হামলার কারণে পঞ্চগড়ে কাদিয়ানিদের ইজতেমা বন্ধ

প্রকাশিত: ৯:১৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯

হামলার কারণে পঞ্চগড়ে কাদিয়ানিদের ইজতেমা বন্ধ

পঞ্চগড়: কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের পূর্বঘোষিত ইজতেমার জামাতে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। এতে অন্তত ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে জেলা শহর ও আশপাশ এলাকায় বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় তারা।

বার্ষিক এ জলসা বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড় শহরে ব্যাপক হামলা-ভাংচুর চালিয়েছে খতমে নবুয়ত সংরক্ষণ পরিষদসহ কয়েকটি ধর্মভিত্তিক সংগঠনের অনুসারীরা।

পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েক দিনের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জেলা প্রশাসন জলসার অনুমতি বাতিল করলেও মঙ্গলবার রাতে শহরের আহমদনগর এলাকার আহমদিয়াদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা চালানো হয়।

বিক্ষুব্ধ জনতা মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে সোয়া ১১টা পর্যন্ত শহরে ও জেলা শহরের আহমদনগরে তাণ্ডব চালায়। তারা আহমদনগরে আহমদিয়া মুসলিম জামাতের লোকজনদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায়।

এ সময় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখা বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা করে। একপর্যায়ে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এতে পুলিশসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশত আহত হন। গুরুতর আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনার পর রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবদুল্লাহ সাজ্জাদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার মো. গিয়াসউদ্দিন আহমদ, পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউস সুন্নাহ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহেতেশাম রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাঈমুল হাছানসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে যান।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মঙ্গলরাত দিবাগত সাড়ে ১১টা থেকে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শহরে ও আহমদনগর এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

হামলার ঘটনার পর রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ পরিদর্শক মজিদ আলী, জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার গিয়াসউদ্দীন আহম্মদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আহতদের দেখতে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে যান।

জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, জলসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হওয়ার পরও বিক্ষোভ করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। এজন্য তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু আহমদিয়া সম্প্রদায় বিভিন্ন সময়ে উগ্রপন্থি হামলার শিকার হয়েছে। ২০১৬ সালে রাজশাহীর বাগমারায় এ সম্প্রদায়ের একটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় আত্মঘাতী বোমা হামলায় একজন নিহত হন। মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম আহমদিয়াদের সরকারিভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে।

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট