শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও ভোটের সম্মান রক্ষা করব : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রকাশিত: ২:০৫ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০১৯

শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও ভোটের সম্মান রক্ষা করব : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেছেন, বিজয় অর্জন করা কঠিন। আবার সেই বিজয় রক্ষা করা আরও কঠিন। বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিয়েছে, এই ভোটের সম্মান আমি রক্ষা করব। দেশের মানুষ যে বিশ্বাস রেখেছে, তার মর্যাদা আমি জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও রক্ষা করব। আমি সেই ওয়াদা করেই কাজ করে যেতে চাই।

শনিবার বিকালে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন উপলক্ষে এ ‘বিজয় উৎসব’র আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা বলেন, আমার পিতা এই দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে গিয়ে জীবন দিয়ে গেছেন, জীবন দিয়ে গেছে আমার মা, আমার ভাইয়েরা। বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও উন্নত হবে, আরও বিনিয়োগ হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মানুষ ?মুক্তি পাবে। এ সময় নির্বাচনে অংশ নেয়ায় সব দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক ব্যাপার।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করেছে। এ বিজয় আপামর জনতার বিজয়। তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ শক্তি সব সময় বিজয় অর্জন করে, এই নির্বাচনে সেটাই প্রমাণ হয়েছে। যারা এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, সব রাজনৈতিক দল, সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই। নির্বাচনে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক ব্যাপার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দায়িত্ব যখন নিয়েছি, সরকার গঠন করেছি। এরপর দেশের প্রতিটি নাগরিক আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সবার সেবা করবে সরকার। যারা ভোট দিয়েছেন অথবা দেননি তাদের সবার জন্যই কাজ করবে সরকার।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৫৭টি আসনে জয় নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ভোটের ১৯ দিন পর বিজয় উৎসব পালন করল দলটি। উদ্যানের ভেতরে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে তৈরি করা হয় ‘বিজয় মঞ্চ’। এর দুই পাশে শোভা পাচ্ছিল দলের নির্বাচনী ইশতেহারের মলাটের রঙের আদলে তৈরি করা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। এছাড়া বৈঠাসহ ছোট-বড় প্রায় পঞ্চাশটি নৌকা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত ফেস্টুনে সাজানো হয় সমাবেশ মাঠ।

বিকাল ৪টা ৩৫ মিনিটে ভাষণ শুরু করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি ৩টা ৫ মিনিটে ‘বিজয় উৎসবের’ মঞ্চে উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিত লাখো মানুষ তাকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে বাংলাদেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের অনেক ঘটনার সাক্ষী সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ৩০ লাখ শহীদ, স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনে শহীদ, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মৃতিচারণ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

বেলা আড়াইটায় বিজয় উৎসবের সময় নির্ধারণ থাকলেও সকাল ১০টা থেকেই আজকের উৎসবস্থল- সোহরাওয়ার্দী উদ্যান লোকারণ্য হয়ে ওঠে। মুখরিত হয় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে মঞ্চে ‘শুকরিয়ারে শুকরিয়া, কোটি কোটি শুকরিয়া/ বঙ্গবন্ধুর নৌকা মার্কায় ভোট দিয়া’ গানটি পরিবেশন করেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্লী মমতাজ বেগম এমপি। এ সময় মঞ্চে বসে হাততালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। নেতাকর্মীরাও মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে পুরো সোহওয়ার্দী উদ্যান মুখরিত করে তোলেন। এর আগে গান গেয়ে শোনান রফিকুল আলম, ফকির আলমগীর, জানে আলম, পথিক নবী, আঁখি আলমগীর, ফাহমিদা নবী, সালমা এবং ব্যান্ডগ্রুপ- ‘জলের গান’। এরপর গান পরিবেশন করেন ‘জিতবে আবার নৌকা’র শিল্পীরা। গানের অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জয়দেব নন্দী।

এর আগে বেলা আড়াইটার দিকে সমাবেশ শুরু হয়। শুরুতেই পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠ করা হয়। প্রথমে বক্তব্য দেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে লিখিত অভিনন্দনপত্র পাঠ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এরপর মঞ্চে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতারা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে অভিনন্দনপত্রটি তুলে দেন।

বিজয় সমাবেশে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য- আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য- মতিয়া চৌধুরী ও মোহাম্মদ নাসিম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, কেন্দ্রীয় সদস্য মির্জা আজম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাওছার প্রমুখ।

এ সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য- সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের অন্যান্য নেতা ও মন্ত্রিপরিষদের বেশির ভাগ সদস্য মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে কর্মীদের সতর্ক করে শেখ হাসিনা বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে যে নিরঙ্কুশ জয় আওয়ামী লীগ পেয়েছে, জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণ করে সেই জয় ধরে রাখা কঠিন কাজ। তিনি বলেন, বিজয় পাওয়া যত কঠিন, জনগণের জন্য কাজ করে সেই বিজয় ধরে রাখা আরও কঠিন, সেই কঠিন কাজটি আমাদের করতে হবে।

তিনি বলেন, গত নির্বাচনে জনগণ মাদকের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। রায় দিয়েছে ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা চান চতুর্থবারে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়া শেখ হাসিনা।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ায় সব রাজনৈতিক দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যারা এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, সব রাজনৈতিক দল, সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই এই কারণে যে, তারা নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচনকে অর্থবহ করেছেন। তিনি আরও বলেন, আমরা এই দেশকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলব। এটাই আমাদের অঙ্গীকার। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করব। এছাড়া ভোটের পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় সেনা সদস্য, বিজিবি, পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যারা দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করেছেন তাদের আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ধন্যবাদ জানাই নির্বাচন কমিশন এবং দলের তৃণমূল কর্মীদের।

আলোর পথের যাত্রার রায় : আওয়ামী লীগ সভাপতি তার বক্তব্যে আরও বলেন, যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন এবং যারা ভোট দেননি, সবাইকে ধন্যবাদ। তবে আমরা যেহেতু সরকার গঠন করার সুযোগ পেয়েছি, জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি, আমরা সবার তরে সবার জন্য কাজ করব। সত্যিকার অর্থে সেই ভাগ্য পরিবর্তন যাতে ঘটে সে জন্য দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করতে চাই। তিনি বলেন, প্রত্যেকের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে কাজ করে যাব। রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করে প্রত্যেকটা মানুষের জীবনমান উন্নত করব। সেখানে কোনো দল ও মত দেখা হবে না। প্রতিটি জনগণ প্রতিটি নাগরিক আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সেবা করার দায়িত্ব জনগণ আমাদের দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে। কামার, কুমার, জেলে, কৃষক, শ্রমিক, মজুর সকল স্তরের মানুষকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আপনারা রায় দিয়ে আমাদের সুযোগ দিয়েছেন আপনাদের সেবা করার। জনগণের এ রায় অন্ধকার থেকে আলোর পথের যাত্রার রায়।

তিনি বলেন, আমরা জনগণের কাছে যে অঙ্গীকার করেছি সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। যে কোনো ত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, তাদের ভোটের মর্যাদা আমাদের রাখতে হবে।

প্রশাসনের পর দলের নেতাকর্মীদেরও দুর্নীতিবিরোধী বার্তা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে জনগণ জঙ্গি, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। শান্তি ও উন্নয়নের সপক্ষে রায় দিয়েছে। অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রার জন্য রায় দিয়েছে। তিনি বলেন, তরুণদের জন্য সুন্দর বাংলাদেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার এবং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে রায় দিয়েছে জনগণ। মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দেশ গড়ে তোলার রায় দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা যে অঙ্গীকার করেছি, সেই অঙ্গীকার আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার পক্ষে রায় দিয়েছে দেশের মানুষ। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন যেমন বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এবং যেন বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে পারে, সেভাবে আমরা আমাদের দেশকে গড়ে তুলতে চাই। সে জন্য যা যা করা দরকার করব। প্রতিটি গ্রাম শহরের সকল নাগরিক সুবিধা পাবে। তৃণমূলে মানুষের জীবন উন্নত করব। শিক্ষার আলো প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় হবে, প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।

’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ সপরিবারের হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ধানমণ্ডির বাড়িতে ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বাবা-মাসহ সপরিবারে হত্যা করা হয়। এমনকি আমার ছোট ভাই শেখ রাসেলকেও পর্যন্ত হত্যাকারীরা ক্ষমা করেনি। কারণ তাদের চাওয়া ছিল বঙ্গবন্ধুর কোনো রক্তের চিহ্ন রাখা হবে না। আমিসহ ছোট বোন শেখ রেহানা বিদেশে ছিলাম বলে বেঁচে গেছি। আমরা দেশে ৬ বছর আসতে পারিনি। পরে দেশে এসে দেখেছি মানুষের ক্ষুধার যন্ত্রণা। তখনই প্রতিজ্ঞা করে দেশের মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছি। ব্যক্তিগত জীবনে আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আমার একটাই চাওয়া দেশের একটি মানুষও ক্ষুধার্ত থাকবে না। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। সেটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। কি পেলাম আর কি পেলাম না, সেটি বড় কথা নয়, দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলবোই। প্রতিটি গ্রাম, আমার গ্রাম, আমার শহর। সেইভাবেই গড়ে তুলব। প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা দারিদ্র্যের হার কমিয়েছি। দেশকে আমরা দারিদ্র্য মুক্ত করব। ২০২০ সালে আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন করব, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করব ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত দেশে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ দেশ। ২০৭১ সালে আমাদের নতুন প্রজন্ম উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে স্বাধীনতার শতবর্ষ পূর্তি উদ্যাপন করবে। ২১০০ সালের মধ্যে ডেল্টা প্ল্যানের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্থায়ীভাবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের বিশ্বাস করে বাংলাদেশের জনগণ তাদের মূল্যবান ভোট দিয়েছে, সেই ভোটের সম্মান আমি রক্ষা করব।

জাতির পিতার স্মৃতিচারণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা এই মাঠে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন- বাংলার মানুষকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। আজ প্রমাণ হয়েছে, বাংলার মানুষকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি, পারবে না। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিজ্ঞা কারও কাছে মাথা নত করে নয়, বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে চলবে- বিজয়ের সমাবেশে আমাদের প্রতিজ্ঞা।

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার কয়েকটি পঙ্ক্তি উচ্চারণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, নির্বাচনের আগেও বলেছি, আজও বলে যেতে চাই- ‘চলে যাব, তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ/ প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল/এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি/ নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ দেশ, বাংলাদেশ হবে সোনার বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন। আসুন সবাই মিলে সেই প্রতিজ্ঞা করি যে কোনো ত্যাগের বিনিময়ে এই বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলি।

  •