ম্যারাডোনা মধ্যাঙ্গুলি কেন দেখালেন?

প্রকাশিত: ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৮, ২০১৮

ম্যারাডোনা মধ্যাঙ্গুলি কেন দেখালেন?

মস্কো: বিশ্বকাপে মঙ্গলবার নাইজেরিয়াকে হারানোর পর গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে দুই হাতের দুই মধ্যাঙ্গুলি কেন দেখালেন কিংবদন্তির ফুটবলার ডিয়োগো ম্যারাডোনা – তা চলছে আলোচনা-জল্পনা।

বিশ্বকাপে মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ বিজয়, মেসির গোল – এসব কিছু ছাপিয়ে গেছে ম্যারাডোনার মধ্যাঙ্গুলি প্রদর্শন এবং ম্যাচের পরপরই তার হাসপাতালে ভর্তি। ম্যাচ চলার সময় কিছুক্ষণ পরপরই ক্যামেরা চলে যাচিছল ম্যারাডোনার ওপর।

দুটো গোলের সময় তার উচ্ছ্বাস, শট মিস হলে তার আক্ষেপ এবং ক্রোধের ভঙ্গিমা এবং একটা সময় তার চোখ বুঁজে থাকা – খেলার সাথে সাথে বিশ্বের কোটি কোটি টিভিতে দর্শক তা দেখেছেন।

সাধারণত কাউকে অপমান করতে বা বিরক্তি প্রকাশ করতে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়। এটাকে খুবই অশিষ্ট অঙ্গভঙ্গী বলে গণ্য করা হয়। সে কারণে ম্যাচের পরপরই পত্র-পত্রিকায়, সোশ্যাল মিডিয়াতে মানুষজন বিস্ময় এবং একইসাথে বিরক্তি প্রকাশ করছেন, কেন তার দেশে জেতার পরও, ম্যারাডোনা এই কাণ্ড করলেন?

তার মধ্যাঙ্গুলির লক্ষ্যই বা কে ছিল বা কারা?

‘নিজেকে নিয়েই মশকরা করতে মজা পান তিনি’

কেন ম্যারাডোনা প্রায়ই অদ্ভুত আচরণ করেন – তা নিয়ে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তার সাবেক এজেন্ট জন স্মিথ।

‘১৯৮০ এবং ৯০-এর দশকে আমি যখন তার সাথে ছিলাম, তখন তার খ্যাতি যেমন ছিল, তেমনি ছিলেন প্রাণোচ্ছল।’

‘কিন্তু তার সমস্যা হচ্ছে তার ঘুম হয় না, ফলে তিনি প্রচুর ঘুমের বড়ি খান। তারপর যদি সেইসাথে পেটে মদ বা অন্য কিছু (নেশার) দ্রব্য পেটে পড়ে, তখন প্রতিক্রিয়া হয়।’

‘তিনি মাঝেমধ্যে নিজেকে নিয়ে মশকরা করতে উপভোগ করেন।’

‘আমি বুঝতে পারি কেন মানুষ তার সমালোচনা করে, কিন্তু খুবই উষ্ণ হৃদয়ের মানুষ তিনি। অন্যকে যথেষ্ট সম্মান করেন।’

শিরোনামে বার বার

শুধু মঙ্গলবারের ম্যাচ নয়, এই বিশ্বকাপে এর আগেই অন্তত দুইবার বিতর্কিত আচরণের জন্য খবরের শিরোনাম হয়েছেন ম্যারাডোনা। ১৬ই জুন আর্জেন্টিনা-আইসল্যান্ড ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা স্বত্বেও গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে চুরুট টেনেছেন।

এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার একজন ফ্যান তার নাম ধরে চিৎকার করে হাত নাড়লে, জবাবে ম্যারাডোনা আঙ্গুল দিয়ে নিজের চোখে টেনে ধরে সরু করে ফেলেন। এই আচরণকে অনেকেই তখন বর্ণবাদী বলে ব্যাখ্যা করেছেন।

মঙ্গলবার তার বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনকেও টুইটারে অনেকেই বর্ণবাদী বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের বক্তব্য, তার উদ্দেশ্য ছিল নাইজেরিয়ার সমর্থকরা – যারা কৃষ্ণবর্ণের।

তবে তার মত একজন খ্যাতনামা ফুটবল ব্যক্তিত্ব কীভাবে এমন ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ‘কুৎসিত’ ভঙ্গি করতে পারেন- বহু মানুষই তা নিয়ে বিস্ময় এবং নিন্দা প্রকাশ করেছে।

ল্যাটিন আমেরিকার একটি পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছে, ‘ঈশ্বরের হাত থেকে লজ্জার আঙ্গুল’

প্রোলাকটানিকা নামে একজন টুইট করেছেন – ‘এই লোকটিকে স্টেডিয়ামে নিষিদ্ধ করা উচিৎ, আর্জেন্টিনার জন্য তিনি একটি লজ্জা।’

সাবেক ইংলিশ ফুটবলার এবং বিবিসির ফুটবল ভাষ্যকার গ্যারি লিনেকার বলেছেন, বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন ম্যারাডোনা।

‘তিনি নিজেই নিজেকে ছোটো করেছেন। সবাই জানে তিনি খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন, কিন্তু তাই বলে এতটা?…এমন করলে হাসির পাত্র হয়ে উঠবেন তিনি।’

আর্জেন্টিনা দল কী বলছে ম্যারাডোনার কাণ্ড-কারবার নিয়ে? শোনা যায় নি। তবে ২০১২ সালে এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেছিলেন, ২০১০ সাল থেকে তার সাথে ম্যারাডোনার কোনো কথা হয়নি।

‘তার যেমন নিজস্ব জীবন রয়েছে, আমারও তেমন রয়েছে। যেহেতু আমরা দুজন দুজনের সাথে কথা বলিনা, সুতরাং আমাদের সম্পর্ক ভালো।’

আর্জেন্টিনা দল এবং ফ্যানরা আশা করছে ফ্রান্সের সাথে নক-আউট ম্যাচের দিন ম্যারাডোনা যেন আবার দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানোর মত আচরণ না করেন।