সিলেটে রাত ৮টার পর ট্রাক প্রবেশ,নগরবাসীর স্বস্তি

প্রকাশিত: ১:০২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০১৮

সিলেটে রাত ৮টার পর ট্রাক প্রবেশ,নগরবাসীর স্বস্তি
আন্দোলনের নাম “রাত ৮টার পর ট্রাক প্রবেশ”। এই আন্দোলন যে জনজীবনে এতটা সাড়া ফেলবে তা হয়তো ভাবেননি ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম। শুক্রবার শুরু করেছিলেন আন্দোলনের সুত্রপাত।  আন্দোলনের ফলে চার দিন ধরে অন্য চেহেড়ায় নগরী। আম্বরখানা, চৌকিদেখী, দর্শনদেউরী, সুবিদবাজার, মদিনা মার্কেট’সহ বৃহত্তর আম্বরখানা এলাকায় যেন শান্তি আর স্বস্তির সুবাতাস বইছে। এতদিন বিকেল পাঁচটার পর থেকে চৌকিদেখী-তেমুখী পয়েন্ট পর্যন্ত ট্রাকের জট  যেন নিত্তনৈমত্তিক ব্যাপার ছিলো।  বিশালাকার ট্রাকের কারনে জনসাধারণের চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হতো। এসময় স্কুল ও অফিস ফেরত মানুষজনদের ভোগান্তি ছিলো চরমে। তবে, আন্দোলনের পর থেকে নগরীতে পাথরবাহী ট্রাক রাত ৮টার পর ঢুকছে ।  ফলে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেয়েছে  নগরবাসী।  চলমান আন্দোলনের ফলে বৃহত্তর আম্বরখানা এলাকার সড়ক ব্যবহারকারী জনসাধারণ রাত ৮টা পর্যন্ত শান্তিতে চলাফেরা করছে। এই আন্দোলনের সুফল পাচ্ছে  পুরো নগরবাসী।  প্রতিদিন বিকেল ২টা থেকে কাউন্সিলর শামীমের চৌকিদেখীস্থ অফিসের সামনে জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা। এ পথে রাত ৮টার আগে নিয়মভেঁঙ্গে ট্রাক প্রবেশ করতে চাইলে বাঁধা দেন আন্দোলকারীরা। পুরো আন্দোলন অহিংস।  শুধুমাত্র চালকদের মাঝে জনসচেতনতা তৈরী করা। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার মানুষজন সম্পৃক্ত হচ্ছে জনসচেতনতার এই আন্দোলনে। একাত্মতা প্রকাশ করছেন তাদের সাথে। সোমবার বিকেল ৪টায় আন্দোলনে শরীক হন ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর  সিটি করপোরেশনের ১ম প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও  ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ।
কয়েস লোদী এলাকার  মুরব্বী ও তরুনদের সাথে নিয়ে সম্পৃক্ত হন। এর আগে বিকেল ৩টায় আসেন কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ। বিকেল ৫টার সময় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীরা লাক্কাতুরা সড়কে পদযাত্রা করেন। সচেতনতা তৈরীতে তাঁরা হেটে হেটে ট্রাক চালকদের সাথে কথা বলেন। আন্দোলনের কারনে আটকে পড়া চালকদের বুঝান । আইনভঙ্গ করলে নগরবাসীকে  কি ধরনের  ভোগান্তিতে পড়তে হয়  তা তুলে ধরেন। চালকরাও সবকিছু বুঝতে পেরে আর আইন ভঙ্গ করবেন না বলে কথা দেন। পরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক পথসভার আয়োজন করা হয়।
পথসভায় প্যানেল মেয়র কয়েস লোদী তার বক্তব্যে বলেন, এ আন্দোলন এখন সময়ের দাবী। রাত ৮টার পর থেকে ট্রাক চলাচল করলে হাউজিং ষ্টেট’সহ নগরবাসী স্বস্তিতে থাকবে। তাই আমাদের সবার উচিৎ  আইন মেনে চলা। এতে সবাই উপকৃত হবে।
কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ বলেন, ‘ আইন মেনে ট্রাক চললে জনগন উপকৃত হবে। আম্বরখানা সড়কে রাত  ৮টার পর যেন ট্রাক চলাচল করে সে জন্য সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশকে-ই দ্বায়িত্ব নিতে হবে। পুলিশকে সহয়তা করতে জনগণ সবসময় প্রস্তুত আছে।
কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী ছিলো  এ পথে যেন আইন মেনে ট্রাক চলাচল করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার জানিয়েছি। কেউ কর্ণপাত করেনি।
তাই আমরা নিজেরাই রাজপথে নেমে এসেছি।  এই আন্দোলনে প্রতিদিনই বিভিন্ন ওয়ার্ডের মানুষজন সম্পৃক্ত হচ্ছেন। এলাকার মুরব্বীয়ান  ও তরুণরা নেমেছে জনসচেতনতায়। দিনেরবেলা ট্রাক চলাচলের কারণে আমরা সিমাহীন জ্বালাতন সয্য করি। আমাদের আর উপায় নেই। আমাদের কার্যক্রমকে পুরো নগরবাসী সাধুবাদ জানাচ্ছে। যতদিন আইন অমান্য করে ট্রাক চলার চেষ্ঠা করা হবে ততদিন এই আন্দোলন চলতে থাকবে।
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট