জেলা কমিটি থেকে মতিয়াকে প্রত্যাহারের সুপারিশ

প্রকাশিত: ৫:০০ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০১৮

জেলা কমিটি থেকে মতিয়াকে প্রত্যাহারের সুপারিশ

শেরপুর : শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে জেলা আওয়ামী লীগ থেকে প্রত্যাহারের জন্য দলের কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করেছে শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগ।

একই সঙ্গে ওই সভায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফজলুল হক চাঁনসহ দলের পাঁচ নেতাকে জেলা কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া, নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

শনিবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলা জেলা আ’লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এসিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

শহরের চকবাজারে জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাতে জেলা আ’লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের জানানো হয়।

বহিষ্কৃতরা হলেন-শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামছুন্নাহার কামাল, নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল হক মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুল হক ও নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ।

শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ আতিউর রহমান আতিকের সভাপতিত্বে সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির ৭১ সদস্যের মধ্যে ৫২ জন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল, জাতীয় পরিষদ সদস্য মো. খোরশেদুজ্জামান চেয়ারম্যান, সহ-সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন মিনাল ও সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল হাসান উৎপল প্রমুখ।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন- কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা, সরকার গোলাম ফারুক, শাহ মো. বুরহান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম চেয়ারম্যান, ঝিনাইগাতী উপজেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম, সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান লেবু, শ্রীবরদী উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম লিটন, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত।

এ সভায় সাধারণ সম্পাদকের স্থলে ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. বুরহান উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় পুরনো দ্বন্দ্ব কাটিয়ে শেরপুর আওয়ামী লীগে সুবাতাস বইতে শুরু করে। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কমিটি গঠন, স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নসহ বিভিন্ন কারণে দলে বিরোধ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

গত ২০১৬ সালের ১১ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন পর পরই জেলা আওয়ামী লীগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ আতিক ও শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর মাঝে ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়।

২০১৭ সালের ১০ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় পর পর ৫ সভায় অনুপস্থিত থাকায় দলের ৫ নেতাকে শোকজ নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পরে তাদেরকে শোকজ করা হলে ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও কেউই শোকজের জবাব দেননি। ওই সভায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির ১ নং সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী পর পর ৫ সভায় অনুপস্থিত থাকায় তার বিষয়ে সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি বরাবরে সুপারিশ পাঠানো হয়।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট