আজ খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকার দাবিতে বিএনপির জনসভা

প্রকাশিত: ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮

আজ খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকার দাবিতে বিএনপির জনসভা

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ রবিবার বিএনপির ঐতিহাসিক জনসভা। দলের শীর্ষ নেতারা এই সমাবেশে আগামী দিনের কর্মসূচির বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেবেন। গতকাল শনিবার মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ২২ শর্তে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিএনপির জনসভা সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বৃহত্তর ঢাকার বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপি নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ জনসভায় যোগ দেবেন। : রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের বেলা দুটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত জনসভার অনুমতি দিয়েছে। ইনশাল্লাহ, রবিবার একটি সফল জনসভা হবে। এই জনসভায় গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। : এর আগে গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সমাবেশের অনুমতি নিতে ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে বিএনপির দুই সদস্যের প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবসুদ সালাম আজাদ ছিলেন। প্রতিনিধি দলে থাকা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ জানান, মহানগর পুলিশ কমিশনার আধা ঘন্টা তাদের সাথে বৈঠক করেছেন। আমরা সমাবেশের অনুমতি পেয়েছি। আজ রবিবার দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরু হবে। : জানা গেছে, বিএনপি সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্ব শর্ত হিসেবে সমাবেশ থেকে ৭ দফা দাবি তুলে ধরবে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে, তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙ্গে দেয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। এ বিষয়ে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সমাবেশের জন্য ডিএমপি অনুমতি দিয়েছে। আজ রবিবার বেলা একটা থেকে বিএনপির সমাবেশ শুরু হবে। বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে সমাবেশ শেষ করার পরিকল্পনা আছে। ২৪ সেপ্টেম্ব^র বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একই সঙ্গে ২৯ সেপ্টেম্ব^র সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়। পরে ২৯ তারিখ বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এরপর বিএনপি ৩০ তারিখ সমাবেশ করার অনুমতি চাইলে পুলিশ তাদের সমাবেশ করার অনুমতি দেয়। : ডিএমপির শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে : সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী, রাষ্ট্র ও জননিরাপত্তা পরিপন্থী কোনো কার্যকলাপ পরিচালনা করা যাবে না, উসকানিমূলক কোনো বক্তব্য এবং প্রচারপত্র বিলি করা যাবে না, ধর্মীয় অনুভূতিতে  আঘাত আনে- এমন কোনো ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন, বক্তব্য প্রদান ও প্রচার করা যাবে না। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অভ্যন্তরে সমাবেশের যাবতীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে হবে, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আইডিকার্ডসহ নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিয়োগ করতে হবে, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনসভাস্থলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি প্রবেশ পথে আর্চওয়ে স্থাপন করতে হবে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনসভাস্থলে আসা প্রতিটি যানবাহন তল্লাশি করতে হবে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনসভাস্থলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখতে হবে, অনুমোদিত স্থানের বাইরে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে না। অনুমোদিত স্থানের বাইরে সড়ক ও ফুটপাতে প্রজেকশন ব্যবহার করা যাবে না, অনুমোদিত স্থানের বাইরে সড়কে অথবা ফুটপাতে সমবেত হওয়া যাবে না, আজান, নামাজ এবং ধর্মীয় সংবেদনশীল সময় মাইক চালু রাখা যাবে না। জনসভার মঞ্চ অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না, জনসভার ২ ঘণ্টা পূর্বে মানুষ জনসভাস্থলে আসতে পারবে, বিকেল ৫টার মধ্যে জনসভা শেষ করতে হবে, মিছিল সহকারে জনসভায় আসা যাবে না। ব্যানার- ফেস্টুনের আড়ালে কোনো ধরনের লাঠি, সোটা, রড আনা যাবে না, শর্ত না মানলে তাৎক্ষণিকভাবে অনুমতি বাতিল বলে গণ্য হবে, জনস্বার্থে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই কর্তৃপক্ষ এই অনুমতি বাতিল করতে পারবে।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট