‘বিএনপি ৮ তারিখ নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে’

প্রকাশিত: ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৮

‘বিএনপি ৮ তারিখ নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে’

‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার ৮ তারিখের রায়কে কেন্দ্র করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে কঠোরভাবে মোকাবেলা করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী’। এই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি যদি এই রায়কে কেন্দ্র করে নৈরাজ্য করে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি নষ্ট করে তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করবে।

গণগ্রেপ্তারের অভিযোগ সম্পর্কে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চিহ্নিত অপরাধীদের পুলিশ আইনের আত্ততায় নিয়ে আসছে। এতে রাজনৈতিক কিছু নেই।গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তারা বিভিন্ন মামলার আসামী। দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ঠিক রাখার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। বিএনপি নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে কঠোরভাবে মোকাবেলা করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

‘৮ ফেব্রুয়ারি অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ’
এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ৪টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য বহন এবং যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় এমন সকল সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া।
মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপি কর্তৃক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষনা দেন।

৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়ের দিন ঢাকার রাস্তায় দাঁড়িয়ে বা বসে কোনও ধরনের মিছিল করা যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেছেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সব ধরনের ছড়ি বা লাঠি, ছুরি, চাকু বা ধারালো অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য ও দাহ্য পদার্থ বহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও রাস্তায় দাঁড়িয়ে/বসে কোনও ধরনের মিছিল করা যাবে না মর্মে ঘোষণা করছি। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’

ডিএমপি কমিশনারের দেওয়া ঘোষণায় বলা হয়, বিচারাধীন একটি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগরীতে কোনও কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অরাজকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নের অপপ্রয়াস চালাতে পারে মর্মে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য, ইলেকট্র্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ার সূত্রে জানা যায়।

আছাদুজ্জামান মিয়ার ঘোষণায় বলা হয় , যেহেতু ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, সেহেতু আমি মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বিপিএম-বার পিপিএম, পুলিশ কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং- III/৭৬) এর ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ (বৃহস্পতিবার) সকাল চারটা (ভোর রাত) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সব ধরনের ছড়ি বা লাঠি, ছুরি, চাকু বা ধারালো অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য ও দাহ্য পদার্থ বহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করছি।

এছাড়া মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অনুমতি ছাড়া রাজধানীর বাসা বাড়ির প্রাঙ্গণে কিংবা ছাদে কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না। একই সঙ্গে সর্বসাধারণের ব্যবহার্য রাস্তা কিংবা উন্মুক্ত স্থান যার চারপাশে সাধারণ মানুষ বসবাস করে এমন স্থানে অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠান না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর সাধারণ নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগরী অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ এর ২৭ ও ৩১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ অনুরোধ জানানো হয়। অনুমতি ছাড়া রাজধানীর বাসা বাড়ির প্রাঙ্গণে কিংবা ছাদে, সর্বসাধারণের ব্যবহার্য রাস্তা কিংবা উন্মুক্ত স্থান যার চারপাশে সাধারণ মানুষ বসবাস করে এমন স্থানে মাইক্রোফোন, লাউড স্পিকার বা উচ্চ মাত্রার মিউজিক জোরদার করার ব্যবহৃত যন্ত্র বাজিয়ে বা কনসার্ট, সঙ্গীতানুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাসে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এরূপ কার্য সম্পাদন করা যাবে না। এরূপ কাজে বিরত থাকার জন্য ঢাকা মহানগরীর সম্মানিত সকল নাগরিকগণকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।