আমি যখন ধরি ভালো করেই ধরি : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১০:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০১৮

আমি যখন ধরি ভালো করেই ধরি : প্রধানমন্ত্রী

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে গডফাদারদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গডফাদার কাকে বোঝাচ্ছেন তা জানি না। কিন্তু যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জলপথ, নৌপথ সব পথে নজরদারি চলছে। আমি যখন ধরি তখন ভালো করেই ধরি। কে কার ভাই, কার বোন তা দেখি না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সাম্প্রতিক ভারত সফর সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদক নিয়ে যেই গডফাদার হোক, তিনি যে বাহিনীরই হোক, এটা আমরা দেখছি না। তাই দেশের মানুষ স্বস্তিতে আছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মাদক সমাজে একটি ব্যাধির মতো, এই পর্যন্ত দশ হাজারের মতো গ্রেপ্তার হয়েছে, মাদক বিরোধী অভিযানে কোনো নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছে এমন একটি ঘটনা ঘটেনি। আপনারা খুব ভালো করেই জানেন, আমি যখন ধরি ভালো করেই ধরি।

মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের বিষয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু মাদকবিরোধী অভিযান থেমে থাকুক সেটি কি আপনারা চান? মাদকবিরোধী অভিযান এটি সবার দাবি। আপনারা শুধু অভিযানে কারা নিহত হলো সেটি দেখান। কিন্তু সাত হাজারের ওপর গ্রেপ্তার হয়েছে সেটি তো কেউ দেখান না। মাদকবিরোধী অভিযান বন্ধ হোক সেটা কি চান?। মাদক বন্ধ হলে সমাজ ভালো থাকবে। আজকে মাদকের কারণে ভাই তার বোনকে এবং ছেলে তার মাকে হত্যা করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুবই স্বাভাবিক একটি বড় ধরনের অভিযান চললে কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন কোনো অভিযানে যায় তখন তাদের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সেটার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো নিরীহ মানুষ শিকার হয়েছে সেটি দেখান। দেখাতে পারলে আমি এর বিচার করব।

মাদকের গডফাদারদের গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, গডফাদার আপনারা কাকে বলছেন সেটি আমি জানি না। কাকে আপনার গডফাদার হিসেবে বিবেচনা করছেন সেটা আপনারা ভালো জানেন। কে গডফাদার সেটি দেখা হচ্ছে না। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। কে গডফাদার, কে এর বিস্তারকারী, কার সহযোগিতায় এটি হচ্ছে এসব বিষয়ে দীর্ঘদিন খোঁজ-খবর নেওয়া হয়েছে। হুট করেই এ অভিযান শুরু করা হয়নি। আপনাদের মনে হতে পারে, হুট করে এ অভিযান শুরু হয়েছে। জলপথ, নৌপথ সব পথে নজরদারি চলছে। আমি যখন ধরি তখন ভালো করেই ধরি। কে কার ভাই, কার বোন তা দেখি না।

শেখ হাসিনা বলেন, এ পর্যন্ত যে কয়টা ঘটনা হয়েছে, মনে হয় না একটাও নিরীহ ব্যক্তি শিকার হয়েছে। গণমাধ্যমে গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলোকে বাদ দিয়ে শুধু নিহতের ঘটনাগুলোকেই সামনে আনা হচ্ছে। অভিযানে এই পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, দীর্ঘদিন গোয়েন্দা সংস্থা তথ্য নিয়ে নজরদারি চালিয়ে এরপরই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। কাকে গডফাদার বলছেন? তবে যে যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আমি যখন যা ধরি, ভালো করেই ধরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো পুরস্কারের প্রতি আমার প্রবৃত্তি নেই। আমি চাই আমার দেশের মানুষ যেন দু’বেলা দু’মুঠো খেতে পারে। আর কোনো পুরস্কারের জন্য লবিস্ট নিয়োগের আর্থিক সামর্থ্যও নেই আমার। বরং টাকা থাকলে আমার গরিবের মাঝে বিলিয়ে দিতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গ্যাস তুলতে চেয়েছিলেন আমেরিকান কোম্পানী, তা আবার ভারতের কাছে বিক্রি করতে চেয়েছিল, ভারত ও আমেরিকার এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলাম আমি, খালেদা জিয়া এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা তিস্তা ব্যারেজ করলেন কেন ? জানতেন না ব্যারেজ বানালে পানির সংকট হতে পারে। এখন পানি ভিক্ষা চাইতে হচ্ছে। আমি নাকি এক বালতি পানিও নিয়ে আসতে পারি নাই। এক বালতি পানি রিজভীকে পাঠিয়ে দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান সেনা প্রধান থাকা অবস্থায় অস্ত্রের মুখে তখনকার রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সায়েমকে সরিয়ে নিজেই রাষ্ট্রপতি হয়ে হ্যাঁ না ভোট দিয়েছিলেন। তখন বদু কাকা কোথায় ছিলেন?

রোহিঙ্গা ইস্যু ও তিস্তা পানি চুক্তি প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নিয়ে, সব কিছু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এবার আমি গিয়েছি বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করতে। তাই সেটিকেই জোর দিয়েছি। রোহিঙ্গাদের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের আশ্বাস দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য যথেষ্ট রিলিফ পাঠিয়েছে ভারত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ২০০৯ সালে এই ভবন নির্মাণ করার মনস্থির করি। বাংলাদেশ ভবন রক্ষণাবেক্ষণে ১০ কোটি স্থায় তহবিল আমরা গঠন করব। এই তহবিল থেকে অর্জিত লভ্যাংশ থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশের ১০ শিক্ষার্থীকে এমফিল ও পিএইচডি অর্জনের জন্য ফেলোশিপ দেয়া হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে যৌথ ইশতেহারে ‘বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণের’ কথা উল্লেখ করা হয়। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির বাংলাদেশ সফরের সময় ২০১৩ সালে এ বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, এরই অংশ হিসেবে আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্থাপত্য অধিদফতর যৌথভাবে এ ভবনটি নির্মাণ করেছে। এতে ২৫ কোটি ভারতীয় রুপি খরচ হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ মে দুই দিনের সরকারি সফরে কলকাতা যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে শান্তি নিকেতনে বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশে ভবন’ উদ্বোধন করেন।

এ সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ভবনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন এবং বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে সম্মানসূচক ডি-লিট (ডক্টর অফ লিটারেচার) ডিগ্রি গ্রহণ করেন।

সফরে শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এই সফরে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রণাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজোড়িত ‘জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ি’ এবং কলকাতায় ঐতিহাসিক ‘নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু’ জাদুঘর পরিদর্শন করেন।

  •