২০২১ সালের মধ্যে সব ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৫:১০ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০১৮

২০২১ সালের মধ্যে সব ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলবে : প্রধানমন্ত্রী

খুলনা : ২০২১ সালের মধ্যে সব ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলবে, খুলনা ও বরিশালে গ্যাস সরবরাহ করা হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার বিকালে খুলনার সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত জনসভায় রাখা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন,‘বর্তমান সরকারের আমলে খুলনায় আমূল পরিবর্তন হয়েছে, ২০০৮ সালে আমরা খুলনার উন্নয়নের কথা বলেছিলাম। আজ ১০০টা উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিজয়ী জাতি, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। সে ধারাতেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’

খুলনায় আজ ১০০টা উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে, এর মধ্যে ৪৮টি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। বিভিন্ন কল-কারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করেছি। এখন রেললাইন একেবারে মংলা বন্দর পর্যন্ত যেন যায় সেই প্রকল্পের কাজ শুরু করেছি। সামাজিক উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের এখন বই কিনতে হয় না, আমি বই কেনার দায়িত্ব নিয়েছি। জানুয়ারির ১ তারিখ বই উৎসব হয়। বই কিনতে বাবা-মাকে একটা টাকাও খরচ করতে হয় না। স্বাস্থ্য সেবা দিতে খুলনায় বিশেষায়িত হাসপাতাল করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে নৌকাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে।’

এসময় প্রধানমন্ত্রী নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য হাত তুলে জনতার কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ফসল জনগণ ভোগ করছে, আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রকৌশলীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

শনিবার (৩ মার্চ) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে খুলনার খালিশপুরের ঈদগাহ ময়দানে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশের (আইইবি) জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাতির-জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কঠোর বাণীর কথা স্মরণ করে বলেন, তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমাদের সরকারও দুর্নীতি-সন্ত্রাস-মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে জাতির পিতা এই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সময় পেয়েছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর। এই স্বল্প সময়ে তিনি রাস্তাঘাট নির্মাণ থেকে রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে মনোনিবেশ করেছিলেন। পিছিয়ে থাকা একটি প্রদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্রে উন্নত করেছিলেন জাতির জনক। তখন তাকে বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহযোগিতা করেছিলেন প্রকৌশলীরা।

কৃষক-মজদুর নয়, শিক্ষিত শ্রেণীই দুর্নীতি করে বলে এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর একটি মন্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনকের নির্দেশিত পথ মেনেই আমরা চলছি। আমাদের সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মানুষ যেন আইনের শাসনের সুযোগ-সুবিধা পায়, সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছি।

বিএনপি-জামায়াত সরকারের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ক্ষমতায় থাকাকালে আইনের শাসনের অভাবে পাঁচ পাঁচবার সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে স্থান পেয়েছিল বাংলাদেশ। আজ দুর্নীতি উৎখাত করে দুই ধাপ এগিয়েছি আমরা। বিশ্বসভায় উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি।

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতো বড় বাজেট আমরা নিয়েছি, বাজেটে এতো উন্নয়ন প্রকল্প আর কোনো সরকার নিতে পারেনি। গ্রামপর্যায়ে আমরা উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছি। যেন তৃণমূল থেকে উন্নয়নটা উঠে আসে। আমরা জনগণের সেবক, এ বিষয়টি মাথায় রেখে উন্নয়নের কাজ করছি। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের ফল জনগণ ভোগ করছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনায় ৪৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনও ৫২টি প্রকল্পের ভিতিপ্রস্তর স্থাপন সম্পন্ন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী খুলনায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন সেগুলো হলো- গল্লামারী-বটিয়াঘাটা-দাকোপ-নলিয়ান ফরেস্ট সড়ক, রূপসা-শ্রীফলতলা-তেরখাদা সড়ক, কেডিএ খানজাহান আলী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক-কাম-প্রশাসনিক ভবন, লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবন, চালনা মোবারক মেমোরিয়াল কলেজের একাডেমিক ভবন, খুলনা আইডিয়াল কলেজের একাডেমিক ভবন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের একাডেমিক ভবন, খুলনা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, মহেশ্বরপাশা সরকারি শিশু পরিবার হোস্টেল ভবন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ভবন, মেডিকেল কলেজের অডিটরিয়াম ভবন, শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল ভবন, তেরখাদা থানা ভবন, রূপসা ফায়ার স্টেশন ভবন, রূপসা সেনহাটি নদী ফায়ার স্টেশন, বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস, কৃষি বিভাগের অফিস-কাম-ট্রেনিং এন্ড প্রসেসিং সেন্টার ভবন, রূপসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, দিঘলিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, তেরখাদা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, ডুমুরিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, পাইকগাছা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন।

পাইকাগাছা আরএন্ডএইচ-বাঁকা জিসি সড়কের কপোতাক্ষ নদের উপর ব্রিজ। খুলনা ডায়াবেটিক হাসপাতালের নতুন ভবন। হাতিয়ার ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার ভবন, শিমলার আইট খেজুরডাঙ্গা আরএনজিপিএস কাম সাইক্লোন শেল্টার ভবন। দেওয়াড়া পশ্চিমপাড়া আরএন জিপিএস কাম সাইক্লোন সেল্টার ভবন, তেরখাদা আব্দুলের মোড় আরএন্ডএইচ-মাঝিরগাথি জিসি ভায়া কোলা বাজার সড়ক, বটিয়াঘাটা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সম্প্রসারণ।

পাইকগাছা হাবিবনগর মাদ্রাসা মোড় থেকে ডুমুরিয়া মাগুরখালি-কাঁঠালতলা বাজার পর্যন্ত সংযোগ সড়ক, খুলনা শহীদ মিনার, রেলওয়ে স্টেশন এবং ইয়ার্ড রি-মডেলিং প্রকল্প, খুলনা জেলা স্টেডিয়াম, পাঁচতলা বিশিষ্ট কয়রা আধুনিক ডাকবাংলো ভবন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য হোস্টেল ভবন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, পাইকগাছায় কপিলমুনি ইউনিয়ন ভূমি অফিস, কয়রা থানা ভবন, ডুমুরিয়াতে শোভনা ইউনিয়ন ভূমি অফিস, জলমা ইউনিয়ন ভূমি অফিস, আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্প, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল (বর্ধিতাংশ), জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল (ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ), শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ ভবন (ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ), মাইকেল মুধুসুদন দত্ত অতিথি ভবন (বর্ধিতাংশ), আচার্য প্রফল্ল চন্দ্র রায় কেন্দ্রীয় গবেষণাগার (বর্ধিতাংশ), খুলনা ওয়াসা ভবন।

প্রধানমন্ত্রী যে সকল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সেগুলো হচ্ছে : খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা (খুলনা অংশ) সড়ক। পাইকগাছা কৃষি কলেজ। বটিয়াঘাটা ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমাজিং ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘এ’ ব্লকের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সেস ডরমিটরি। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টাফ ডরমিটরি। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাংকার। খুলনা সদর হাসপাতাল ১৫০ বেড থেকে ২৫০ বেডে উন্নীতকরণ। সিভিল সার্জনের অফিস ভবন। শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের আবাসিক ভবন। দিঘলিয়া উপজেলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। পুলিশ সুপারের কার্যালয়। এএসপি ‘ক’ সার্কেল অফিস। দৌলতপুর থানা ভবন। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের অস্ত্রাগার ভবন। পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের একাডেমিক ভবন। পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ফায়ারিং বার্ট। পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অস্ত্রাগার ভবন। জেলা রেজিস্ট্র্রি অফিস ভবন।

রূপসা উপজেলা মডেল মসজিদ। আলিয়া মাদ্রাসা মডেল মসজিদ। ডুমুরিয়া ভদ্রা নদীর ওপর ৩১৫.৩০ মিটার লম্বা পিসি গার্ডার ব্রিজ। বটিয়াঘাটা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন। তেরখাদা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম। পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়ন ভূমি অফিস। পাইকগাছা উপজেলার লতা ইউনিয়ন ভূমি অফিস। ফুলতলা উপজেলায় উচ্চ জলাধার ও পাইপ লাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১০০০ আসনবিশিষ্ট অডিটরিয়াম-কাম মাল্টিপারপাস হল। টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট। জেলা কারাগার। জেলা পুলিশ লাইন। ১০ তলাবিশিষ্ট বিএসটিআই আঞ্চলিক অফিস ভবন। আরআরএফ ব্যারাক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ। পাইকগাছা উপজেলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

আরআরএফ’র অস্ত্রাগার ভবন। পাইকগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। রূপসা শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকীকরণ। ওজোপাডিকো লিমিটেডের ১৫-তলাবিশিষ্ট প্রধান কার্যালয়। জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে ভদ্রা ও সালতা নদী পুনঃখনন। বিএনএস তিতুমীর সংলগ্ন ভৈরব নদীর তীর সংরক্ষণ। শেখ রাসেল ইকো পার্ক। এডমিনিস্ট্রেটিভ কনভেনশন সেন্টার। ১০-তলা ভিতবিশিষ্ট জয় বাংলা ভবন। ১০ তলাবিশিষ্ট শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী আবাসিক ভবন। লালন সাঁই মিলনায়তন ও টিএসসি ভবন। শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরী চিকিৎসা কেন্দ্র। সুলতানা কামাল জিমনেসিয়াম।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আইইআর ভবন। আইটি ইনকিউবেশন এন্ড ট্রেনিং সেন্টার। রূপসা নদীর তলদেশ দিয়ে পাইপ লাইন স্থাপন।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট