খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে সিদ্ধান্ত ২ জুলাই

প্রকাশিত: ৩:২২ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০১৮

খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে সিদ্ধান্ত ২ জুলাই

কুমিল্লায় পেট্রোল বোমায় বাস পুড়িয়ে মানুষ হত্যার মামলায় খালেদা জিয়াকে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকবে কি না, আপিল বিভাগ সেই সিদ্ধান্ত জানাবে ২ জুলাই।

হাই কোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ রবিবার আদেশের এই তারিখ ঠিক করে দেয়।

আর কুমিল্লায় কভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় খালেদার জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ যে লিভ টু আপিল করেছে, তা সোমবার শুনবে সর্বোচ্চ আদালত।

কুমিল্লার হত্যা মামলায় লিভ টু আপিলের ওপর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন এজে মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমেদ, জয়নুল আবেদীন ও মাহবুব উদ্দিন খোকন।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ডের রায়ের পর সাড়ে চার মাস ধরে বন্দি খালেদা জিয়া ইতোমধ্যে ওই মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। কিন্তু কুমিল্লার নাশকতার দুটিসহ কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় তার মুক্তি আটকে যায়।

সেই পথ খুলতে মামলাগুলোতে হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। গত ২৮ মে হাই কোর্ট কুমিল্লার মামলা দুটিতে জামিন মঞ্জুর করলে ঈদের আগে বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়ে আশাবাদী হয়ে ওঠেন দলটির নেতারা।

কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে চেম্বার আদালত ওই জামিন স্থগিত করে দেয়। পরে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ ওই স্থগিতাদেশ বহাল রেখে ২৪ জুন লিভ টু আপিল শুনানির তারিখ দিলে ঈদের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি আটকে যায়।

এর ধারাবাহিকতায় অবকাশ ও ঈদের ছুটি শেষে রোববার সুপ্রিম কোর্ট খোলার পর সকাল পৌনে ১০টার দিকে সর্বোচ্চ আদালতে লিভ টু আপিলের শুনানি শুরু হয়।

শুরুতেই অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম কুমিল্লায় পেট্রোল বোমায় বাস পুড়িয়ে মানুষ হত্যার মামলার অভিযোগপত্র, ঘটনার কিছু স্থিরচিত্র এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন থেকে ঘটনার ভয়াবহতা ও মামলার আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন।

২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ ও আট যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনার আগে দলের নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে খালেদা জিয়ার কথোপকথনও মাহবুবে আলম শুনানিতে তুলে ধরেন।

পরে খালেদা জিয়াকে এ ঘটনার ‘নির্দেশদাতা’ হিসেবে বর্ণনা করে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, “হরতাল ও অবরোধ এক বিষয় না। হরতাল ও অবরোধের মাঝে পার্থক্য হচ্ছে, হরতালে সীমিতভাবে গাড়ি চলে, দোকানপাটও খোলা থাকে। আর অবরোধে গাড়ি চলতে দেওয়া হয় না। সবকিছু অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। তখন লাগাতার অবরোধ চলছিল। তাছাড়া অবরোধ সফল করার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়াই তখন প্রধান ব্যক্তি। টেলি কথপোকথনেই প্রমাণ হয়, খালেদা জিয়ার নির্দেশেই ওই ঘটনা ঘটেছে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এতবড় নৃসংশ ঘটনায় করা মামলার প্রধান ব্যক্তি হওয়ার পরও যদি তাকে জামিন দেওয়া হয়, তবে এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তি ব্যক্তি ও তাদের পরিবারগুলোর কছে কী বার্তা যাবে? ফলে আমার আরজি হল, হাই কোর্টের দেওয়া জামিন বাতিল করা হোক।’

এরপর প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জানতে চান, এ বিষয়ে তার আরও কিছু বলার আছে কি না।

তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আরেকটু আছে। আগামীকাল করতে চাচ্ছি।’

প্রধান বিচারপতি তখন বলেন, ‘আগামীকাল (সোমবার) আমাদের একজন ব্রদার জাজ থাকবেন না। দেশের বাইরে যাবেন। তাহলে আগামী সোমবারের পরের সোমবার শুনব।’

খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করলে আদালত এ আবেদনের ওপর তাদের শুনানি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

খন্দকার মাহবুব শুনানিতে বলেন, “খালেদা জিয়ার সম্মানহানী করতেই পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। বিরোধীদলের ওপর দোষ চাপিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে সরকারের এজেন্টরা পেট্রোল বোমা মেরে নাশকতা করেছে। তার দায়-দায়িত্ব বেগম খালেদা জিয়ার না।

‘এ মামলার এফআইআরএ ৫৬ জনের নাম ছিল, সেখানে খালেদা জিয়ার নাম ছিল না। পরে দ্বিতীয়বার অভিযোগপত্রে তার নাম ঢুকানো হয়েছে। আর যদি ধরেও নেওয়া হয়, তিনি নির্দেশদাতা; তবে যাদের তিনি নির্দেশ দিলেন তাদের সবাই তো জামিনে আছেন।’

খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল অভিযোগপত্র, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ছবি দেখালেন। আমরা কি মামলা বাতিল চাইতে এসেছি? এসেছি জামিনের জন্য। ৭০ বছর বয়সী অসুস্থ একজন নারী। যিনি জীবন ঝুঁকিতে রয়েছেন। ফলে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখার জন্য প্রর্থনা করছি।’

এ আবেদনে শুনানি শেষ হলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এ আবেদনটির আদেশ আগামী ২ জুলাই। আর ১০ নম্বর আইটেম (বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা) আগামীকাল শুনব।

এই দুটি মামলার মধ্যে হত্যা মামলাটি দায়ের করা হয় ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় বিএনপির অবরোধের মধ্যে একটি নৈশকোচে পেট্রোল বোমা হামলায় আট যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায়।
চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান পরদিন খালেদাকে হুকুমের আসামি করে মামলা করেন।

কুমিল্লার বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলাটিও নাশকতা নিয়ে। ওই বছরের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রামে একটি কভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পরে চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করা হয়।

২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ওই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। তাতে খালেদা জিয়াসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়।

বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে আসছেন, সরকারই ‘ষড়যন্ত্র’ করে খালেদা জিয়ার মুক্তি আটকে রেখেছেন। তবে তা প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিষয়টি পুরোপুরি আদালতের বিষয় এবং তার উপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট