বিএনপি’র জনসভা ১১ মার্চের পরিবর্তে ১২ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে

প্রকাশিত: ৩:১২ অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০১৮

বিএনপি’র জনসভা ১১ মার্চের পরিবর্তে ১২ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ১১ মার্চ নয়, ১২ মার্চ জনসভা করার পরিকল্পনা করছে বিএনপি।

শুক্রবার সকালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আগে ১১ মার্চ জনসভার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে চিঠি দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু একদিন পিছিয়ে আগামী ১২ মার্চ এ জনসভা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএনপির আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই জনসভার অনুমতি দেবে।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১১ মার্চ জনসভা করার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। তার একদিন বাদেই জনসভার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হলো।

তবে কী কারণে সভা একদিন পিছিয়ে দেওয়া হলো, তার কোনো কারণ আজ রাজধানীর নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে ডাকা জরুরি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেননি বিএনপির এই নেতা।

রিজভী বলেন, ‘জনসভা করার জন্য আমরা পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়েছি, গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়েছি। এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও বইমেলার দোহাই দিয়ে আমাদের জনসভা করতে দেওয়া হয়নি। এ কারণে আমরা আবারও পুলিশকে অবহিত করেছি। আশা করছি, আমরা সমাবেশের অনুমতি পাব।’

ঢাকার এ জনসভা ছাড়াও আগামী ১০ মার্চ খুলনা বিভাগে একটি বিভাগীয় সমাবেশ করা হবে বলেও জানান রিজভী।

এ সময় রিজভী ঢাকা বারের নির্বাচন ও ভোট গণনার বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন,‘ঢাকা বারের ভোট গণনার সময় কিছুটা হট্টগোল হয়েছে। এটি আইনজীবীদের একটি নির্বাচন। আমরা আশা করব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোট গণনা যাতে সুষ্ঠু হয়, সে বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহদপ্তর সম্পাদক মনির, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

‘ডিসি-এসপিদের বদলী করে প্রশাসনকে আওয়ামীকরণ করছে সরকার: রিজভী

আগামি নির্বাচনকে সামনে রেখে ডিসি-এসপিদের বদলী করে প্রশাসনকে আওয়ামীকরণ করছে সরকার’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে নিজেদের মতো করে নির্বাচনের মাঠ সাজাচ্ছে।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের স্পষ্ট করে বলতে চাই নিজেদের পছন্দমতো নির্বাচনের মাঠ সাজালে কোনো কাজ হবে না। বাংলাদেশে বিএনপি ও খালেদা জিয়া ছাড়া কোনো ভোট হবে না।’

গতকাল রোববার ২২ জেলায় ডিসি ও ২৮ জেলায় এসপিকে বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

রিজভী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে বতমান সরকারের সহযোগী হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন দেশে আগাম নির্বাচন হবে। তারই আলামত হিসেবে হয়তো ডিসি-এসপিদের বদলি করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আবারও খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে বাইরে রেখে ভোটের পরিকল্পনা করছে সরকার। আর সেই জন্য নিজেদের পছন্দমতো নির্বাচনের মাঠ তৈরি করছে। দেশের মানুষ খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে ছাড়া কোনো নির্বাচন প্রতিহত করবে। সরকারের এসব অশুভ নীলনকশা কখনো বাস্তবায়ন হতে দেবে না। খালেদা জিয়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। আর সেই জন্য তাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগরে পাঠানো হয়েছে।’

বিএনপি নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের নেতারা সরকারি খরচে দেশ-বিদেশে গিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট চাইছে। আর বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের কথা বলার সুযোগ দিচ্ছে না। মানুষের অধিকার পুলিশের বিধি-নিষেধের ওপর নির্ভর করে না। এগুলো মানুষের জন্মগত অধিকার। পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে সভা-সমাবেশের জন্য পুলিশের অনুমতির দরকার পড়ে না। এটা দরকার পড়ে শুধু সামরিক শাসনের দেশে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা থাকলেও অন্তরে রয়েছে বাকশালের নীতি। অথচ গণতন্ত্রে এমন কোনো ভাষা নেই, যেটা আছে শেখ হাসিনার গণতন্ত্রে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহদপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট