৫ বছরের মধ্যে সিলেটকে ভিক্ষুকশুন্য করতে চান ড. মোমেন

সিলেট বিভাগ

আগামী ৫ বছরের মধ্যে সিলেট নগরীকে ভিক্ষুকশুন্য করতে চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। মন্ত্রী বলেন, তার কোন এজন্ট নেই। তার নামে কেউ তদবির করলে তাকে জানাতে বলেন তিনি। তিনি উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করার ওপরও তাগিদ দেন।
বুধবার নগরীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বাদাঘাট বাইপাস সড়কের কাজের অগ্রগতির উপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, পাথর বোঝাই ট্রাকের কারণে আম্বরখানায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বাদাঘাট সড়ক হলে সেই ভোগান্তি থেকে নগরবাসী রক্ষা পাবেন। এ ব্যাপারে তিনি কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেন। সিলেটের গ্যাস সমস্যা সম্পর্কে বলেন, গ্যস সংযোগের ব্যাপারে তিনি জ্বালানী উপদেষ্টার সাথে কথা বলেছেন। উপদেষ্টা কিছু দিনের মধ্যে সিলেট আসবেন-তখন এব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।
এদেশের মানুষ খুবই কর্মঠ, প্রগতিশীল ও অসম্ভব উদ্ভাবনী ক্ষমতা সম্পন্ন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই। আমাদের জিডিপির হার ৭ দশমিক ৮। এই হার আমরা ১০-এ নিয়ে যেতে চাই। আর তা সম্ভব করতে সকলে এক সাথে কাজ করতে হবে। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী খুবই ডায়নামিক মানুষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের কাজ শুরু হয়েছে। বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় কালে তিনি বলেন, মূলত কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য এ মতবিনিময়। বিশেষত সিলেট-১ এর প্রতিনিধি হিসেবে তার নিকট জনগণের বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশা রয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়নই তাঁর কাজ। এসব বাস্তবায়নে আপনাদের সহায়তা প্রয়োজন।

কেউ অন্যায় তদবির করলে অবশ্যই তা গ্রহণ করবেন না। এসময় তিনি ২৫০ শয্যার সিলেট সদর হাসপাতাল, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬লেনে উন্নীতকরণ, রেল যোগাযোগ উন্নয়নসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা কথা তুলে ধরেন। তিনি কর্মকর্তাদের বলেন, দ্রুত কাজ করুন। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা নতুন থাকা অবস্থা কাজ আদায় করে নিতে হবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলামের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী ও সিলেট রেঞ্চের ডিআইজি কামরুল আহসান প্রমুখ। পরে তিনি সিলেট জেলা পরিষদের দেয়া সংবর্ধনায় যোগদান করে। জেলা পরিষদ হলে অনুষ্ঠিত তাকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ, জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আহমদ আল কবীর প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা দেবজিৎ সিনহা। মাছুম আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শামীম আহমদ। পরে মন্ত্রী সেখান থেকে তার বাসভবন ধোপাদিঘীর পাড়স্থ হাফিজ কমপ্লেক্রো আয়োজিত দোয়া মাহফিলে যোগদেন। বেলা ১টার পর সেখানে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। সেখানেও সর্বস্তরের মানুষ ফুলে ফুলে মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান এবং মন্ত্রীও সকলের সাথে কুশল বিনিময় করেন।

Leave a Reply