ড. কামাল ‘মাকাল ফল’ বললেন মতিয়া চৌধুরী

প্রকাশিত: ১০:৫১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮

ড. কামাল ‘মাকাল ফল’ বললেন মতিয়া চৌধুরী

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে এবার ‘মাকাল ফল’ বলে অভিহিত করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, কামাল হোসেনের বাইরে একরকম, আর ভেতরে আরেক রকম।

শনিবার তার নির্বাচনী এলাকা শেরপুরের নকলা উপজেলার টালকি ইউনিয়নের মুক্তিরবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মতিয়া চৌধুরী সাংবাদিকদের ‘খামোশ’, ‘দেখে নেব’ হুমকির বিষয়ে ড. কামাল হোসেনের কঠোর সমালোচনা করে তাকেই দেখে নেয়ার হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

তিনি বলেন, আপনি এমন কেউ নন যে আপনার হুমকিতেই দেশের বিবেকবান সাংবাদিক সমাজ ও জনগণ চুপসে যাবে। বরং আমি একাই আপনাকে দেখে নিতে পারি। আপনি আইনের লোক, দরকার হলে আইনের মাধ্যমেই আপনাকে দেখে নেব।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, আপনি ক্ষমতার লোভে যুদ্ধাপরাধী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জোট করে দেশের রাজনীতিটাকে কোথায় নিয়ে যেতে চাইছেন, জাতি তা বুঝতে পারছে। কোথায় আজ আপনার বিবেক, মানবতা বা মানবাধিকার?

কৃষিমন্ত্রী সরকারের ১০ বছরের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তার ধারাবাহিকতা রক্ষায় আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নৌকায় ভোট দিলে দেশ ও জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়, দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যায়। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে লুটপাট ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় হাওয়া ভবন।

তিনি জ্বালাও-পোড়াও ও নৈরাজ্যের কথা স্মরণ করে এবারের নির্বাচনে তাদের প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে শুক্রবার রাতে নকলার টালকি ও নারায়ণখোলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই নেত্রী বলেন, এ আসনে বিএনপি প্রার্থী নিজের অবস্থান আঁচ করতে পেরেই পরিকল্পিতভাবে দলীয় নেতাকর্মীদের সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এ বিষয়ে তিনি ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে নির্বাচনী কাজ পরিচালনা করতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

এরপর তিনি টালকি ইউনিয়নের রামেরকান্দি, বিবিরচর ও সাইলামপুর এলাকায় আয়োজিত পৃথক নির্বাচনী পথসভাতেও বক্তব্য রাখেন।

নির্বাচনী সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম সোহাগ, পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন প্রমুখ।