জাফর ইকবালের উপর হামলাকারী জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী : আইজিপি

প্রকাশিত: ১১:৩৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ৫, ২০১৮

জাফর ইকবালের উপর হামলাকারী জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী : আইজিপি

‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের উপর হামলাকারী ফয়জুর জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী’ বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী ছাত্র সমাবেশ ও কনসার্ট অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. মোহম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

আইজিপি বলেন, হামলাকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার খুব বেশি সুযোগ হয়নি। আমরা তদন্ত করছি, এই ঘটনাটির মূল উদঘাটন করবো। হামলাকারীকে জনগণ ও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় গ্রেপ্তার করেছি। হামলাকারীর বিষয়ে জানতে তার পরিবার ও স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া হয়েছে।

গত শনিবার বিকেলে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও পুলিশের উপস্থিতিতে জাফর ইকবালের ওপর হামলা করে ফয়জুল হাসান নামে এক তরুণ। হামলাকারী ছুরি দিয়ে এই লেখক-অধ্যাপকের মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করেন।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই হামলার পরপর জাফর ইকবালকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
এরপর ড. জাফর ইকবালের উন্নত চিকিৎসার জন্য নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেট থেকে ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন। এখন তিনি সুস্থা আছেন।

জাফর ইকবালের পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক তরুণকে সন্দেহ
অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার আগে তার পেছেনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক তরুণকে সন্দেহ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কিন্তু তাকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অনুষ্ঠান আয়োজন সংশ্লিষ্টরা।

ছবিতে দেখা গেছে, চেয়ারে বসা জাফর ইকবালের ঠিক পেছনে ছিলেন হামলাকারী ফয়জুল। ছবিতে তার বাঁয়ে পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল মোটাসোটা এক তরুণ। আয়োজকরা জানান, শনিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের অনুষ্ঠানে জাফর ইকবালের আশপাশে অবস্থানরতদের মধ্যে ফয়জুল ও মোটা তরুণ বাদে সবাই তাদের পূর্বপরিচিত।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জহীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমিও মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকা মোটা যুবকের পরিচয় শনাক্ত করতে পারিনি। তবে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ উৎসবটা ছিল জাতীয় পর্যায়ের। তাই এখানে বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও অনেক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল।

প্রক্টর আরও বলেন, প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে হামলাকারী একা এসে হামলা করবে এটা খুব দুরূহ। তার সহযোগী হিসেবে এক বা একাধিকজন থাকতে পারে। সে পরিকল্পিতভাবে সুযোগ খুঁজে এ হামলা করেছে। তাই এটা ধারণা করা খুব স্বাভাবিক তার সহযোগী কেউ থাকবে।

র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক লেফটেন্যাট কর্নেল আবু হায়দার আজাদ জানান, ছবিতে যারা আছে তাদের মধ্যে কেউ হামলাকারীর সহযোগী থাকাটা স্বাভাবিক, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।

তবে ফয়জুল কোনো জঙ্গি সংগঠনে জড়িত কি না বা তার সঙ্গে আর কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে র‍্যাব কর্মকর্তা আজাদ বলেন, এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে সব বলা যাচ্ছে না। আমরা সব বিষয় সামনে রেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বের করতে তদন্ত চালাচ্ছি।

গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সিলেটের বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ এলাকায় শিক্ষক জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। মুক্তমঞ্চে বসে থাকা অবস্থায় পেছন থেকে তার মাথায় আঘাত করেন সেই যুবক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের একটি উৎসব ছিল। সেই উৎসবে অংশ নিয়ে অন্যদের সঙ্গে মুক্তমঞ্চে বসে ছিলেন মুহাম্মদ জাফর ইকবাল। সন্ধ্যার ৫.৩৫ দিকে এক যুবক হঠাৎ পেছন থেকে তার মাথায় ছুরিকাঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পুলিশের একই মাইক্রোবাসে করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলাকারীকে এই হামলার পরপরই আটক করা হয়।

  •