দুর্নীতি অনেক সহ্য করেছি, আর করবো না : বি চৌধুরী

প্রকাশিত: ২:০৪ পূর্বাহ্ণ, মে ২৮, ২০১৮

দুর্নীতি অনেক সহ্য করেছি, আর করবো না : বি চৌধুরী

ভবিষ্যতে যারাই ক্ষমতায় আসতে চান, তারা যেন বুঝতে পারেন, দেশের মানুষ দুর্নীতিকে ঘৃনা করে। ‘দে হেইট অল কাইন্ডস অব করাপশন’। আমরা করাপশন (দুর্নীতি) সহ্য করতে রাজি নই, অনেক সহ্য করেছি, আর করবো না’ বলে হুশিয়ার করেছেন যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর এশিয়া হোটেলে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, ঢাবির অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ প্রমুখ।

বি চৌধুরী বলেন, এটাই এই সরকার এবং ভবিষ্যতের যেকোনো সরকার, যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে থাকবেন না, যারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাজ করবেন না, যারা গণতন্ত্রকে অস্বীকার করবে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে আছি। আমরা তাদেরকে অস্বীকার করবো। বাংলাদেশের মুক্তির একটাই পথ, আমি আবারও বলছি, কেউ দুঃখিত হবেন না, মন বেজার করবেন না, একটাই পথ, আমাদেরকে জাগিয়ে দিতে হবে, আমাদের পেছনে সংহত হতে হবে, আমাদের পেছনে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে মাহাথির খুব প্রাসঙ্গিক। নজিব সাহেব দেশটাকে খুব উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু কর্ম সারা করে দিয়েছেন দুর্নীতি করে। মাহাথির জনগণকে নিয়ে যে বিদ্রোহ করেছিল, সেটা ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে। তিনি একটা কথাই বললেন, আমার দেশে এই দুর্নীতি আমরা সহ্য করবো না। সেই দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র, বাস। ওয়ান-টু-থ্রি-ফোর।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা অনেক গুম, নিহত দেখেছি। গ্রেনেড মারা দেখেছি। আর সহ্য করব না। আমরা অনেক অগণতন্ত্র দেখেছি। সুপ্রিম কোর্টের বিচারের পরে আইন মানা হয় না। ট্রাইবুনালের বিচারের পরে রায় মানা হয় না। হাজার হাজার মানুষ জেলের ভেতরে আছে, কতদিন চলবে এগুলো?’

বি. চৌধুরী আরো বলেন, ‘আমরা সহ্য করতে রাজি না। বাংলাদেশের জনগণ জেগে উঠেছে এবং এই জাগরণ থাকবে ইনশল্লাহ। আমরাও তাদের সঙ্গে থাকব।’

প্রসঙ্গত, বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক জোট গত বছরের ৪ ডিসেম্বর আত্মপ্রকাশ করে। ওইদিন রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় এক বৈঠকে ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে এই জোট গঠন করা হয়। প্রাথমিকভাবে যুক্তফ্রন্টে চারটি দল রয়েছে। দলগুলো হলো- বিকল্পধারা বাংলাদেশ, আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট