বিচ্ছিন্ন আন্দোলন করে এ সরকার থেকে দাবি আদায় সম্ভব নয় : ফখরুল

প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০১৮

বিচ্ছিন্ন আন্দোলন করে এ সরকার থেকে দাবি আদায় সম্ভব নয় : ফখরুল

সুষ্ঠু ভোট হবে না জেনে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময় যেমন ‘সব বিরোধী দল একমত হয়ে নির্বাচন বর্জন করেছিল’, ঠিক একইরকমভাবে আগামীতে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সব বিরোধী দল একমত হয়েছিল, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তখন খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে কোনো দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তাহলে আজ কেন আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারছি না? আমাদের সবাইকে আবার নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মানুষের গণতান্ত্রিক, নাগরিক ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।’

‘দেশে যে অরাজক উপস্থিতি চলছে তার জন্য ভোটারবিহীন সরকার ব্যবস্থা দায়ী। আর সেজন্য আমরা বার বার বলছি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু সে ব্যবস্থা এখনো করার কোনো প্রক্রিয়া আমরা দেখছি না।’

বিএনপির মহাসচিব মনে করেন, এই সংকটের সূত্র সংবিধানের একটি ‘বিতর্কিত’ রায়কে কেন্দ্র করে। তিনি বলেন, ‘যখন বিচারপতি খাইরুল হক সংবিধান কাটাছেঁড়া করে একটি বিতর্কিত রায় দিয়েছেন তখনই দেশে সংকট তৈরি হয়েছে। কারণ ওই রায়ের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে ভোটারবিহীন বির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকার পথ সুগম করে দিয়েছেন।’

মির্জা ফখরুল বিচারপতি খাইরুলকে ফের ‘একদলীয় শাসন ফিরিয়ে আনার মূলহোতা’ বলেও উল্লেখ করেন। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য গণবিস্ফোরণ ঘটাতে হবে মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, ‘এর কোনো বিকল্প নেই। আর সে জন্য মানুষেরর কাছে যেতে হবে, তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। কারণ এ সরকার গোটা দেশের সব শেষ করে দিয়েছে।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স (অ্যাব) আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

‘বিচারকরা উপরের নির্দেশের অপেক্ষায়’

বর্তমান সরকার সবকিছু শেষ করে দিয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এমনকি মানুষের সব শেষ আশ্রয় বিচারালয় ও তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। আমাদের এখন বলতে বাধা নেই নিম্ন আদালতের বিচারকরা অপেক্ষায় থাকে কখন উপরের মহল থেকে নির্দেশ আসবে তখন রায় ঘোষণা করবে। উচ্চ আদলতের ওপর একটা আস্থা ছিল, কিন্তু খালেদা জিয়ার মামলায় জামিনের বিষয়ে তাঁরাও সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে জামিন স্থগিত করলেন। এটি সম্পূর্ণ নজিরবিহীন।’

আর এর লক্ষ্য বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত করা বলেও মনে করেন দলের মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘তাঁর জামিনও বিলম্বিত করছে। আমাদের দেশে আইনে আছে পাঁচ বছরেরে কম সাজা হলে উচ্চ আদালত তাঁকে জামিন দিতে পারেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার বেলায় তা করা হয়নি। উদ্দেশ্য তাঁর কারাবাস দীর্ঘায়িত করা।’

খালেদা জিয়াকে নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে দলের প্রতি সরকারের বিরূপ মনোভাবের কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমরা যেখানেই প্রোগ্রাম করতে চাই সেখানে বাধা দেওয়া হয়। কোথাও জড়ো হলে বলে এখানে সভা-সমাবেশ করা যাবে না। কারণ কী? এখানে নাকি নাশকতা হবে! সরকার ও প্রশাসনের কথায় মনে হয়, তারা সবাই জ্যোতিষ, আচার্য।’

‘মিথ্যা আর প্রতারণার মডেল’

‘উন্নয়ন’ নয় বাংলাদেশ হচ্ছে ‘মিথ্যা ও প্রতারণার রোল মডেল’ এমনটা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও দলের নেতারা বলেন, আমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশ করেছি। বিশ্বের কাছে আমরা এখন উন্নয়নের রোল মডেল। কিন্তু কিসের উন্নয়ন? কোথায় উন্নয়ন? জনগণের কথা বলার, ভোটের অধিকার নেই আর সরকার বলছে উন্নয়নের রোল মডেল।’

‘দেশের সব অর্থিক খাত ধ্বংস হয়ে গেছে। ব্যাংকগুলো লুট হয়ে গেছে। এসব আমার কথা নয়। সিপিডি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক শেষ হয়ে গেছে, অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। আর সরকার বলে উন্নয়নের জোয়ার বইছে, মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। আসলে এগুলো সবই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।’, যোগ করেন বিএনপির মহাসচিব।

সভায় আরো বক্তব্য দেন পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ও ‘আমার দেশ’ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) মহাসচিব ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

  •