শেখঘাটের শ্যালক হন্তারক দুলাভাইয়ের আদালতে স্বীকারোক্তি

প্রকাশিত: ৩:১০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৭

শেখঘাটের শ্যালক হন্তারক দুলাভাইয়ের আদালতে স্বীকারোক্তি

নগরীর শেখঘাটে শ্যালক আল-আমিন হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে আটক দুলাভাই ফয়সল আহমদ। সোমবার ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট(আমলী-৩) মো: মামুনুর রশীদ সিদ্দিকীর আদালতে সে এ বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়।

বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে জবানবন্দী গ্রহণ শুরু হয়। প্রায় দেড় ঘন্টা তার জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দী রেকর্ড করার পর আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
কোতয়ালী থানার ওসি গৌছুল হোসেন ও কোর্ট লকাপের ইনচার্জ এএসআই শফিকুল আলম জবানবন্দী রেকর্ড ও আসামীকে কারাগারে প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে, শহরতলীর খাদিমপাড়া চা বাগান থেকে উদ্ধার করা মাদ্রাসা ছাত্র আল আমিন (১৭)-এর লাশের ময়না তদন্ত গতকাল সোমবার দুপুরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে সম্পন্ন। এরপর লাশ তার আত্মীয় স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রী আয়েশার সাথে মনোমালিন্য ছিল ফয়সল আহমদের। গত কিছুদিন ধরে আয়েশা বাবার বাড়িতেই থাকছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ফয়সল ওই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটান বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার নগরীর একটি মাদরাসার ছাত্র আল আমিনকে (১৬) অপহরণ করে শহরতলির খাদিমপাড়ায় একটি চা বাগানে নিয়ে হত্যা করেন ফয়সল আহমদ (২৭)। আল আমিন নগরীর শেখঘাট ভাঙ্গাটিকরপাড়ার ৩নং বাসার নুরুল ইসলাম টুটুলের পুত্র। পরদিন রোববার বিকেলে পুলিশ আল আমিনের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় দক্ষিণ সুরমা মোগলাবাজার থানার সিলাম টিকরপাড়ার মৃত লাল মিয়ার পুত্র ফয়সল আহমদকে।
গত শনিবার ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কিছুই না জানার ভান করে শ্বশুর বাড়িতে আসে ফয়সল। এ সময় বাড়ির লোকজন তার কাছে আল-আমিনের কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন জানি না। তার কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহ হলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদে আল-আমিনকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেনি ফয়সল। রোববার দুপুরে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সল জানান, আল আমিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে খাদিমপাড়া চা বাগানের ভেতরে রেখে এসেছে। পরে পুলিশ তাকে নিয়ে চা বাগানের পথে রওয়ানা দেয়। কিন্তু বাগানে যাওয়ার আগেই ফয়সল পুলিশের কাছে স্বীকার করে আল আমিনকে সে হাত-পা বেঁধে গলা টিপে হত্যা করে মরদেহ বাগানে ফেলে রেখেছে।

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট