-রুনির মতো হত্যাকান্ডের বিচার না হওয়ায় দেশে বিচারহীনতার চিত্র ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে অভিহিত করেছেন বিশিষ্টজনেরা। হত্যাকান্ডে যারা জড়িত তাদের বিচার যতদিন এ দেশে হবে না ততদিন এ দেশ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না। : গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসকাবে ত্বকী হত্যার ৬ বছর পূর্তিতে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বিশিষ্টজনেরা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘ত্বকীর পিতা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। সে জন্য অন্যায়কারীরা তাকে জব্দ করার জন্য ত্বকীকে হত্যা করেছে। সমস্ত ঘটনাটা রাজনৈতিক। রাষ্ট্র ত্বকীর নিরাপত্তা দিতে পারেনি। ত্বকীর মৃত্যুর পর রাষ্ট্র বিচার করতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, ‘শুধু ত্বকী নয়, তনু ও সাগর-রুনির মতো হত্যাকান্ডের বিচার না হওয়া প্রমাণ করে দেশের বিচারহীনতার চিত্র কত ভয়াবহ। তার মতে, দেশ আমলাতন্ত্র ও পুঁজিবাদের কবলে পরে মানবিকতা হারাচ্ছে। গোলটেবিল বৈঠকে ভাষাসৈনিক ও সাংবাদিক কামাল লোহানী বলেন, ত্বকী হত্যার পর এটি এখনো আন্দোলনে পরিণত হয়নি। এটা আমাদের ব্যর্থতা। আমাদের প্রয়োজনে আবার আইনের আশ্রয় নিতে হবে। প্রয়োজন হলে সংগঠন তৈরি করে গণআন্দোলন করতে হবে। সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমাদের ল্েয পৌঁছাতে হবে। সেই সময় এসে গেছে। : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, গত ছয় বছর ধরে তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে আমাদের এই আলোচনায় অংশ নিতে হয়। এই হত্যার বিচার যতদিন হয়নি ততদিন আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে। চেষ্টা করলে এই হত্যার বিচার একদিন না একদিন হবেই। এর পেছনে যে রাজনীতি আছে এটা স্পষ্ট। : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সারাদেশের জন্য এ আন্দোলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারায়ণগঞ্জে এই হত্যার বিচারের প্রতিবাদ অব্যাহত আছে যা সারাদেশে শক্তি জোগাচ্ছে। হত্যাকারীদের রার জন্য রাজনীতি চলছে তাই এই হত্যার বিচার হচ্ছে না। : সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বাংলাদেশে অনেক অন্যায় হচ্ছে। ত্বকী হত্যার বিচারের দাবি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর দাবি। এই আন্দোলনের সঙ্গে অতীতে ছিলাম ভবিষ্যতেও থাকব। এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে এই হত্যাকান্ড একটা রাজনৈতিক হত্যাকান্ড। তাই এর সমাধানও হতে হবে রাজনৈতিকভাবে। প্রধানমন্ত্রী চাইলে এ হত্যার বিচার সম্ভব। তার উদ্যোগের কারণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। তিনি চাইলে এই হত্যার বিচারও সম্ভব। : প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান বলেন, ত্বকীর বিচারের জন্য আমরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিতে পারি। এ ছাড়া পাঠ্য পুস্তকে ত্বকীর লেখা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি। : ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেন, ত্বকীর ঘাতকরা সরকারের সঙ্গে জড়িত। বিচারহীনতা থেকে রেহাই পেতে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন জরুরি। : গোলটেবিলে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, সারওয়ার আলী, ন্যাপের আহ্বায়ক পঙ্কজ ভট্টাচার্য, সাবেক সচিব সচিব ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শফি আহমেদ, দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মনিরুজ্জামান প্রমুখ। ত্বকী হত্যাকান্ডের বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা দেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্যসচিব হালিম আজাদ। সভাপতিত্ব করেন ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি। : ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ শহরের বাসার সামনে থেকে নিখোঁজ হয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বির ছেলে তানভীর মুহাম্মদ। ওই দিনই সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রাব্বি। ৮ মার্চ সকালে শীতল্যা নদীর শাখা চারারগোপ এলাকার খালে ত্বকীর লাশ পাওয়া যায়। ওই দিন রাতেই ত্বকীর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পরে ১৮ মার্চ সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, জেলা যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা জহিরুল ইসলাম পারভেজ ওরফে ক্যাঙারু পারভেজ, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাজীব দাস, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সালেহ রহমান সীমান্ত ও রিফাতকে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন রফিউর রাব্বি।