কাউকে তেল মারার জন্য খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করিনি : বি চৌধুরী

প্রকাশিত: ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ২, ২০১৮

কাউকে তেল মারার জন্য খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করিনি : বি চৌধুরী

‘কাউকে তেল মারা বা খুশি করার জন্য খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করি নি। তার ব্যাপারে আইনের শাসন লংঘিত হয়েছে। আদালতের আদেশ সত্বেও তাকে মুক্তি দেয়া হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

শুক্রবার রাজধানীর হোটেল মেট্রোপলিটানে বিকল্প স্বেচ্ছাসেবকধারা আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি কবিগুরুর একটি কবিতার পংক্তি উল্লেখ করে বলেন, যতটুকু দিবে ততটকু নিবে, কিন্তু আমরা কি পেলাম তিস্তার পানি নেই, পদ্মা পানি শুন্য। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ভারতকে কী কী দিয়েছেন তা জনগণকে জানানো উচিত ছিল। ভারত আমাদের ভালো বন্ধু। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা আমাদের আশ্রয় দিয়েছে, খাদ্য দিয়েছে। তাই তাদের সহযোগিতা ভোলার নয়।

বি. চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমাকে জড়িয়ে বিভিন্ন কথা বলেছেন। এ বিষয়ে আমার স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, “শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের দাবিকৃত (পরবর্তী সময়ে আমার সমর্থিত) তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাশ করার প্রয়োজনে তাড়াহুড়ার মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

তিনি বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন না হলে দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হতো। ওই সময়ে আমার দল বিএনপি নির্বাচনকে ৫ বছর ক্ষমতায় থাকার জন্য ব্যবহার করে নি। ওই বিল পাশ করার পরেই ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এ প্রসঙ্গে বি. চৌধুরী আরো বলেন, অন্যদিকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ছিল অসম্পুর্ণ, প্রশ্নবিদ্ধ এবং ওই নির্বাচন বিনাভোটে সব সংসদ সদস্য সৃষ্টি করেছে। ভোটারবিহীন ওই নির্বাচনের উপর ভিত্তি করেই বর্তমান সরকার ৫ বছর কাটিয়ে দিলো। ৪ বছর হয়ে গেলো কিন্তু আপনারা ক্ষমতা ছাড়লেন না।

বুধবার সংবাদ সম্মেলনে তার নাম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রথম কথা আমার নাম বদরুদ্দোজা, এই নামটি আমাদের প্রিয় রসুলের একটি সুন্দর পদবী। এর অর্থ হচ্ছে: ঘোর অন্ধকারে উজ্জ্বল পূর্ণ চন্দ্র। এই পবিত্র নামটি আমার স্নেহময় নানা আমার জন্য রেখেছিলেন।

তিনি বলেন, এই নামটিকে বিকৃত করে (অমুক কাকা) বলা সমীচিন হয় নি। পবিত্র কোরানুল করিমে নাম বিকৃতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মাদক ব্যবসার নামে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। তিনি দেশের প্রচলিত আইনে মাদক ব্যবসায়ীদের বিচার করার দাবি জানান।

বিকল্প স্বেচ্ছাসেবকধারার সভাপতি বিএম নিজাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের কার্যকরি সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিকল্পধারার কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রউফ মান্নান, ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, শাহ আহম্মেদ বাদল, আবুল বাশার, গণ সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি এস আই মামুন প্রমুখ।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট