যেভাবে গ্রেফতার করা হলো প্রতারক নাইজেরিয়ান নাগরিককে

প্রকাশিত: ১১:০১ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০১৮

যেভাবে গ্রেফতার করা হলো প্রতারক নাইজেরিয়ান নাগরিককে

যুক্তরাষ্ট্রে একটি সেমিনারে অংশ নেয়ার জন্য শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুক মিয়ার কাছে গত ফেব্রুয়ারি মাসে একটি ইমেইল আসে। ওই ইমেইলে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন সেক্সুয়্যাল ট্রান্সমিটেড ডিজিজ এন্ড ইনফেকশন’ শীর্ষক একটি সেমিনারে অংশ নিতে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেমিনারে অংশ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি ফিরতি মেইল পাঠান।
এরপর কনফারেন্সে অংশ নেয়ার জন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হোটেলে ১০ দিনের রুম বুকিং দিয়ে বুকিং স্লিপ পাঠাতে বলা হয়। ফারুক মিয়া সেখানে অবস্থানকালে বন্ধুদের সাথে থাকার আগ্রহ দেখালে তারা তা নাকচ করে। এক পর্যায়ে আয়োজকরা রুম বুকিং বাবত ৫০০ ডলার চায় তারা। ওই টাকা বেলজিয়ামে অবস্থানরত তার এক ছাত্রের মাধ্যমে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন মানি ট্রান্সফারের মাধ্যমে পরিশোধ করেন ওই অধ্যাপক।
এরপর গত ১ মার্চ একটি ইমেইলে অধ্যাপক ড. ফারুক মিয়াকে জানানো হয়, ১৯-২১ মার্চের জন্য তিনি আমেরিকার ভিসা পেয়ে যাবেন। ভিসা দেয়ার বিষয়টি ইউএসএ ইমিগ্রেশন সার্ভিস কনফার্ম করেছে বলেও তাকে আশ্বস্ত করা হয়। এজন্য তাকে পাসপোর্টের ফটোকপি, ভিসা ফি ১৬০ ডলার, ইন্সুরেন্স ফি ৯৫ ডলার এবং ফেরতযোগ্য জামানত ১৩৯৯ ডলার পরিশোধ করতে বলা হয়। জামানতের ১৩৯৯ ডলার সেমিনারে অংশ নিয়ে ফেরার সময় ওয়াশিংটন বিমানবন্দরে তাকে ফেরত দেয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয় ইমেইলে। ওই ইমেইল পাওয়ার পর অধ্যাপক ফারুক বেলজিয়ামে অবস্থানরত তার এক বন্ধুর মাধ্যমে ১৬৫৪ ডলার করে দুইবারে ৩৩০৮ ডলার পাঠান তাদের দেয়া ব্যাংক হিসেবে। এরপর এক ইমেইলে কনফারেন্স প্যাকেজ, ভিসা অ্যাপ্রোভাল লেটার, ইউএস অ্যাম্বাসি অ্যাপয়নমেন্ট লেটার ও বিমান টিকেটসহ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট হ্যান্ডেলিং বাবদ ১৮০০ ডলার পাঠাতে বলা হয়। ওই টাকাও ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয় ইমেইলে। ২৫ মার্চ ওই ডলারের সমমূল্যের টাকা তিনি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করেন।
২৭ মার্চ ঢাকাস্থ হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে অধ্যাপক ফারুকের সাথে দেখা করেন এক আফ্রিকান নাগরিক। সে তার গাড়িতে একটি লাগেজ তুলে দেয় এবং সেটি সিলেট নিয়ে এসে সেমিনার আয়োজক প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করতে বলে। লাগেজটি সিলেটে নিয়ে এসে ভেতরে ডিজিটাল লক করা একটি বাক্স দেখতে পান তিনি। কিন্তু লক করা থাকায় তিনি তা খুলতে ব্যর্থ হন।
পরদিন ২৮ মার্চ বিকেলে আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে নাইজেরিয়ান নাগরিক ডোনেটাস এমেকা অনিজিউয়া তাকে লাগেজটি নিয়ে গাড়িতে করে নগরীর উপশহরস্থ হোটেল রোজভিউর কাছে একা আসতে বলে। সেখানে গিয়ে তাকে দেখতে পান অধ্যাপক ফারুক। নাইজেরিয়ান ব্যক্তিটি গাড়িতে ওঠে তাকে পাশর্^বর্তী একটি স্কুলের মাঠে একা নিয়ে যায়। সেখানে লক করা বাক্সটি খুলে জাল ডলার তৈরির একটি মেশিন দেখায়। এসময় সে দুইটি একশত ডলারের জাল নোট তৈরি করেও দেখায় অধ্যাপক ফারুককে। এতে হতভম্ব হয়ে পড়েন অধ্যাপক ফারুক।
এক পর্যায়ে তিনি জাল নোট তৈরির মেশিন কেন তাকে দিতে চাইছে তা জানতে চান। এই মেশিন ফেরত নিয়ে সেমিনারে অংশ নেয়ার কাগজপত্র দিতে বললে তাকে গাড়িতে বসিয়ে রেখে হোটেলের দিকে যায় ওই নাইজেরিয়ান। এর কিছুক্ষণ পর সে মোবাইল বন্ধ করে দিলে তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশকে জানান। এরপর এনা পরিবহনের একটি বাসে করে পালিয়ে যেতে থাকে ওই প্রতারক। এরপর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জিএম হামিদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই নাইজেরিয়ান নাগরিককে আটক করে।
এদিকে, এ ঘটনা নিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ শুক্রবার সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেন। ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপ-পুলিশ কমিশনার(সদর দপ্তর) রেজাউল করিম ও উপ-কমিশনার(সদর উত্তর) ফয়সল মাহমুদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট