রোহিঙ্গা নারীদের বিয়ে না করতে প্রজ্ঞাপন জারি

প্রকাশিত: ২:২৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০১৭

রোহিঙ্গা নারীদের বিয়ে না করতে প্রজ্ঞাপন জারি

মায়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহীনির নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে না জড়ানোর জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়।

বুধবার এ প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে তারা।

রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের একাধিক এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা ৭-এর সিনিয়র সহকারী সচিব জি এম নাজমুছ শাহাদাৎ স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশি ছেলেদের সঙ্গে মায়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা মেয়েদের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কতিপয় নিকাহ রেজিস্ট্রার এই অপতৎপরতায় লিপ্ত। এ কারণে বিশেষ এলাকা- কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম জেলায় বিয়ে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বর-কনে উভয়ে বাংলাদেশি নাগরিক কি না তা নিশ্চিত হতে হবে। বর-কনের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব নিকাহ রেজিস্ট্রারকে নির্দেশনা প্রদান করা হলো।’

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, এ বিষয়ে গাফিলতি দেখা গেলে দায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট জেলার রেজিস্ট্রারদের বিষয়টি তদারকির জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।

এর আগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন না। যদি কোনো কাজি রোহিঙ্গাদের বিবাহ নিবন্ধন করেন, তাহলে যাচায় বাচাই করে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনায় জেলা প্রশাসকেরা কক্সবাজার এলাকায় বসবাসরত রোহিঙ্গারা যাতে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ না হতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, রোহিঙ্গাদের বিবাহের বিষয়ে আজই আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এই অনুযায়ী এখন থেকে যদি কোনো কাজি রোহিঙ্গাদের বিবাহ নিবন্ধন করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাত্ এ দেশে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাংলাদেশিদের বিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই নিবন্ধন হলেও সেটি অবৈধ হবে।