যুদ্ধাপরাধীর বিচার বঙ্গবন্ধুই প্রথম শুরু করেছিলেন : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৬:২১ অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০১৮

যুদ্ধাপরাধীর বিচার বঙ্গবন্ধুই প্রথম শুরু করেছিলেন : প্রধানমন্ত্রী

‘যুদ্ধাপরাধীর বিচার বঙ্গবন্ধুই প্রথম শুরু করেছিলেন’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি ১৯৭১ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধুর সেই অমর ভাষণটি স্মরণ করেন।

বুধবার বিকেলে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় দেয়া ভাষণে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। বেলা তিনটার দিকে সভাস্থলে পৌঁছান শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, কর্নেল ফারুক খান প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা আজীবন এদেশের শোষিত বঞ্চিত মানুষের জন্য সংগ্রমা করে গেছেন। এর আগে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে শহীদ এবং জাতীয় চার নেতাকে স্মরণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, গ্রেফতার হওয়ার আগে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে ইপিআর ওয়ারলেসের মাধ্যমে শেষ শত্রুকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন জাতির পিতা।

তিনি বলেন, দেশকে স্বাধীন করতে জাতির পিতার নির্দেশে জনগণ ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলে যার যা যা ছিল তা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তবে ওই সময় একটি দল পাকিস্তানি বাহিনীকে গ্রামের পর গ্রামে নিয়ে গিয়েছিল। আমার মা-বোনদের পাক হানাদারদের হাতে তুলে দিয়েছিল। তারা গণহত্যা চালিয়েছিল। গ্রামে গ্রামে আগুন দিয়েছিল।

তিনি বলেন, জাতির পিতা এদের বিচার শুরু করে করেছিলেন। কিন্তু পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে সপরিবারের হত্যার পর তাদেরকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে মন্ত্রী-উপদেষ্টা করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, পঁচাত্তরের পর বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কেউ এটা বাজালে জেল-জুলুম করা হতো। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস নিশ্চিহ্ন করে দেয়া যায় না। ইতিহাস প্রতিশোধ নেয়।

এর আগে আওয়ামী লীগের জনসভা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বুধবার দুপুর আড়াইটায় জনসভা শুরু হয়। বক্তব্য রেখেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। বিকেলে যোগ দেন দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের জনসভা উপলক্ষে ইতোমধ্যেই কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও এর আশপাশ এলাকা। দলে দলে যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

নেতাকর্মীর হাতে শোভা পাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়েল ছবি ও স্লোগান সম্বলিত নানান রংয়ের ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ড। দুপুর ১টার পর থেকে নীলক্ষেত, দোয়েলচত্বর, মৎসভবন, শাহবাগ দিয়ে জনসভায় অংশ নিতে নেতাকর্মীদের উপচেপড়া ভীড় বাড়তে থাকে।

এদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজধানী চরম পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। রাজধানীর ভেতরের রাস্তায় গণপরিবহন নেই বললেই চলে। সকালে রাস্তায় কিছু গণপরিবহন দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে সেগুলোকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে বলা হয়েছে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট