খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে আদালতকে হুমকি দিচ্ছে বিএনপি : কাদের

প্রকাশিত: ৩:০১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০১৮

খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে আদালতকে হুমকি দিচ্ছে বিএনপি : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে আদালতকে হুমকি দিচ্ছে বিএনপি। রায় নিজেদের পক্ষে নিতে আদালতকে প্রভাবিত করছে। তারা প্রমাণ করছে- গণতন্ত্র ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থা তাদের হাতে নিরাপদ নয়।

শনিবার দুপুরে সাভারের হেমায়েতপুরে ২৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হেমায়েতপুর-সিঙ্গাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধন করতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি রায় নিজেদের পক্ষে আনতে আদালতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। বিএনপি নেতারা রায়কে ঘিরে যেভাবে আগাম মন্তব্য করছেন, হুংকার দিচ্ছেন, তাতে মনে হচ্ছে, রায় কী হবে তা তারা জেনেই গেছেন।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে কোনো লাভ নেই। এই হুমকি সরাসরি আদালতের বিরুদ্ধে। এর মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছেন যে, বিএনপির হাতে দেশ যেমন নিরাপদ নয়, তেমনি দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন এমনকি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থাও নিরাপদ নয়।’

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বিচার বিভাগ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বলেই আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের অনেকে আজ কারাগারে।

বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের আগেই বিএনপি নির্বাচনে জিততে চায়। ২০১৩-১৪ সালের মত নির্বাচনের নামে বিএনপি যদি জ্বালাও-পোড়াও করতে চায় তাহলে জনগণ তাদের প্রতিহত করবে।

আওয়ামী লীগে কোনো অনুপ্রবেশকারী নেই জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দল ও দেশের কাছে যে ব্যক্তি গ্রহণযোগ্য মনে হবে তাকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হবে। সংসদ নির্বাচনের জন্যও তিন মাস পর পর জরিপ হচ্ছে। যে ব্যক্তি জরিপে এগিয়ে থাকবেন দল থেকে তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব, তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল আলম সমরসহ সড়ক ও জনপদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারকাজ শেষ হয়েছে। আদালত আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন ঘোষণা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের জজ ড. আখতারুজ্জামান এই দিন দেন।

এ মামলায় খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

রায়ের দিন ঘোষণার পর থেকেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছেন, যার ফলে ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন।

খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না বলে গতকাল শুক্রবার সতর্ক করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলায় ‘নেতিবাচক’ কোনো রায় হলে তার পরিণতি ‘ভয়াবহ’ হবে। জবাবে আজ এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

রায়ের পর সন্ত্রাসী কার্যক্রম করলে প্রতিরোধ করবে জনগণ: কাদের
বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের পর সন্ত্রাসী কার্যক্রম করলে প্রতিরোধ করবে জনগণ এই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বিএনপি। তদের নেতাকর্মীদের বক্তব্যে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, আদালতের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোন হস্তক্ষেপ করে নি সরকার।আর কখনো করবেও না। যদি এই রায় নিয়ে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়, দেশে সন্ত্রাসের কার্যকলাপ করা হয় তাহলে জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা তা প্রতিরোধ গড়ে তুলব।

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম জনগণ মেনে নিবে না। রায়ের পর সন্ত্রাসী কার্যক্রম করলে প্রতিরোধ জনগণই করবে। আইন শৃঙ্খলাবাহিনী তাদের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করবে।

এর আগে সেতুমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছিলেন, ওবায়দুল কাদের আগে রাজনীতি করতেন, কিন্তু সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরে তিনি ইনিয়ে-বিনিয়ে মিথ্যা কথা বলতে বলতে চারণ কবি হয়ে গেছেন। জনগণ তার সব কথা এখন তামাশা মনে করে। তিনি একজন হাইব্রিড উচ্চ ফলনশীল মিথ্যাবাদী।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরাম আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের উপর হামলার প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে কারা হামলা করেছে জনগণ দেখেছে। গণমাধ্যমের কর্মীরা কি বিএনপি করে তাদের গাড়িতে হামলা কেন? ওবায়দুল কাদের অনেক কথা বলেন তিনি মিথ্যা ছাড়া সত্য কথা বলা ভুলে গেছেন এখন সত্যাটা আর খেঁজে পাননা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের তীব্র সমালোচনা করে রিজভী আরো বলেন, ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য তিনি কাদের দিনে-দুপুরে মিথ্যা কথা বলছেন। লজ্জা করে না মিথ্যা কথা বলতে? বিএনপির চেয়ারপারসনের গাড়িতে হামলা করেছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ কিন্তু বিএনপি নেতা ডা. শাহদাতকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। চট্টগ্রামের একজন ভদ্র রাজনীতিবিদ ডা. শাহাদাত। মিথ্যা কথা বলে তাকে ফাঁসিয়ে ওবায়দুল কাদের ফাদার অব হিউমিনিটি হওয়ার চেষ্টা করছেন।’

তিনি বলেন, ‘মিথ্যা কথা বলার একটি বড় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে আওয়ামী লীগ। যারা মিথ্যা কথা বলতে পছন্দ করেন তারাই এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন। আর সত্য গণতন্ত্রকামীদের দল হচ্ছে বিএনপি।’

আওয়ামী লীগ নেতাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘প্রস্তুত হোন সকল অপকর্ম আর গুণ্ডামির জবাব আপনাদেরকে দিতেই হবে। তখন আপনাদের র্যা ব-পুলিশ থাকবে না। সকল অপকর্মের জবাব আপনাদের কড়ায় গোন্ডায় দিতে হবে।’

বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরামের সভাপতি মো: সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন জীবন, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমত উল্লাহ, ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট, জিনাপের সভাপতি মিয়া মো. আনোয়ার, শাহবাগ থানা কৃষক দলের সভাপতি এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট