‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করেছে সরকার’

প্রকাশিত: ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০১৮

‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করেছে সরকার’

‘কোটা আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মতো ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করেছে সরকার’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সোমবার প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত শেষে একই কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিক উপলক্ষে সংগঠনের নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘সড়ক পরিবহন আইনে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করার কথা বললেও সরকার সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর করে মন্ত্রিসভায় নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণার শামিল।’

বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, ‘তারা এর আগে বলেছিল মৃত্যুদণ্ড থাকবে। কিন্তু সর্বোচ্চ এখন পাঁচ বছর আছে। সেজন্যই বলছি এরা প্রতারণা করে। কোটা আন্দোলনেও তারা প্রতারণা করেছে। এখনো তারা প্রতারণা করছে।’

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের কথা আমাদের সন্তানরা আজকে নিরাপদ নয়। গত দুদিন ধরে তাদের ওপর যে সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন, তাদের পেটোয়া বাহিনী তাদের সন্ত্রাসীরা ছাত্রদের ওপর নির্মমভাবে অত্যাচার নির্যাতন করেছে। শুধু ছাত্র না সাংবাদিকদেরও তারা রেহাই দেয়নি। এটা নজিরবিহীন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলা করেছে ছাত্রলীগ- যুবলীগের ছেলেরা। যার বহু প্রমাণ গণমাধ্যম তুলে ধরেছে। এরপরও এ ঘটনায় সরকার বিএনপিকে জড়িয়ে মিথ্যাচার করছে।’

আরো পড়ুন…

এখন আর মামলা কোনো সমস্যা না, আমার নামে ৮৬ টা আছে : ফখরুল
‘মামলা এখন আর কোনো সমস্যা নয়। আমার নামে ৮৬টি মামলা আছে। আমাদের কোনো কোনো নেতার বিরুদ্ধে ১৫০-২০০ মামলা আছে। মামলা দিয়ে প্রতিবাদ বন্ধ করা যাবে না’ বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই মন্তব্য করেন। এর আগে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সর্বশেষ আদালতে তার নামে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে এ-সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ তিন নেতার বিরুদ্ধে আজ সোমবার দুপুরে মামলাটি করা হয়। ফখরুল ছাড়া অন্য দুই নেতা হলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এই অনুষ্ঠান শেষ করেই মামলার জামিনের বিষয়ে পরামর্শ নিতে হাইকোর্টে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের কার্যালয়ে বিএনপিপন্থি জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের সঙ্গে জামিন-সংক্রান্ত আইনি বিষয়ে পরামর্শ নেন।

দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম এ এইচ এম তোয়াহার আদালতে মামলাটি করেন এ বি সিদ্দিকী। শুনানি শেষে তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার আরজি থেকে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর একটি অডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। যে অডিও ক্লিপ থেকে শোনা যায়, কুমিল্লায় অবস্থানরত নওমি (ব্যারিস্টার মিলহানুর রাহমান নাউমি) নামের এক কর্মীর সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। নওমিকে তিনি বলছেন ঢাকা এসে লোকজন নিয়ে নেমে পড়তে।

আরজি থেকে আরো জানা যায়, অন্যদিকে মির্জা ফখরুল ও রুহুল কবির রিজভীর হুকুমে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ছাত্রদলের লোকজন ঢুকে পড়ে। ঢাকার জিগাতলায় ছাত্রদলের কর্মীরা আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা ও বিভিন্ন জায়গায় পরিবহনে অগ্নিসংযোগ, ছাত্রী ধর্ষণ ও ছাত্রছাত্রীদের নিহত হওয়ার গুজব ছড়িয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করে।

‘ঐক্য ছাড়া মুক্তি কঠিন’
দেশে চলমান ভয়ংকর অবস্থা থেকে জাতীয় ঐক্য ছাড়া মুক্তি পাওয়া খুবই কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শক্তি সব তছনছ করে দিচ্ছে। গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা করে তাদের মুখ বন্ধ করতে চাইছে। রাষ্ট্রের মেরামত প্রয়োজন, ছাত্ররা এটাই আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে। এসব অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হলে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। এ ছাড়া এই ভয়ংকর অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া খুবই কঠিন।’

‘কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। তাদের আন্দোলন আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে। ছেলেরা আমাদের এক জায়গায় আনার সুযোগ করে দিয়েছে। এখন দায়িত্বটা সব রাজনৈতিক দলের। আমরা সেই ডাকে সাড়া দিয়ে জাতীয় প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেই দায়িত্ব পালন করব।’

  •