‘খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে নির্বাচনের পথ সংকুচিত করছে সরকার’

প্রকাশিত: ৪:৪৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০১৮

‘খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে নির্বাচনের পথ সংকুচিত করছে সরকার’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা, সাজানো মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে রেখে আগামী নির্বাচনের পথ সংকুচিত করছে সরকার।’

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে খসরু এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি যাতে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, সরকার সে জন্য ষড়যন্ত্র করছে।’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির দাবিতে এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

আমীর খসরু বলেন, ‘এ সরকারের আমলে যে বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার, মানবিক, নাগরিক ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, তা সমস্ত বিশ্ব দেখছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদল এসে বলে যাচ্ছে, তারা সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। তারাও বলছেন, বিরোধী দলকে সভা-সমাবেশ করার সুযোগ দিতে হবে। এতেই প্রমাণ হয়, দেশে গণতন্ত্র নাই, স্বৈরতন্ত্রের মতো একদলীয় শাসন চলছে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরো বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে জেলে নেওয়া বিচারিক রায় নয়, এটা সরকারের রায়। খালেদা জিয়া দুর্নীতি করেছে, এটা জনগণ বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার এতটাই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যে তাদের কথা জনগণ বিশ্বাস করে না। সেটাও তারা বুঝতে পারেন না।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের উপদেষ্টা নাছির উদ্দিন হাজারী। এতে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী প্রমুখ।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি’র নতুন দুই কর্মসূচি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাগারে অবস্থানরত বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নতুন করে দলের পক্ষ থেকে দু’দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার (৬ মার্চ) ঢাকাসহ সারা দেশে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মানববন্ধন এবং আগামী বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

রবিবার সকালে দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি পুরোনো ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপি’র চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি

জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
রায় ঘোষণার পর থেকেই পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপারান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তার মুক্তির দাবিতে ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ, নির্বাচন থেকে খালেদা জিয়াকে সরাতেই মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, সরকার আগামী নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে। কারণ খালেদা জিয়া নির্বাচনের মাঠে থাকলে জনগণ তার সঙ্গে মাঠে নেমে আসবে। আর বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের একদলীয় শাসনের পথ রুদ্ধ হবে।

তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগের এককভাবে ভোট করে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন এ দেশের মানুষ কখনো পূরণ হতে দেবে না। জনগণ তাদের নেত্রীকে মুক্ত করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় করবে।

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা বলেন, রাষ্ট্রীয় খরচে কোমর বেঁধে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার দলের নেতারা। গতকালও তিনি খুলনায় গিয়ে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়েছেন। এসব বিষয়ে কমিশনকে জানালেও তারা বলেছেন, তফসিল ঘোষণার আগে তাদের কিছু করার নেই।

বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনের কেন কিছু করার থাকবে? কারণ, ইসি তো সরকারের মাইক্রোফোন হিসেবে কাজ করছে। তারা চাকরি হারানোর ভয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কিছুই বলছেন না। কারণ, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে তাদের পরিণতি হবে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার মতো।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক এম এ মালেক, সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহদপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমেদ প্রমুখ।

  •