খালেদা জিয়ার চিকিৎসা : আদালতের নির্দেশ ও মন্ত্রীর ওয়াদা পালন হয়নি

প্রকাশিত: ১২:০১ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০১৯

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা : আদালতের নির্দেশ ও মন্ত্রীর ওয়াদা পালন হয়নি

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্তের বিপরীতে গিয়ে সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের সংসদে শপথ নেয়ার ঘটনাকে রাজনীতিতে ‘ছলনা ও অঙ্গীকার ভঙ্গ’ হিসেবে দেখছে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সংসদে সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের শপথ গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এটা তো বলা হয়েছে যে, তার (সুলতান মোহাম্মদ মনসুর) যে দল (গণফোরাম) সেই দলই ব্যবস্থা নেবে। আমি শুধু এইটুকুই বলতে চাই যে, রাজনীতিতে ছলনা ও অঙ্গীকার ভঙ্গে এরা মানুষের কাছে গণশত্রুতে পরিণত হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। : রিজভী বলেন, ৭ মার্চ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমানের ১৩তম কারাবন্দি দিবস। বর্তমান অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর দোসররা ২০০৭ সালের সেই বিভীষিকাময় কালরাতে বিনা মামলায় বিনা ওয়ারেন্টে বাংলাদেশের জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা তারেক রহমানকে গ্রেফতার করে। এরপর তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। তাকে প্রায় পঙ্গু করে ফেলা হয় নির্যাতনের মাধ্যমে। বর্তমানে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। বর্তমান ভোটারবিহীন শাসকগোষ্ঠীরও নানা খড়গ তার ওপর চলমান রয়েছে। আমি তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি এবং তার ওপর করা সমস্ত জুলুম-নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। : তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য অকুতোভয় আপসহীন সংগ্রামী, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে বর্তমান ম্যান্ডেটবিহীন মিডনাইট ইলেকশনের সরকার। সুচিকিৎসার অভাবে তার অসুস্থতা ভয়ংকর পর্যায়ে উপনীত হলেও তাকে ফেলে রাখা হয়েছে গুমোট স্যাঁতসেঁতে পরিত্যক্ত কারাগারে। এর ওপর প্রতিনিয়ত সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী নেতারা সমস্ত শিষ্টাচার, সুরুচিকে অবজ্ঞা করে দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে কটূক্তি ও ব্যঙ্গ করে যাচ্ছেন। এটি কেবল মনুষ্যত্বহীন বিবেকবর্জিত মানুষদের দ্বারাই সম্ভব। আমাদের দলের সিনিয়র নেতারা গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে দেশনেত্রীর পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে সুচিকিৎসার জন্য দ্রুত ভর্তি করার আহবান জানিয়েছেন। অত্যন্ত পরিতাপ নিয়ে বলছি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছিলেন, কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়াকে শিগগিরই বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করে সুচিকৎসা করা হবে। তার আগের দিন নি¤œ আদালত হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তারপর তিনদিন চলে গেছে কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেই। আদালতের নির্দেশ ও মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি এখনও কার্যকর হয়নি। আমরা আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীকে নিয়ে প্রতি মুহূর্ত পার করছি উদ্বেগ-উৎকন্ঠা আর অজানা আশঙ্কায়। এখানেই জিঘাংসার শেষ নয়, গত এক মাস ধরে দেশনেত্রীর সাথে তার আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। সর্বশেষ গত ১০ ফেব্রুয়ারি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ করতে দেয়া হয়। এরপর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এবং গত ৩ মার্চ দুই বার তার আত্মীয়স্বজন এবং পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাতের জন্য আবেদন করলেও অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। : আমাদের দলের মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা গত দুই মাসে বহু চেষ্টা করেও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের অনুমতি পাচ্ছেন না। কারাগার কর্তৃপক্ষ বারবার একই কথা বলছেনÑ ‘হাই লেভেল থেকে অনুমতি না পেলে আমাদের কিছু করার নেই।’ এই ‘হাই লেভেল’টা কে তা আমরা জানি। দেশের জনগণও ভালো করে জানেন। : সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়ার অকল্পনীয় জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁকে সাজানো মিথ্যা মামলায় কারাগারে রেখে বর্বর কায়দায় গত এক বছর যাবৎ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে যাচ্ছেন। দেশনেত্রীর প্রতি এই প্রতিহিংসা এবং হিংস্রতার প্রধান কারণ জনগণ জানে। আমাদের প্রাণপ্রিয় দেশনেত্রী তিনবার নয়, চারবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে নির্বাচিত হয়। এরপর ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী যিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। বিরোধী দলের দাবি এবং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি-শাসিত থেকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় উত্তরণের লক্ষ্যে ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংবিধানের ঐতিহাসিক দ্বাদশ সংশোধনী বিল সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার অধীনে বেগম খালেদা জিয়া ১৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো শপথ গ্রহণ করেন। : তিনি আরো বলেন, কেবল তিনি চারবারের প্রধানমন্ত্রীই ছিলেন তাই নয়, দেশনেত্রীর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। বিগত ৫টি জাতীয় নির্বাচনে তিনি দেশের মোট ২৩টি আসন থেকে সর্বাধিক ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তিনি অজেয়। দেশের জনগণ তাদের একান্ত আপনজনকে পরাজিত হতে দেয়নি। তিনি দেশের যে প্রান্ত থেকে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন সেখানেই জনগণের ভালোবাসার জোয়ার উঠেছে। অভাবনীয়-বিস্ময়কর এই ভালোবাসা। ফলে উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করে প্রশাসনকে নগদ টাকায় কিনে নিয়ে ২৯ ডিসেম্বর রাতে ভোট করেছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানেন, বেগম খালেদা জিয়া কারাগারের বাইরে থাকলে তার মিডনাইট ভোটের নীলনকশা দুঃস্বপ্নে পরিণত হতো। : আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আবারও আহবান জানাবো-আপনার মনের মতো নির্বাচন তো শেষ। এবার দেশনেত্রীকে মুক্তি দেন। তাঁর বয়স এবং গুরুতর অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে তাঁকে কারামুক্ত করুন। কারণ বন্দিশালার চাবি আপনার হাতেই। তাঁকে সুচিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ দিন। : বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি করে রিজভী বলেন, আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বলে আসছি-বিএসএমএমইউতে (পিজি) পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যবস্থার সুযোগ নেই। আমাদের দাবি কতখানি সত্য ছিল তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গুরুতর অসুস্থ হয়ে বিএসএমএমইউতে ভর্তি হলে তাকে চিকিৎসা দিতে ল্যাব এইড থেকে ধার করে চিকিৎসা যন্ত্র নিয়ে আসতে হয়েছে। আরও উন্নত চিকিৎসা দিতে তাকে নেয়া হয়েছে সিঙ্গাপুরে। আমরা তো আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেশেই একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি করে আসছি। অথচ সেই দাবি প্রতিহিংসার কারণে বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে। : নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের নামে কি প্রহসন হয়েছে, ভোটের আগের রাতে শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশনের মদদে পুলিশ প্রশাসনের প্রকাশ্য সহযোগিতায় সন্ধ্যা রাত থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটের বাক্স ভর্তি করা হয়েছে। এই রাতের ভোটের কথা দেশের প্রতিটি মানুষ জানে। ভোটাররা কেউ ভোট দিতে পারেননি। নির্বাচন কমিশনাররা এখন রাতে ভোটের বাক্স ভর্তি করার কথা স্বীকার করা শুরু করেছেন। গতকাল বুধবার সুনামগঞ্জে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, কোনো নির্বাচনে পূর্ব রাতে ভোট বাক্সে ব্যালট ভরে দেয়া আর বরদাশত করা হবে না। তার মানে এখন নির্বাচন কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিই বললেন-একাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্ব রাতে ভোট বাক্সে ব্যালট ভরে দেয়া হয়েছিল, সেটা তিনি সরাসরি স্বীকার করলেন। সংসদ নির্বাচনের দুই মাস ছয় দিন পর এই স্বীকারোক্তির জন্য নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরীকে আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে, কমপক্ষে বিবেকের তাড়নায় তিনি এই মহাসত্যটি স্বীকার করেছেন। : এদিকে মহাজোটের শরীক একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন-‘এবার রাতের বেলা নয়, দিনের বেলাতেই ভোট ডাকাতি হবে। এমনকি বিনা ভোটের নির্বাচনের হিড়িক শুরু হয়ে গেছে।’ এখন নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি সরকারের শরিকরাও পর্যায়ক্রমে আগের রাতে ভোট ডাকাতির কথা অকপটে স্বীকার করছেন। কারণ জনগণের সামনেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মহাভোট ডাকাতির রাজধর্ম পালন করেছে। তা হলে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের সময় তাদের মগজে কি কারফিউ জারি করা ছিল? যে কারণে ব্যাখ্যাতিত উন্মার্গগামিতায় জনগণের ক্ষমতা কেড়ে নিতে সরকারি বাহিনীগুলো রাতের আঁধারকে বেছে নিলেন? অথচ নির্বাচন কমিশনের কেউ টু শব্দটি পর্যন্ত করলেন না। তবে এর জবাব একদিন জনগণকে দিতে হবে। সাধারণ মানুষ এখন সুপ্ত আগ্নেয়গিরি, যেকোনো মুহূর্তে ভিসুভিয়াসের মতো জনগণের ক্ষোভের প্রবল অগ্ন্যুৎপাত ঘটবে। জনগণের রোষানল থেকে রেহাই চাইলে দ্রুত নির্বাচনের উদ্যোগ নিন। আসলে স্বৈরাচাররা জনগণের নাড়ির স্পন্দন অনুভব করতে পারে না। তাই নির্বাচন কমিশনকে বলবো, ইতিহাসের জঘন্য অপকীর্তি ঢাকতে অবিলম্বে নির্বাচনের ফল বাতিলের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন এবং নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা দিন। আর সময়ক্ষেপণ করবেন না। বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি দাবি করে রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ^াস, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, লায়ন আসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল ইসলাম রবি, মামুনুর রশিদ মামুন, শেখ মোহাম্মদ শামীম, শেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী, মিয়া নুর উদ্দিন অপু, মনোয়ার হোসেন, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসাহাক সরকারসহ দেশব্যাপী হাজার হাজার বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি চাই। : সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নাজমুল হক নান্নু, অধ্যাপিকা সাহিদা রফিক, বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভিপি ইব্রাহিম প্রমুখ।