আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে : মওদুদ

প্রকাশিত: ৫:৫৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে : মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের যে সুপারিশ করা হয়েছে, ‘এটাও একটি প্রতারণা। এর মাধ্যেম আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘বর্তমান বাংলাদেশে ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মওদুদ বলেন, ছাত্ররা চেয়েছে সব ধরনের সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার। এমন সংস্কার তো শিক্ষার্থীরা চায়নি। আন্দোলনকারীদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন আছে। ছাত্ররা কোটা সংস্কার চেয়েছে, যাতে সরকারি চাকরির সর্ব অবস্থায় মেধার মূল্যায়ন হয়। কিন্তু প্রস্তাব করা হলো প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা থাকবে না। কিন্তু মেধার তো দরকার যারা প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে সেখানে। যারা সেক্রেটারি থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ে থাকে, সেখানে মেধার মূল্যায়ন চায়। যারা সবকিছু পরিচালনা করে। আমরা বলব, সরকার কোটা সংস্কারের যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাও একটি প্রতারণা বলে আমি মনে করি। এটি তাদের সঙ্গে সরকারের বিশ্বাসঘাতকতা। তাই এটির পরিবর্তন দরকার।

কোটা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন বিষয়ে মওদুদ বলেন, ‘দেশের তরুণ প্রজন্ম জানত না আওয়ামী লীগ কী জিনিস। কোটা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কী আচরণ করেছে, সেটা তারা বুঝতে পেরেছে। সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাই আমাদের তরুণ প্রজন্ম আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে না।’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক বোর্ডে সরকারি এবং খালেদা জিয়ার পছন্দের চিকিৎসকরা থাকবেন বলে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। কিন্তু ওই মেডিকেল বোর্ডে অনভিজ্ঞ ও সরকারের চিকিৎসকরাই ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্যারিস্টার মওদুদ।

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট একটি প্রতারণা। সরকার খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে ছলচাতুরী করছে। যে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে, সেখানে একজনকে মোটামুটি বিশেষজ্ঞ বলা যেতে পারে। বাকিরা মাত্র পাস করে বের হয়েছে। খালেদা জিয়ার শারীরিক যেসব সমস্যা, সে বিষয়ে এদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। আমি বলব, এটাও একটা সরকারের প্রতারণা।’

মওদুদ আরো বলেন, ‘সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ড রিপোর্ট দিয়েছে, খালেদা জিয়া স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নাই। আবার তাঁরাই বলছে, খালেদা জিয়াকে পিজি হাসপাতালে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে। এটাতে তাদের নিজেদের স্ব-বিরোধিতা। আমরা খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি।

তিনি বলেছেন, যাঁরা খালেদা জিয়ার সব সময় চিকিৎসা করেছেন, তাঁদের ও সরকারের গঠিত চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে। কিন্তু তিনি সেটি করেননি।’

সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি জানিয়ে মওদুদ বলেন, ‘আর সময় নাই, সময় ফুরিয়ে আসছে, আমাদের একটি সংকটময় সময় পার করতে হবে। আমরা বিচার বিভাগ, গণতন্ত্রের, মানবাধিকারের স্বাধীনতা ফিরে পাব কি না, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তাই সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তাই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। কারণ, ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলার প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় অবধারিত ছিল, তারপরও তারা ওই সময়ের কোনো বিরোধী নেতাকে বিজয়ী হতে দেয়নি।’

নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে আর এক মাস সময় আছে। এই এক মাসে দেশের অনেক কিছু পরিবর্তন হবে। সরকার একটা নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে চায়। সে সরকারে তারাই থাকবেন, যারা বর্তমান সংসদে আছেন। নির্বাচনকালীন সরকার বলতে কোনো কিছু সংবিধানে নাই। এটা তারা নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। এখন যারা মন্ত্রী আছেন, তারাই মন্ত্রী থাকবেন। তাদের অধীনে নির্বাচন করে আবারও ক্ষমতায় থাকতে চায়। নির্বাচনকালীন সরকার বলতে কিছুই নাই, সরকার যদি তা করতে চায় তাহলে সব দলের মতামতের ভিত্তিতে করতে হবে। আর যদি অবৈধভাবে সরকার ক্ষমতায় থাকতে চায়, তাহলে দেশের জনগণ তা করতে দেবে না।’

এ সময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘জনগণের কল্যাণের জন্য সংবিধান কখনো বাধা হতে পারে না। সংবিধান পরিবর্তন করা যেতে পারে, তবে তা জনগণের কল্যাণের জন্য হতে হবে। সংবিধান কখনো বাধা নয়, সংবিধান মানুষের জন্য, সংবিধানের জন্য মানুষ নয়। তাই সংবিধানে নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করুন। সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটা নিরপেক্ষ সরকার গঠন হতে পারে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে। যাদের অধীনে নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সব দলের অংশগ্রহণে।’

অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অধ্যাপক আ স ম মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় এ সময় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আজম খান।

  •