বঙ্গবন্ধুর সমর্থনের আন্দোলনে এম কে আনোয়ারের ভূমিকা ছিল সহনীয় : তোফায়েল

রাজনীতি

আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আমরা যখন ছাত্র আন্দোলন করি তখন তিনি (এম কে আনোয়ার) জেলা প্রশাসক ছিলেন, বঙ্গবন্ধুর সমর্থনে যে ছাত্র আন্দোলন সেই আন্দোলনে তিনি সহনীয় ভূমিকা পালন করেন।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এম কে আনোয়ারের তৃতীয় জানাজা শেষে স্মতিচারণকালে তিনি একথা বলেন।

এসময় জানাজায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ প্রমুখ।

বিরোধী দলে অবস্থানকালেও তার সাথে আমাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল জানিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতার মৃত্যুঁতে শোক প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর এই সদস্য।

জানাজা শেষে এম কে আনোয়ারের মরদেহ বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। বুধবার কুমিল্লার তিতাসে বাদ জোহর চতুর্থ জানাজা এবং হোমনায় বাদ আসর পঞ্চম জানাজা শেষে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হবে।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই এম কে আনোয়ারের বাসায় মরহুমের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এলিফ্যন্ট রোডের বাসভবনে যান। প্রবীণ এই নেতার মৃত্যুতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

সোমবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। বেশ কিছুদিন যাবৎ এমকে আনোয়ার বিভিন্ন রোগসহ বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।

১৯৩৩ সালের ১ জানুয়ারি কুমিল্লার হোমনায় জন্মগ্রহণ করেন এম কে আনোয়ার। তিনি পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য এবং দুইবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে তিন দশকেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন। চাকরি জীবন থেকে অবসর নিয়ে নব্বইয়ের দশকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যুক্ত হন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৩ সালে সিএসপি কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন এম কে আনোয়ার। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপালন করেন তিনি। এম কে আনোয়ার ১৯৯০ সালে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ কর্মকর্তা কেবিনেট সচিব হিসেবে অবসরে যান । চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর ১৯৯১ সালে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি।

Leave a Reply