খালেদা জিয়ার অভ্যর্থনায় জনতার ঢল

প্রকাশিত: ১১:১৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৭

খালেদা জিয়ার অভ্যর্থনায় জনতার ঢল

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল বুধবার বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে অ্যামিরাটস এয়ার লাইন্সের একটি ফাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ভিআইপি লাউঞ্জে বিএনপি চেয়ারপারসনকে অভ্যর্থনা জানান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা। বেগম খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ আশপাশের জেলা থেকে আগত লাখ লাখ নেতাকর্মী বেগম খালেদা জিয়াকে বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। বেগম খালেদা জিয়ার আগমনকে কেন্দ্র করে গতকাল দুপুর থেকেই নেতাকর্মীরা বিমানবন্দর সড়কের দুপাশে অবস্থান নেয়। বিকেল ৪টার পর গোটা বিমানবন্দর এলাকাসহ আশপাশের এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে। এর সঙ্গে যোগ দেয় সাধারণ জনতা ও মহিলারাও। এর আগে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটে লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে রওনা দেন বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ হাজারো নেতাকর্মী তাঁকে বিদায় জানান। এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন বেগম খালেদা জিয়া। চোখ ও হাঁটুর চিকিৎসা নিতে গত ১৫ জুলাই লন্ডন যান বেগম খালেদা জিয়া। বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় ছিলেন তিনি। লন্ডনে বড় ছেলের পরিবার অর্থাৎ তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানকে : নিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপন করেন বেগম খালেদা জিয়া। গত ৮ সেপ্টেম্বর পূর্ব লন্ডনের মুরফিল্ড হাসপাতালে তাঁর ডান চোখের অস্ত্রোপচার করা হয়। হাঁটুর আর্থারাইটিসের চিকিৎসাও করিয়েছেন তিনি। লন্ডন থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে ভিআইপি লাউঞ্জে পুলিশ সিনিয়র নেতাদের প্রবেশ করতে না দেয়ায় তারা বিমানবন্দর মসজিদের কাছে সড়কের এক পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ান এবং বেগম খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়ি এলে ফুল দিয়ে নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানান স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ-আল নোমান, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল মান্নান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, বরকত উল্লাহ বুলু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, গিয়াস কাদের চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, রুহুল আলম চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, আবদুস সালাম, জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা শরীফুল আলম, আবদুল আউয়াল খান, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, আব্দুল হাই, আফরোজা খান রিতা, কামরুজ্জামান রতন, এস এ কবির জিন্নাহ, আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, শেখ রবিউল আলম রবি, সাইফুল আলম নীরব, খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক, অধ্য বাহাউদ্দিন বাহার, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করিম বাদরু, নুরুল ইসলাম নয়ন, মাহবুবুল হাসান পিংকু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, শাহাদত চৌধুরী, আশরাফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, হেলাল খান, ডা. মাজহারুল আলম, হাসান মামুন, শায়রুল কবির খান, শাহরিয়ার ইসলাম, শামসুদ্দিন দিদার, মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, সিনিয়র সহসভাপতি বজলুল বাছিত আঞ্জু, সাংগঠনিক সম্পাদক আকতার হোসেন, দেিণর সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাসার প্রমুখ। এছাড়া রাজশাহীর মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, ঢাকা জেলার সভাপতি ডা. দেওয়ান সালাহউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, সাবেক এমপি গাজীপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান উদ্দিন সরকার, সিলেটের সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিম, আরাফাত রহমান কোকো যুব ও ক্রীড়া সংসদের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন লাবু, সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন তালুকদার, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি শাহরিয়া ইসলাম শায়লা, গাজীপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন, শাখাওয়াৎ হোসেন সবুজ, সুরুজ আহমেদ তাদের সমর্থকদের নিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়ান। তাদের হাতের ব্যানারে বেগম খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ অভিহিত করা হয়। বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরাও অভ্যর্থনা জানান। : এ সময় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ ও মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, তাদের নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়াতে পুলিশ বাধার সৃষ্টি করেছে। আমাদের নেত্রী দেশে ফিরবেন বলে দলের নেতাকর্মীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছে। অথচ আপনারা দেখছেন পুলিশ কতভাবে তাদের বাধা দিচ্ছে। বিমানবন্দর সড়কে গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, যাতে লোক সমাগম না হয়। তারপরও ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে জনগণ দেশনেত্রীর আগমনে শুভেচ্ছা জানাতে প্রস্তুত। মওদুদ আহমদ বলেন, আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে সরকার রাজনৈতিক মনোভাবে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। গ্রেফতারি পরোয়ানাকে তিনি ভয় পান না। আমাদের নেত্রী আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তিনি আদালতে গিয়ে হাজিরা দিয়ে ওইসব মামলায় জামিন নেবেন। : জনতার ঢল : গতকাল বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে এমিরেটসের একটি ফাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি। বেগম খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছছা জানাতে বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। তাকে এক নজর দেখতে রাজধানী ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। বিমানবন্দর এলাকা থেকে শুরু করে গুলশানে বেগম জিয়ার বাসভবন যাওয়ার পথে এলাকাগুলোর রাস্তার দুধারে হাজার হাজার দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও জনতা তাকে হাত নেড়ে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। : প্রিয় নেত্রীকে শুভেচ্ছা বার্তায় দলের নেতাকর্মীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের লেখাসমন্বিত ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ড শোভা পায়। ‘বেগম খালেদা জিয়ার আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘খালেদা জিয়ার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘খালেদা জিয়া এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’Ñ এ ধরনের বিভিন্ন সেøাগানে সেøাগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বেগম খালেদা জিয়া বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর পুরো রাজপথে সৃষ্টি হয় জনস্রোত। নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন বেগম খালেদা জিয়া। গাড়ির ভেতরে তাঁকে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে দেখা যায়। বেগম খালেদা জিয়া বিমানবন্দরে নামার পর গাড়িতে করে সরাসরি গুলশানে তাঁর বাসার উদ্দেশে রওনা হন। গুলশানের বাসায় পৌঁছাতে তার আড়াই ঘন্টার বেশি সময় লাগে। রাত ঠিক ৮টায় তিনি বাসায় পৌঁছান। এ সময় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাজাহান ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলীয় নেতাকর্মীদের বিদায় জানান। : বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার : এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে পুলিশ। বিমানবন্দরের ভেতরে আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য ছিল, বাইরেও মোতায়েন ছিল অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য। বিমানবন্দরে সামনে দুটি জলকামান, প্রিজন ভ্যানও ছিল। এছাড়া বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে ও মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বেগম খালেদা জিয়া বিমানবন্দরে নামার আগে পুলিশ নেতাকর্মীদের সেখানে প্রবেশে বাধা দেয়। এ সময় মৃদু ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। তবে খালেদা জিয়া বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নমনীয় দেখা যায়। : নেতাকর্মীদের বাধা : এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে দুপুরের পর থেকে রাজধানী ও আশপাশ এলাকা থেকে বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান নেন দলটির নেতাকর্মীরা। আসার পথে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। অনেক জায়গায় গণপরিবহনও বন্ধ করে দেয়া হয়। পুলিশের বাধা এড়াতে নানা কৌশলে তারা বিমানবন্দরে আসেন। ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পথচারীদের মতো বিমানবন্দরে আসেন। পুরনো ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের আশপাশের নেতাকর্মীরা কমলাপুর থেকে ট্রেনে করে বিমানবন্দর এলাকায় পৌঁছেন। সাড়ে ৪টার দিকে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নানা রঙের ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে রাস্তার পাশে মানবপ্রাচীর তৈরি করেন তারা। বিএনপি চেয়ারপারসনকে এক নজর দেখতে সাধারণ জনতাও অংশ নেন বিএনপির এ অভ্যর্থনায়। খালেদা জিয়ার গাড়িবহর বিমানবন্দর মোড় ঘুরার পরই নেতাকর্মীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে রাস্তায় নেমে পড়ে। বেগম খালেদা জিয়ার বহনকারী গাড়িটি নেতাকর্মীরা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেন। গাড়িবহরের সামনে কয়েক শ মোটরসাইকেল নিয়ে স্কট দেন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা। গাড়িবহরের সামনে-পেছনে জনতার ঢল নামে। গাড়ির ভেতর থেকে খালেদা জিয়া উপস্থিত নেতাকর্মীদের হাত নেড়ে অভিনন্দন জানান। নেতাকর্মীদের বাঁধভাঙা উপস্থিতিতে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। খিলেেতর কাছে পৌঁছার পর গাড়ির ভেতরে তাকে চোখ মুছতে দেখা যায়। নেতাকর্মীদের হাতে ব্যানারে খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ লেখাসহ নানা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি খালেদা গর্ব মোদের আলাদা’ এরকম নানা সে­াগান দেন নেতাকর্মীরা। ‘দশ টাকা চাল দে নইলে গদি ছেড়ে দে’ সরকারবিরোধী এরকম বিভিন্ন সে­াগানও দেয়া হয়। খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করতে পূর্বেই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কয়েক হাজার নেতাকর্মী নিয়ে খিলেেত অবস্থান নেন। তার পাশেই অবস্থান নেন মহিলা দলের নেতাকর্মীরা। বেগম খালেদা জিয়াকে তারা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদীসহ রাজধানীর আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরা চেয়ারপারসনকে শুভেচ্ছা জানাতে বিমানবন্দরে পৌঁছেন। গাজীপুর থেকে সোহরাব হোসেন ট্রাকে করে কয়েক হাজার নেতাকর্মী নিয়ে চেয়ারপারসনকে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন। : ঢাকা মহানগরের শোডাউন : বিমানবন্দরে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে ঢাকা মহানগর বিএনপি। ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতাদের মধ্যে হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, কাজী আবুল বাসার, মুন্সী বজলুল বাসিত আঞ্জু, ইউনুস মৃধা, আলহাজ এ.কে.এম মোয়াজ্জেম হোসেন, আহসান উল্লাহ্ হাসান, চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন রতন, রবিউল আউয়াল, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, হাবিবুর রশিদ হাবিব, চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, আ.ন.ম সাইফুল ইসলাম, এ.জি.এম সামসুল হক, এম কফিল উদ্দিন, এডভোকেট খন্দকার জিল্লুর রহমান, আলী রেজাউল রহমান রিপন, সোহেল রহমান, চেয়ারম্যান বেল্লাল হোসেন, মো. ফরহাদ হোসেন, মো. ইকবাল হোসেন, হাজী দুলাল, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ। : যুবদলের শোডাউন : জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পদক নূরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম মিল্টন, সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা কামাল রিয়াদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল, যুবদল দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, সিনিয়র সহসভাপতি শরিফ হোসেন। : ছাত্রদলের শোডাউন : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, সিনিয়র সহসভাপতি মানুর রশিদ মামুন, সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মেহবুব মাছুম শান্ত, মনিরুল ইসলাম মনির, দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, মাহমুদ হাসান রাজু প্রমুখ। : জিয়া পরিষদের শোডাউন : বিমানবন্দরে শুভেচ্ছা জানাতে জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান কবীর মুরাদ, মহাসচিব প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আবদুল্লাাহিল মাসুদসহ নেতাকর্মীবৃন্দ। : ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের শুভেচ্ছা : বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, বিএফইউজে সভাপতি শওকত মাহমুদ, ডিইউজে সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, বিএফইউজে মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডাক্তার সাখাওয়াত হাসান জীবন, সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান জেলা বিএনপির উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য এডভোকেট মাওলানা রশীদ আহমদ, ইঞ্জিনিয়ার আ.হ.ম. দেওয়ান মানিক, রশীদ আহমদ প্রমুখ বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। : আমি ভালো আছি, দোয়া করবেন : খালেদা জিয়া : বাসায় ফিরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন তিনি ভালো আছেন, সুস্থ আছেন। একইসঙ্গে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া বাসায় ফিরলে তাকে স্বাগত জানান বেগম খালেদা জিয়ার মামী কানিজ ফাতেমা, উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, বিশেষ সহকারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান। : তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আটটার পর বাসায় পৌঁছান। পরে তিনি তার সুস্থতার কথা জানিয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর লাখ লাখ সাধারণ মানুষ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে গুলশানের বাসা পর্যন্ত রাস্তায় জড়ো হওয়ায় দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের আজকের এই উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করলো বেগম খালেদা জিয়া দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় নেত্রী। : স্বেচ্ছাসেবক দলের শো ডাউন : স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সাদরাজ্জামান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম সাইদুল, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির, ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল দক্ষিণের সভাপতি এসএম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মোঃ রফিক হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোর্শেদ পাপ্পা সিকদার, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাদের জিলন। এছাড়াও নাগরিক দলের সভাপতি সৈয়দ মো. ওমর ফারুকের নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা বিএনপি চেয়ারপারসনকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে মিছিল করেছে। : রাজশাহী মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শুভেচ্ছা : রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আমিনুল ইসলাম, রাজশাহী জেলা যুবদলের সভাপতি মোজ্জাদেছ জামানী সুমন, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক সমাপ্ত, রাজশাহী মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, তানোর পৌর মেয়র মিজানুর রহমান মিজানসহ রাজশাহী মহানগর মহিলা দলের নেতাকর্মীরা বেগম খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান। : আজ আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ বখশীবাজার আলীয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালতে যাবেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। : সড়কের বাতি জ্বলেনি, ফোনের আলোতে প্রতিবাদ : বিমানবন্দর সড়কের বাতি জ্বলেনি সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত। এরপর আলো জ্বললেও মিনিট পাঁচেক পর ফের অন্ধকার। এ সময় চারদিকে একসঙ্গে ঝিলিক দেয় ফোনের লাইট। এটাই যেন প্রতিবাদ। গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বরণ করতে গিয়ে এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন নেতা-কর্মীরা। বিকেলে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন বেগম খালেদা জিয়া। তাকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। কিন্তু সন্ধ্যা হলেও বিমানবন্দর সড়কের বাতিগুলো ছিল অচল। সাড়ে ছয়টায় হঠাৎ চারদিকের সড়কের বাতি সচল হয়ে জ্বলে ওঠে। কিন্তু বেশিণ স্থায়ী হয়নি তা। পাঁচ মিনিট পর ফের অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় সড়ক। এ সময় বেগম খালেদা জিয়া বিমানবন্দর থেকে ফিরছিলেন। অন্ধকারে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নেতাকর্মীরা মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান। এটাই তাদের প্রতিবাদ বলে জানান অনেকে। পাশাপাশি সবার মুখে ছিল নানা সেøাগান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী বলেন, ‘সরকার দেশনেত্রীর ফেরার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতেই রাস্তার বাতি বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের নেতাকর্মীরা ও সাধারণ জনগণ মোবাইল ফোনের আলো দিয়ে অন্ধকার পথকে আলোকিত করেছে। প্রতিবাদ জানিয়েছে।’ এভাবেই বিএনপি চেয়ারপারসনকে তার গুলশানের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে গতকাল বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে এমিরেটসের একটি ফাইটে লন্ডন থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান বেগম খালেদা জিয়া। চিকিৎসার জন্য লন্ডনে তিন মাসের বেশি সময় অবস্থান করার পর দেশে ফিরলেন তিনি।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট