রাজধানীর শাহবাগে মশাল মিছিল, সড়ক অবরোধ

প্রকাশিত: ১০:০৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০১৮

রাজধানীর শাহবাগে মশাল মিছিল, সড়ক অবরোধ

অধ্যাপক জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাতের খবরে রাজধানীতেও বিক্ষোভ হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনসহ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নিয়েছে। শাহবাগে মশাল মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।

শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ও বিভিন্ন সংগঠন এই মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ঘটনার পরপরই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ করেছেন। এছাড়া সড়ক অবরোধ করে রেখেছে।

এদিকে জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী দেশ বরেণ্য এই শিক্ষকের চিকিৎসায় সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন বলে জানা গেছে।

সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘কিছুক্ষণ আগে অধ্যাপক জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাত করার খবর পেয়েছি। আমি সব কর্মসূচি বাতিল করে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের উদ্দেশে যাত্রা করেছি।’

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানায়, এদিন ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ফেস্টিভ্যাল চলছিল ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক জাফর ইকবাল; সেখানেই বিকেল ৫টার দিকে তার ওপর হামলা হয়। হামলাকারী পেছন দিক থেকে জাফর ইকবালের মাথায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে।

রক্তাক্ত অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে জাফর ইকবালকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় বিকেলেই তাকে অপারেশন থিয়েটারে পাঠানো হয়। এর হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

এদিকে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতক্ষ্যদর্শী এক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ‘তখন প্রায় সাড়ে ৫টা। স্যার মুক্তমঞ্চে বসেছিলেন। সামনে একটি রোবট প্রতিযোগিতা হচ্ছিল। হঠাৎ এক যুবক এসে স্যারের মাথার পেছনে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্যারের শরীর রক্তে ভিজে যায়।’ মুক্তমঞ্চে পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যেই স্যারের ওপর এ হামলা হয় বলেও জানান ওই শিক্ষার্থী।

এদিকে অধ্যাপক জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাতের খবরে সন্ধ্যা সাতটা থেকে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

হামলার ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে ছুরিকাঘাতকারী এক যুবককে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় কিংবা হামলার কারণ জানা যায়নি।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের অক্টোবরে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হককে হত্যার হুমকি দিয়ে মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হয়। আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এই হত্যার হুমকি দিয়েছিল জানিয়ে, তারা সিলেটের জালালাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, সম্প্রতি র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি গতকাল শুক্রবার বলেছিলেন- র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় শাস্তির মেয়াদ আরো বাড়ানো উচিত।

  •