রশীদ আহমদের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে : বেঈমান-মীরজাফরদের বিচার প্রকৃতিই করবে

প্রকাশিত: ১১:৪৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮

রশীদ আহমদের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে : বেঈমান-মীরজাফরদের বিচার প্রকৃতিই করবে

এম. রশীদ আহমদ : প্রিয় সুহৃদ-স্বজন-রাজনৈতিক শ্রদ্ধাভাজন ও সহযোদ্ধা আসসালামু আলাইকুম/আদাব,
দীর্ঘ এক মাস পর আজ কিছু লিখছি। এখনও পুরোপুরি সুস্থ নই। নিয়মিত চিকিৎসাধীন আছি। উন্নত চিকিৎসা নিতে অন্যত্র যাওয়ার চেষ্টায় আছি।আপনারা সকলেই জানেন বাঙালির শোকের মাস আগস্টের ১৯ তারিখ রাতে এক আকস্মিক নৃশংস, কাপুরুষোচিত হামলার শিকার হই। মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে আলিঙ্গন করেও পরম করুনাময় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানি, আপনাদের সকলের দোয়া ও ভালোবাসায় নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।

সে রাতে আত্মীয় স্বজনের বাইরেও দলের শত শত নেতা-কর্মীদের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, হাসপাতালে ছুটোছুটি, নির্ঘুম রাত কাটানো ও সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত করার জন্য আপনাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনারা সকলেই আমার আত্মীয়, সকলেই আমার স্বজন। আপনাদের এই নিঃশর্ত ভালোবাসার জন্যই আমার এই দ্বিতীয় জীবন।

পূণ্যভূমি সিলেটে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হামলা আরও অনেক হয়েছে। প্রতিহিংসার রাজনীতি চর্চায় কর্মীদের নিষ্পাপ রক্তে রঞ্জিত হয়েছে সিলেটের রাজপথ। তাদের অনেকেই আমার মত সৌভাগ্যবান ছিলেন না। আমি এক্ষেত্রে হয়ত একটু বেশিই সৌভাগ্যবান। রাজনৈতিক এক পরিবারে আমার বেড়ে উঠা। ছোটবেলা থেকেই দেখে বড় হয়েছি কিভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়, মানুষকে ঘৃণা নয়-কিভাবে নিঃশর্ত ভালোবাসতে হয়।

জেনেশুনে জীবনে কখনো কারো অনিষ্ট করিনি। রাজনীতি মানে অপরের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করার শিক্ষা ও মূল্যবোধে আস্থা রেখেই রাজনীতির প্রতি উৎসাহী হয়েছি। বলাবাহুল্য, পারিবারিক ঐতিহ্যেই বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমার ধমনীর রক্তে, আদর্শে বহমান। তাই বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের রাজনীতি আমার কৈশোর যৌবনের প্রেম। রাজনীতিকে কখনোই ব্যক্তিগত বা বৈষয়িক সাফল্য লাভের সিঁড়ি হিসেবে দেখিনি। একটা আদর্শিক চেতনা, সেবা ও প্রেরণার ক্ষেত্র হিসেবেই বরাবর দেখেছি। যারা রাজনীতিকে ব্যক্তিগত ও বৈষয়িক সাফল্য লাভের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছেন-দলীয় পদ পদবী কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, লুটপাট, অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দিয়েছেন-তারাই সম্প্রতির রাজনীতিকে কলুষিত করেছেন।

জেনেশুনে কোনোদিন অন্যায়কে প্রশ্রয় দিইনি। যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি। দলের একজন ক্ষুদ্রকর্মী হিসেবে নিজেকে সবসময় সর্বোচ্চ নিবেদন করেছি। সেই আমার উপর হামলার এতোদিন পরেও কোন অপশক্তির ইশারায়, ইঙ্গিতে পুলিশ দোষীদের খুঁজে পায় না এটা জানতে খুব মন চায়।
আমি রশিদ রাজনীতির মাঠে কোনো রাঘব বোয়াল নই, সেয়ানা কোনো নেতা নই, কারো তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিও নই-এই আমাকে হত্যার জন্য রাঘব বোয়ালদের এমন আয়োজন দেখে অবাক হয়েছি। আমি অকৃত্রিম আওয়ামী পরিবারের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। আমার রক্তে মুক্তিযুদ্ধের আপোসহীন চেতনার ধারা প্রবাহমান। আমাকে হত্যা অপচেষ্টার যারা খলনায়ক তাদের বিচার একদিন হবে। প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় না হোক প্রকৃতি তার নিয়মে এই বেঈমানদের, মীরজাফরদের বিচার করবে। সেদিন অবশ্যই আসবে।

একবার প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে এক শহীদ ছাত্রনেতার ভাস্কর্যের পাশে লেখা দেখেছিলাম, ১যতবার হত্যা করো-জন্মাব ততবার/ দারুণ সূর্য হব-লিখব নতুন ইতিহাস।’

আমি হয়ত দারুণ সূর্য হবো না, নতুন ইতিহাস লিখবো না—তবে যতদিন বেঁচে থাকি অন্যায়ের প্রতিবাদ করব। আওয়ামী পরিবারের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা, শেখ হাসিনার আধুনিক উন্নত আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ার ভিশন, স্বপ্ন ম্লান হতে দেব না। দলকে যারা কলঙ্কিত করে, দুর্নামের ভাগী করে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলব। মুক্তিযুদ্ধের সুমহান স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লড়াইয়ের চির আপসহীন থাকব।
দুঃসময়, দুর্দিনের মত অনাগত দিনেও আপনাদের সকলের দোয়া ও ভালোবাসা চাই।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

লেখক : সহ সভাপতি, সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

(লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগৃহীত)

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট