কোরআন শরীফের ভেতরে যখন ইয়াবা পাচার!

প্রকাশিত: ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০১৮

কোরআন শরীফের ভেতরে যখন ইয়াবা পাচার!

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি অভিনব উপায়ে কোরআন শরীফের ভেতরে করে পাচারের সময় মাদকের একটি চালান আটক করেছে।

পাশাপাশি এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

টেকনাফে বিজিবির ২য় ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আছাদুদ জামান চৌধুরী বিবিসিকে জানান, গত ১২ই মার্চ গভীর রাতে মিয়ানমারের দিক থেকে আসা একটি নৌকা বড়ইতলী এলাকায় এসে পৌঁছালে বিজিবির একটি টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে।

এসময় কিছু লোক পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বিজিবি সৈন্যরা তিনজনকে আটক করেন।

এদের একজনের দেহ তল্লাশি করার সময় এক কপি কোরআন খুঁজে পাওয়া যায়।

সেই কোরআন খুলে দেখা যায় যে কোরআনের ভেতরে কেটে সেখানে ১৫ হাজার ইয়াবা বাড়ি লুকানো রয়েছে।

আটক ইয়াবার মূল্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা হবে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।

‘চোরাচালানিরা আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করার চেষ্টা চালায়,’ বলছিলেন লে.কর্নেল মো. আছাদুদ জামান চৌধুরী, ‘আমাদের সৈন্যরা কোরানের প্রতি শ্রদ্ধাবশত: তা পরীক্ষা করবেনা বলেই চোরাচালানিরা মনে করেছিল।’

তিনি বলেন, চোরাচালানের মাধ্যম হিসেবে কোরআনের মত ধর্মীয় বস্তু ব্যবহার কক্সবাজার এলাকায় নতুন কোন ঘটনা নয়।

গত ১০ই মার্চ কক্সবাজার থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয় যার মাথার পাগড়ির মধ্যে ৬০০০ ইয়াবা বড়ি লুকানো ছিল বলে লে. কর্নেল চৌধুরী জানান।

বাগেরহাটে মাজার জিয়ারতে গিয়ে চার রোহিঙ্গা আটক

বাগেরহাট শহর থেকে চার রোহিঙ্গাকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা এক বাংলাদেশিকেও আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বাগেরহাট শহরের রাহাতের মোড় থেকে ওই পাঁচজনকে আটক করা হয়।

আটক চার রোহিঙ্গা হলো সোনা আলী (৬৫) ও তার মেয়ে রাশিদা, মিনারা ও বেবী। ওই তিন নারীর বয়স ১৫ থেকে ১৮। এদের বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামে। এ ছাড়া আটক বাংলাদেশির নাম মো. ইলিয়াস। তার বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায়। গতকাল বুধবার মো. ইলিয়াসের সঙ্গে বাগেরহাটে আসেন রোহিঙ্গা নাগরিকরা।

আটক মো. ইলিয়াস জানান, মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কক্সবাজারে আসেন ওই চারজন। সেখানে কক্সবাজারের টেকনাফের লেদামেকাশি ফটক্যাম্পে আশ্রয় নেন তারা। সেখানে তাদের সঙ্গে ইলিয়াসের পরিচয় হয়। দুদিন আগে সোনা আলী ও তার মেয়ে রাশিদা এবং বাকি দুজন বাংলাদেশ ঘুরে দেখতে চায়। এরপর তাদের নিয়ে বাগেরহাটের খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার দেখতে আসেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় মাজার দেখে শহরের একটি হোটেলে রাতে থাকেন তারা। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ তাদের আটক করে।

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাতাব উদ্দিন জানান, বাগেরহাট শহরের রাহাতের মোড়ে ঘোরাঘুরির সময় ওই পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক বলে স্বীকার করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা এক বাংলাদেশিকেও আটক করা হয়। তিনি চার রোহিঙ্গার দোভাষী হিসেবে ছিলেন বলে দাবি করেন ওসি।

আটক ওই চার রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের টেকনাফ ক্যাম্পে ফেরত পাঠাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও ওসি জানান।

  •