এবার বনানী থেকে শিক্ষা কর্মকর্তা নিখোঁজ

প্রকাশিত: ২:৪১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০১৮

এবার বনানী থেকে শিক্ষা কর্মকর্তা নিখোঁজ

রাজধানীর বনানী থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব নাসির উদ্দিন (৫৫) নিখোঁজ হয়েছেন। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চমান সহকারী হিসেবে কর্মরত।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে বনানী এলাকা থেকে তিনি নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় নিখোঁজের আত্মীয় আবদুল মান্নান খান বাদী হয়ে বনানী থানায় একটি জিডি করেছেন।

এতে অভিযোগ করা হয়, নাসির উদ্দিন কনকর্ড লেক সিটির বৈকালী ভবনের ৬/এসবি-১/৩ ফ্লাটে বসবাস করতেন। সকালে বাসা থেকে বের হন। দুপুরে তার স্ত্রী নিশাত জাহানের সাথে মোবাইলে কথা হয়। বিকাল তিনটা থেকে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজের এক আত্মীয় অভিযোগ করেন, কনকর্ড লেক সিটির কামরুজ্জামান মাহবুব নামে এক ব্যক্তি তাকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছিলেন।

বনানী থানার ওসি ফরমান আলী জানান, নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

নিখোঁজ বিশ্বজিৎ দে জয় হোটেল থেকে উদ্ধার
নিখোঁজ হওয়ার এক দিনপরই উদ্ধার হল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দে জয়। রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় একটি হোটেল থেকে উদ্ধার করেছে তার পরিবার। রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মঈনুল ইসলাম ও নিখোঁজ কর্মকর্তার ভগ্নিপতি জয়ন্ত কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে সাড়ে ৪টায় রাজধানীর একটি হোটেল থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে হোটেলটির নাম উল্লেখ বলতে রাজি হননি কেউ।

নিখোঁজ কর্মকর্তার ভগ্নিপতি জয়ন্ত কুমার দেব বলেন, রাজধানীর একটি হোটেল থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। সে নববর্ষ উদযাপনের জন্য সেখানে গিয়েছিলেন। এর আগে জয়ন্ত কুমার দেব জানান, ‘বিশ্বজিৎ নিখোঁজ রয়েছে, মনে হচ্ছে তাকে দ্রুতই পাওয়া যাবে। সে পরিবারের সঙ্গে রাগ করেছে।’

এ বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মঈনুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের সূত্রে জানতে পেরেছি তাকে হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে সংবাদ মাধ্যমকে তার পরিবার দাবি করেছিল সোমবার সিদ্দেশ্বরীর বাসা থেকে বেইলি রোডের অফিসে যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় সোমবার রাতে রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিশ্বজিতের ভগ্নিপতি জয়ন্ত কুমার দেব।

রমনা থানায় করা জিডিতে জয়ন্ত কুমার উল্লেখ করেছিলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় বাড়ি থেকে অফিসের উদ্দেশে বের হওয়ার পর থেকে বিশ্বজিতের কোনো সন্ধান মেলেনি। তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি।

এর আগে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ব্র্যাক ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাইমুল ইসলাম সৈকতের সন্ধান মেলার পর চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সৈকত জানিয়েছেন, আর্থিক লেনদেন নিয়ে জটিলতায় তিনি আত্মগোপন করেছিলেন।

গত ২৬ ডিসেম্বর সকালে কর্মস্থল শ্যামলী থেকে গুলশানে যাওয়ার উদ্দেশে বের হওয়ার পর খোঁজ মিলছিল না সৈকতের। তখন মোবাইল ফোন প্রযুক্তির সাহায্যে তার সর্বশেষ অবস্থান গুলশানের নিকেতন এলাকায় বলে জানা যায়। এ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি জিডি করেন তার স্ত্রী তামান্না খান তন্বী।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি আবদুর রশিদ বলেন, চাকরির পাশাপাশি পরিচিত বিভিন্নজনকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কাজ করেন সৈকত। বিনিময়ে তিনি কমিশন পেতেন। এতে প্রতি মাসে তার লক্ষাধিক টাকা কমিশন থাকত। এভাবে তিনি তার এক বন্ধুকে ৮৮ লাখ টাকা ঋণ দেন। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে সেই বন্ধু সুদ বা আসল কিছুই পরিশোধ করছিলেন না। এতে তিনি বিপদে পড়ে যান। কারণ যার কাছ থেকে তিনি ওই টাকা নিয়ে বন্ধুকে দিয়েছিলেন, সেই ঋণদাতা সৈকতকে চাপ দিচ্ছিলেন।

একপর্যায়ে উপায় না পেয়ে তিনি আত্মগোপনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি ঘটনার দিন মোবাইল ফোন বন্ধ করে মহাখালী থেকে এনা পরিবহনের বাসে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে যান। সেখানে আড়াই হাজার টাকা ভাড়ায় একটি ঘর নিয়ে থাকতে শুরু করেন। পাশাপাশি চাকরিও খুঁজছিলেন তিনি। এসব তথ্য উল্লেখ করে তিনি সোমবার ঢাকার আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এর আগে রবিবার বিকেলে তাকে হাটহাজারী থেকে ঢাকায় নিয়ে আসে পুলিশ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট