কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবী পূর্ণাঙ্গ নয় : আ.ম.ন জামান চৌধুরী

প্রকাশিত: ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০১৮

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবী পূর্ণাঙ্গ নয় : আ.ম.ন জামান চৌধুরী

১১ এপ্রিল ২০১৮, বুধবার : দাবীটি হওয়া উচিত ছিল কোটা বাতিলের । কোন কোটা থাকবেনা। সরকার যদি পাঁচ পার্সেন্ট সংস্কার করে বলে সংস্কার করা হলো পরবর্তীতে আরো সংস্কার করা হবে ঘরে ফিরে যাও ফিরতে হবে। সামান্য সংস্কারে জনগণের আস্থা তাদের অনুকুলে বিশ্বাস স্থাপন করবে । সরকারের মাধ্যম গুলো দিনরাত তাদের পক্ষে জনমত তৈরী করতে থাকবে । পাশাপাশি তোমাদের নেতৃত্বে ভাঙ্গন ধরাতে চেষ্টা অব্যাহত রাখবে । চিরকাল শাসকরা যা করেছে তোমাদের ব্যাপারে ও তার ব্যতিক্রম হবেনা । পারলে তোমাদের দাবী এক দফায় রুপান্তর করে জনগণকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করো। যতটা উপলব্দি করছি তাতে বুঝেছি শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ কোটা পদ্ধতি বাতিলের পক্ষে । আন্দোলন যেহেতু দীর্ঘায়িত হবে সময় পাচ্ছো সাধারণ মানুষকে আন্দোলনে নিয়ে যাবার জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে । লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনগণকে দাবীর ন্যায্যতা সম্পর্কে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে । সরকার তোমাদের আন্দোলন সম্পর্কে জনগণকে ভুলবার্তা পাঠাবে যাতে জনগণ তোমাদের ভুল বুঝবে । সরকারের নিজস্ব গণমাধ্যম রয়েছে জনগণের সাথে সম্পৃক্ত প্রতিনিধি রয়েছে এ সকল বিষয় মাথায় রেখে আন্দোলন বেগবান না করতে পারলে ব্যর্থ হবে। আবার বলছি কারো প্ররোচনায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পথ থেকে সহিংতার পথ মারাবেনা । তোমার এক ইঞ্চি সহিংস হলে সরকার তার নিজস্ব লোক দিয়ে পাঁচ কিলোমিটার সহিংস করে তুলবে ।এটা ডাবল ক্যামেরা করে জনগণের কাছে তুলে ধরবে, তোমাদের চরিত্র হননের চেষ্টা চলছে । ইতিমধ্যে সরকারের কেউ কেউ তোমারা জামাত শিবির রাজাকারদ এএবং বিরোধী দদলের ইন্ধনে এটা করছো বলে প্রোপাগান্ডা আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে দিচ্ছে । যদিও এটা মিথ্যে তোমাদের পরিচছন্ন সুন্দর সত্য কে কলংকিত করার অপচেষ্টা মাত্র । ইতিমধ্যে দেশের বিবেকবান বুদ্ধিজীবি রাজনীতিবিদ দেশ প্রেমিক সকলেই তোমাদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন ন্যায় সত্য পথে নির্মল থাকলে জন মানুষের সমর্থ আরো বাড়তে থাকবে । লক্ষ্য রাখবে কোন অবস্থাতেই জামাত -শিবীর যেন সুযোগ না পায় জামাত শিবীর থেকে লক্ষ্য মাইল দূরে থাকবে । আমি বরাবর কোটা প্রথা বাতিলের পক্ষে তোমারা চাও সংস্কার হোক তা ও এ প্রজন্মের সাহসী সন্তানেরা যদি সংস্কার করে যায় পরবর্তী প্রজন্ম এসে কোটা বাতিলের দাবী উত্থাপন করে সফলতার সহিত বৈষম্য নিরসন করবে । দ্বিতীয় কথা হলো সহিংস আন্দোলন করা ঠিক হবেনা শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে যেতে হবে । জ্বালাও পোড়াও তোমাদের আন্দোলন কে ক্ষতিগ্রস্ত করবে কারণ সহসা তোমাদের সফলতার সম্ভাবনা নেই।। সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে কোটা সংস্কার করতে যাবেনা । এত বড় ঝুঁকি নিবেনা সরকারের ছাপ্পান্ন পার্সেন্ট কোটার মধ্য রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সেনসবসহিনী বিজিবি পুলিশ উপজাতি সরকারী চাকুরীজীবীর অংশীদারিত্ব তাই সরকার এ সকল অংশিদারদের নির্বাচনের আগ মুহূর্তে নাখোশ করতে সাহস করবে না। বর্তমান সরকারের হাল বা অস্থায় যা বুঝা যাচ্ছে তাতে এটা বলা যায় যে তাদের জনগণের প্রয়োজন নেই । পাঁচ জানুয়ারী ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হলে জনগণের আসলেই প্রয়োজন নেই । অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে পাঁচ জানুয়ারীর দিকেই হাঁটছে আগামী নির্বাচন । সে রকম নির্বাচনের জন্য জনগণের চেয়ে প্রশাসনের প্রয়োজনই বেশি সরকারের । সে হিসেবে সরকার কোটা সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করবে । সরকারের হাতে ঘায়েলের মোক্ষম অস্ত্র হলো মুক্তিযোদ্ধা আসলে এদেশের কেউতো মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধতা করেনা অন্তত আমি শুনিনি রাজাকারের দলবল ছাড়া । মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমাদের সম্মান কোন কালে কোন দিন কখনো হারাবেনা আমাদের সুর্য সন্তানদের মর্যাদা দিতে জানি দিয়ে আসছি আমাদের দাবী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরী করে বর্তমান ভাতার দ্বিগুণ ভাতা দেওয়া হোক । অন্যদিকে দেশ ভুয়া ভুয়া মুক্তিযোদ্ধায় যাচাই বাছাই করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সসম্মানজনক বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করা হোক। সরকারকে বলি মুক্তিযুদ্ধ -মুক্তিযোদ্ধা আপনাদের একার নয় এটা এ জাতির প্রতিটি মানুষের অহংকার অলংকার । কোটা থেকে বাদ পড়লে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের অবমাননা হয়না এটা মতিয়াদেরকে কে বুঝাবে বলুন! মুক্তিযোদ্ধার সন্তারা কি লেখা পড়া করে বিদ্যায় মেধায় যোগ্যতায় চাকুরী পাওয়ার যোগ্তা রাখেনা ? অবশ্যই রাখে তাদের বিদ্যা মেধা যোগ্যতা আছে সে যোগ্যতা দিয়ে তারা তাদের অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে। কোটার করুনা কেন নেবে । গরীব মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের লেখা পড়ার খরচ চালাতে পারেনা যদি সেখানে রাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের খরচ বহন করবে । একজন সরকারী কর্মকর্তার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়ে বাবার সরকারী চাকুরীর সুবিধায় কোটার কারনে চাকুরী পেয়ে যাবে আর মেধাবীরা ভাঙ্গারীর দোকানে চাকুরী করবে এভাবে চলতে থাকলে একদিন রাষ্ট্র নিজেই হয়ে যাবে বড় প্রতিবন্ধী । আমি মনে করি কোটা প্রথা বাতিল করে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করে একটি কল্যাণমুখী সমাজ বিনির্মান আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত । স্বাধীনতার এত বছর পর ও আমরা অামাদের অর্থনৈতিক সামাজিক বৈষম্য দূর করার লক্ষমাত্রা অর্জন করতে পারিনি। আমাদের পরে বা সমকালীন সময়ে যে সকল দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে ইতিমধ্যে অনেক দেশ আমাদেরকে সকল ক্ষেত্রে ছাড়িয়ে স্বনির্ভর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে গেছে । আমরা ও পারতাম আমাদের ভূমি আমাদের মানব সম্পদ আমাদের প্রকৃতি জলবায়ু এগিয়ে যাবার জন্য কোন অংশে কম ছিলনা, পারছিনা তার একটাই কারণ আমাদের রাজনীতি ।শুধু ক্ষমতায় যাবার জন্য রাজনীতি মানুষের জন্য নয় । আমাদের রাজনীতি গণমানুষের হয়ে উঠেনি বলে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। জনকল্যানের জন্য কারো অবদান ইতিহাস তাকে মনে রাখে । ক্ষমতার জন্য যাদের রাজনীতি ইতিহাস তার জন্য আসন করে দেয় নিন্দিত স্থানে হিটলার মুসোলিনি হালাকুখান চেঙ্গিস তাদের পাশেই । ক্ষমতা লোভী শক্তিমানদের উদাহরণ তাদের অগ্রজ হিটলার মোসলিনি চেঙ্গিসরা কি যথেষ্ট নয়?

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট