রাজনগরের ওয়াপদা বাঁধে ভাঙ্গন

প্রকাশিত: ৩:১৬ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০১৮

রাজনগরের ওয়াপদা বাঁধে ভাঙ্গন

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কালাইরগুল এলাকায় কুশিয়ারা নদীর পাড়ে মনু প্রকল্পের ওয়াপদা বাঁধে নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে করে প্রকল্পের ভেতর রাজনগরের উত্তরভাগ, মুন্সিবাজার, ফতেহপুর, সদর উপজেলার আকাইলকুড়া ও খলিলপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সময় সময়ে ওই বাঁধের ভেতর দিয়ে হাওরে পানি ঢুকে পড়ায় নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাওড় পাড়ের লাখো মানুষ।

উত্তরভাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ শাহিদুজ্জামান ছালিক জানান, এখানে যে ভাঙ্গন সৃষ্টি হচ্ছে তিন দিন ধরে পাউবো কর্তৃপক্ষকে তিনি জানিয়েছেন। কিন্তু তারা সরেজমিনে আসেনি। হাওরে পানি ঢুকে যাওয়াতে তার ইউনিয়নের ২০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তিনি দ্রুত বাঁধ মেরামতের দাবী জানান। তিনি আরো বলেন, কালারবাজার ও কেশরপাড়া এলাকায় বাঁধের ভেতর দিয়ে হাওরে প্রতিনিয়ত অল্প অল্প করে পানি ঢুকছে। সেই স্থান দুটি মেরামতের দাবী জানান।

এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন গত ১৮ জুন সোমবার থেকে কালাইরগুল বাঁধ দিয়ে হাওরে অল্প করে পানি ঢুকছে। মঙ্গলবার ভোর ছয়টায় বাঁধ ভেঙ্গে প্রবল বেগে হাওরে পানি ঢুকে। পানির প্রবলবেগে ১শ ফুট প্রশস্থ হতে পারে দূর্ঘটনাস্থল। কালাইরগুল গ্রামের ইউনুছ মিয়া ও হলদিগুল গ্রামের ফেরদৌস আলী জানান, ওই জায়গা দিয়ে ৫/৬ বছর ধরে অল্প করে হাওরে পানি ঢুকছে। কিন্তু কেউ লক্ষ্য রাখেনি। এছাড়াও ভাঙ্গন সংলগ্ন পশ্চিম পার্শ্বে পৃথক আরেক জায়গায় আরো দুবার বাঁধ ভাংলে তা মেরামত করা হয়।

এদিকে স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এভাবে প্রবল বেগে পানি হাওরে ঢুকতে থাকলে উত্তরভাগ ইউনিয়নের রাজাপুর, সুপ্রাকান্দি, সুরিখাল, সুনামপুর, উমরপুর, কান্দিগাও, শাফাতপুর, রুস্তুমপুর ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সোনাটিকি, কাজিরহাট ও মেদেনীমহল ও ফতেপুর ইউনিয়নের বেড়কুড়ি, শাহাপুর, জাহিদপুর, আব্দুল্লাহপুর এলাকাসহ শতাধিক গ্রাম ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজনগর উপজেলার এসডিও মুখলেছুর রহমান জানান, যত দ্রুত সম্ভব আমরা বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছি। এদিকে বাঁধ মেরামতে সেনাবাহিনীর একটি টিম সার্বিকভাবে সহযোগীতা করতে দেখা যায়।
এদিকে মৌলভীবাজার শহর ঘেষা মনু নদীর পানি কমে বিপদসীমার নীচে চলে গেলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত মৌলভীবাজার-শেরপুর সড়কের পৌর শহরের বড়হাট, এলজিইডি প্রাঙ্গন, সদর উপজেলা প্রাঙ্গনে এখনো পানি হাঠু সমান রয়ে গেছে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট