খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন : ড. মোশাররফ

প্রকাশিত: ১১:৪৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৮

খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন : ড. মোশাররফ

বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে ঘিরে সরকারের ‘উস্কানির ফাঁদে পা দেবে না বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, সরকার উদ্বিগ্ন হয়ে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে ঘিরে উসকানি দিচ্ছে। উসকানি যতই দিন কোনো কাজ হবে না। বিএনপি আপনাদের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দেবে না। কারণ বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির মধ্যে কোনো পার্থক্যের সুযোগ নেই। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির কারণে সরকারের ‘নীল নকশার পরিকল্পনা’ বুমেরাং হয়ে এখন তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। গণতন্ত্রের অপর নাম বেগম খালেদা জিয়া। তা ছাড়া বিএনপি কি পাগল হয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে। আপনারা যদি এমনটা ভেবে ভালো করে ঘুমাতে চান তাহলে ঘুমাতে পারেন। ভবিষ্যতে বিএনপি কী সিদ্ধান্ত নেবে সেটা বিএনপিকেই ভাবতে দেন। : গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ নাগরিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এ নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করে স্বাধীনতা ফোরাম। : প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়া টাকা মেরে খেয়েছেন। অথচ মামলায় তথ্য উপাত্ত থেকে জানা যায়, অরফানেজ ট্রাস্টে জমাকৃত টাকা উত্তোলন করা হয়নি, বরং জমাকৃত টাকা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া কোথা থেকে টাকা মেরে খেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আপনি কী করে মিথ্যা বানোয়াট কথা বলেন যে, বেগম খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন। : তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী জেলে যাওয়ার আগে স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটির বৈঠকে পরিষ্কার নির্দেশ দিয়ে গেছেন- আমরা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করবো তার মুক্তির জন্যে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ করার জন্যে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার আদায় করার জন্যে। এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকার যত ধরনের উস্কানি দিক না কেনো, যত ধরনের আমাদের বিরুদ্ধে ফাঁদ তারা দিক না কেনো। আমরা তাদের কোনো ফাঁদে পা দেবো না। আমরা তাদের উস্কানিতে উত্তেজিত হবো না। আমরা শান্তভাবে, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করবো, আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে করার দাবি আদায় করবো। : কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা বেড়েছে দাবি করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে জেল দেয়া হয়েছে। পাঁচ কর্ম দিবসের পরও তার রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়া যাচ্ছে না। এটাতে প্রমাণিত তাকে দুর্নীতির দায়ে নয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় জেলের অভ্যন্তরে নিয়েছে এবং উদ্দেশ্য হচ্ছে- বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে বাইরে রেখে সরকার আগামী সংসদ নির্বাচন করতে চায়। এই যে অন্যায়ভাবে আমাদের নেত্রীকে সাজা দেয়া হলো, জেলে নেয়া হলো। সেজন্যই দেশনেত্রীর প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে, তার প্রতি সহানুভূতি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে এতোদিন দেশনেত্রী বলতাম, আজকে বাংলাদেশের মানুষ তাকে দেশমাতার সম্মানে ভূষিত করেছে। এখন দেশের মানুষ তাকে নেত্রী বলে না, দেশমাতা বলে, তিনি দেশনেত্রী থেকে দেশমাতায় পরিণত হয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া আমাদের জাতীয় নেত্রী ছিলেন। তাকে জেলে নেবার পরে আমেরিকা, জাতিসংঘসহ বড় বড় দেশ আছে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাই তিনি (খালেদা জিয়া) এখন আন্তর্জাতিক নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের ৮/১০ দিনের কর্মসূচিতে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, আমরা দলীয়ভাবে আরো শক্তিশালী হয়েছি, ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি জনগণের সমর্থন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা শুনে তাদের (সরকার) গা জ্বালা করছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এগুলো বিএনপি কী প্রোগ্রাম দিচ্ছে, এগুলো কি কোনো প্রোগ্রাম নাকি। বিএনপি কী ধরনের কর্মসূচি দেবে- এটা তিনি (ওবায়দুল কাদের) নির্ধারণ করে দেবেন? তার মাথা ব্যথা কেনো? আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করার জন্য, আগামী নির্বাচনে নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি আদায়ের জন্য কি ধরনের কর্মসূচি দেবো যেটা বিএনপি ঠিক করবে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নয়। : তিনি বলেন, বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে পার্থক্য করার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্রের অপর নাম বেগম খালেদা জিয়া। তার জনপ্রিয়তার কারণে তিনি দেশনেত্রী থেকে দেশমাতা হয়ে গেলেন। আমি বলতে চাই, অবশ্যই বেগম খালেদা জিয়াকে সঙ্গে নিয়েই আমরা ভবিষ্যতে নির্বাচনে যাবার চিন্তা করছি। বিএনপি কী করবে ভবিষ্যতে? বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আগামী সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপির সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা আমাদের আছে। : আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লার সভাপতিত্বে নাগরিক সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় দলের সভাপতি সৈয়দ এহসানুল হুদা, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব সাহাদাত হোসেন সেলিম, কল্যাণ পার্টির সহ-সভাপতি শাহিদুর রহমান তামান্না, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ভিপি ইব্রাহিম, কৃষক দলের নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট